খবর

৫০ লক্ষ বাড়ি মহিলাদের নামে, ‘কাটমানি বন্ধ’ দাবি মোদির

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় পশ্চিমবঙ্গে ৫০ লক্ষের বেশি নতুন বাড়ির মালিকানা মহিলাদের হাতে দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
  • বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর বিধাননগরের বইমেলা প্রাঙ্গণে রাজ্য সরকারের ‘অন্নপূর্ণা দিবস’ অনুষ্ঠানে তিনি জানান, বাড়ি তৈরির জন্য উপভোক্তাদের তালিকা প্রস্তুত হয়েছে।
  • একই অনুষ্ঠানে দূরসংযোগে বক্তব্য রেখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দাবি, অন্নপূর্ণা যোজনার মাসিক তিন হাজার টাকা সরাসরি মহিলাদের ব্যাঙ্কে পৌঁছচ্ছে; বাংলায় এখন আর ‘কাটমানি’ চলে…

বিস্তারিত প্রতিবেদন

প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় পশ্চিমবঙ্গে ৫০ লক্ষের বেশি নতুন বাড়ির মালিকানা মহিলাদের হাতে দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর বিধাননগরের বইমেলা প্রাঙ্গণে রাজ্য সরকারের ‘অন্নপূর্ণা দিবস’ অনুষ্ঠানে তিনি জানান, বাড়ি তৈরির জন্য উপভোক্তাদের তালিকা প্রস্তুত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট চুক্তিও হবে মহিলাদের নামেই। একই অনুষ্ঠানে দূরসংযোগে বক্তব্য রেখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দাবি, অন্নপূর্ণা যোজনার মাসিক তিন হাজার টাকা সরাসরি মহিলাদের ব্যাঙ্কে পৌঁছচ্ছে; বাংলায় এখন আর ‘কাটমানি’ চলে না।

মোদির জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে নারী ক্ষমতায়নের সঙ্গে আবাসন, শিক্ষা ও নিরাপত্তার প্রসঙ্গ জুড়েছে রাজ্য সরকার। শুভেন্দু জানিয়েছেন, প্রতি বছর ১৭ সেপ্টেম্বর অন্নপূর্ণা দিবস পালন করা হবে। তাঁর বক্তব্য, অন্নপূর্ণা যোজনা প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া প্রতিশ্রুতি; রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর সরকার তা কার্যকর করেছে। অনুষ্ঠানের উদ্বোধনে ছিলেন পৌলমী ঘটক, ইন্দু পুরী ও জ্যোতির্ময়ী শিকদারের মতো ক্রীড়াব্যক্তিত্ব।

আবাসন প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, নতুন বাড়িগুলিতে মহিলারাই নথিভুক্ত মালিক হবেন। ঘোষণাটির তাৎপর্য, সরকারি সহায়তায় পাওয়া আশ্রয়ের পাশাপাশি পরিবারের মহিলার নামে একটি স্থাবর সম্পদ তৈরি হবে। তবে তালিকা প্রস্তুত হওয়া এবং বাড়ি নির্মাণ সম্পূর্ণ হওয়া পৃথক পর্যায়। ঘোষিত সব বাড়ি ইতিমধ্যেই তৈরি বা হস্তান্তর হয়ে গিয়েছে, এমন কথা বলা হয়নি। প্রধানমন্ত্রীও জানান, পাকা বাড়ি দেওয়ার জন্য রাজ্যে ৫০ লক্ষের বেশি পরিবারকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চতুর্থ কিস্তিতে প্রায় দেড় কোটি মহিলার ব্যাঙ্ক হিসাবে তিন হাজার টাকা করে পৌঁছচ্ছে। তাঁর আশ্বাস, যোগ্য একজন মহিলাও যাতে এই প্রকল্প থেকে বাদ না পড়েন, রাজ্য সরকার সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে। সরাসরি টাকা পাঠানোর ব্যবস্থাকে প্রশাসনিক পরিবর্তনের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরে তিনি মধ্যস্বত্বভোগী ও কাটমানির প্রসঙ্গ টানেন।

মোদির বক্তব্য, সংসারের দৈনন্দিন খরচ কিংবা হঠাৎ প্রয়োজনীয় ব্যয় নিয়ে দুশ্চিন্তা কমলে মহিলাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ে। সেই আর্থিক নিশ্চয়তা দেওয়াই প্রকল্পের উদ্দেশ্য। বিধানসভা নির্বাচনে সরকার পরিবর্তনের পিছনে মহিলাদের বড় ভূমিকা ছিল বলেও তিনি মন্তব্য করেন। নতুন সরকারের কাজের নীতি বোঝাতে বাংলায় ‘কথা কম, কাজ বেশি’ কথাটি ব্যবহার করেন প্রধানমন্ত্রী।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, সেপ্টেম্বরের টাকা অধিকাংশ উপভোক্তার কাছে পৌঁছে গিয়েছে; বাকি যোগ্য মহিলাদের ক্ষেত্রেও দিনের মধ্যে টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া চলবে। অর্থাৎ অনুষ্ঠানে অর্থপ্রদানের যে হিসাব তুলে ধরা হয়েছে, সেটি চলমান প্রক্রিয়ার হিসাব। প্রত্যেক মাসে তিন হাজার টাকা পাওয়া গেলে একজন উপভোক্তার বার্ষিক সহায়তা দাঁড়ায় ৩৬ হাজার টাকা। সংসারের খরচ সামলানোর ক্ষেত্রে এই অঙ্কই প্রকল্পের প্রত্যক্ষ আর্থিক গুরুত্ব।

দেড় কোটি মহিলাকে মাসে তিন হাজার টাকা দিলে মাসিক ব্যয় হয় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা। একই সংখ্যক উপভোক্তাকে বারো মাস অর্থ দেওয়া হলে বছরে প্রয়োজন ৫৪ হাজার কোটি টাকা। এটি ঘোষিত অঙ্কের ভিত্তিতে হিসাব; সরকারের প্রকাশিত প্রকৃত বার্ষিক ব্যয়ের পরিসংখ্যান নয়। উপভোক্তার সংখ্যা বাড়লে প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণও সেই অনুপাতে বাড়বে।

শুভেন্দু অবশ্য দাবি করেন, তাঁর সরকারের লক্ষ্য কেবল ভাতা দেওয়া নয়, প্রশাসনিক ও সামাজিক সংস্কারও। সেই সূত্রে তিনি কিশোরীদের শিক্ষা এবং অল্পবয়সে বিয়ে ঠেকানোর কথা বলেন। তাঁর দাবি, গত ছয় মাসে রাজ্যে বাল্যবিবাহ ও কিশোরী মাতৃত্বের প্রায় ৬০ হাজার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। মুর্শিদাবাদ ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার পরিস্থিতির উল্লেখ করে তিনি জানান, আঠারো বছরের কম বয়সে মেয়েদের বিয়েতে সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মেয়েদের পড়াশোনায় সহায়তার কয়েকটি অঙ্কও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ১৪ অগস্ট কন্যারত্ন দিবসে ২০ লক্ষ ১৩ হাজার ছাত্রীকে এক হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে; ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে সেই অঙ্ক দ্বিগুণ হবে। উচ্চমাধ্যমিকের পরে স্নাতক স্তরে পড়াশোনা করা মেয়েদের তিন বছরে মোট ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা জানান তিনি। তিন বছরের ভাগ যথাক্রমে ১৭ হাজার, ১৭ হাজার ও ১৬ হাজার টাকা।

নারীনির্যাতনের অভিযোগ তদন্তে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে কমিশন গঠনের কথাও জানান শুভেন্দু। তাঁর দাবি, সরকারের প্রথম চার মাসের মধ্যেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। নির্যাতনে জড়িতদের ছাড় দেওয়া হবে না বলে আশ্বাস দেন তিনি। পাশাপাশি মাদকমুক্ত বাংলা গড়তে মহিলাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নিরাপত্তা এবং নেশার বিরুদ্ধে সামাজিক অংশগ্রহণকে একই সঙ্গে গুরুত্ব দেওয়ার কথা উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে।

অর্থসাহায্যের ব্যবহার নিয়ে অনুষ্ঠানে নিজেদের অভিজ্ঞতা জানান কয়েকজন উপভোক্তা। ঝাড়গ্রামের শবর সম্প্রদায়ের দেবী শবর জানান, তাঁদের মুদিখানার দোকান বড় করতে সাহায্য হয়েছে। স্নাতকোত্তর ও শিক্ষকতার প্রশিক্ষণ শেষ করে তিনি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানার সুদীপ্তা বারিক জানান, প্রবীণ শ্বশুরশাশুড়ির ওষুধ কিনতে এই টাকা কাজে লাগছে।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় মাতৃবন্দনা, উজ্জ্বলা, মুদ্রা, জল জীবন মিশন ও আয়ুষ্মান ভারতের মতো কেন্দ্রীয় প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করেন। মেয়েদের জন্য সৈনিক বিদ্যালয়ের দরজা খোলার প্রসঙ্গ তোলেন। পূর্ববর্তী সরকারের আমলে বাংলায় কেন্দ্রীয় প্রকল্পের কাজে দীর্ঘসূত্রতা ছিল বলে অভিযোগ করে তাঁর দাবি, সরকার বদলের পরে আটকে থাকা কাজে গতি এসেছে। এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে মহিলাদের আর্থিক সহায়তাকে কেন্দ্র ও রাজ্যের বৃহত্তর উন্নয়ন কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত করেন মোদি।

তবে সরাসরি ব্যাঙ্কে টাকা জমা পড়া এবং সরকারি ব্যবস্থার সর্বত্র দুর্নীতি দূর হওয়া এক বিষয় নয়। কাটমানি বন্ধের বক্তব্যটি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক দাবি। একইভাবে মহিলাদের নামে বাড়ির ঘোষণা কত দূর বাস্তবায়িত হচ্ছে, তা বোঝার জন্য দেখতে হবে অনুমোদন, নির্মাণ ও মালিকানার নথি হস্তান্তরের অগ্রগতি। বৃহস্পতিবারের অনুষ্ঠানে মাসিক সহায়তার পাশাপাশি সম্পদের মালিকানা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিই সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘোষণা হয়ে উঠল।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles