রাশিয়া এবং তার ‘সহযোগীরা’ বিশ্বের জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তায় অবদান রাখতে প্রস্তুত বলে জানালেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তাঁর বক্তব্য, আর্কটিক পরিবহণ করিডর এবং উত্তর-দক্ষিণ পরিবহণ করিডরের মতো নির্ভরযোগ্য পণ্য পরিবহণের পথও গড়ে তোলা হচ্ছে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শুরু হয়েছে।

রুশ নেতার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ব্রিকসের বাণিজ্য সম্মেলনে বলেন, ‘‘সমুদ্রপথ সুরক্ষিত থাকলে, সরবরাহের পথ খোলা থাকলে এবং নাবিকেরা নিরাপদে থাকলেই বিশ্ববাণিজ্য এগিয়ে যেতে পারে। ভারত নৌচলাচলের স্বাধীনতা এবং নাবিকদের নিরাপত্তার দৃঢ় সমর্থক।’’

বৈঠকে পুতিনকে মোদী বলেন, সংঘাত নিরসনে এগোনোর পথ হল ‘‘আলোচনা ও কূটনীতি’’। শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় সাহায্য করতে ভারত প্রস্তুত বলেও জানান তিনি। দু’সপ্তাহও হয়নি, বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে মোদী তাঁকে ‘‘অন্তহীন যুদ্ধ’’ থেকে ‘‘যুদ্ধের অবসান’’-এর দিকে এগোনোর আহ্বান জানিয়েছিলেন।

ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, দুই নেতা ‘‘পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়গুলি নিয়ে মতবিনিময় করেছেন। এর মধ্যে ছিল পশ্চিম এশিয়া ও কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলের সংঘাতও, যা সমুদ্রবাণিজ্য এবং ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করেছে।’’

জুলাই থেকে কৃষ্ণসাগরে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলায় অন্তত পাঁচ জন ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন।

বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ‘‘প্রধানমন্ত্রী ফের জোর দিয়ে বলেছেন, সংঘাত নিরসনে আলোচনা ও কূটনীতিই এগোনোর পথ। শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় সাহায্য করতে ভারত প্রস্তুত।’’

মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, দুই নেতা রাজনীতি, অর্থনীতি, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, মহাকাশ, দক্ষ কর্মীদের চলাচল এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছেন। তবে কোনও চুক্তির নির্দিষ্ট উল্লেখ করা হয়নি।

পুতিনের পৌঁছনোর আগে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ ভারতীয় সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘‘অনেক বিষয় প্রকাশ্যে আলোচনা করা সম্ভব নয়।’’ কারণ, ‘‘কিছু বৈরী দেশ আমাদের সহযোগিতার আরও প্রসারের পথে বাধা তৈরির চেষ্টা করছে।’’

দুই নেতা রাশিয়ার আন্তর্জাতিক শিল্প প্রদর্শনী ‘ইনোপ্রম ইন্ডিয়া’ ঘুরে দেখেন এবং অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। বাণিজ্য ও শিল্পক্ষেত্রে সম্পর্ক সম্প্রসারণে এই প্রদর্শনীর গুরুত্ব তুলে ধরেন তাঁরা।

ভারতের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই দেশের ‘‘বিশেষ ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে যোগাযোগ বজায় রাখতে সম্মত হয়েছেন’’ দুই নেতা। ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও এই অংশীদারত্ব উল্লেখযোগ্য ভাবে প্রসারিত হচ্ছে এবং প্রতিকূলতা সামলে এগোনোর ক্ষমতা দেখিয়েছে বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, দুই দেশের ২৪তম বার্ষিক শীর্ষ বৈঠকে যোগ দিতে মোদীকে রাশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন পুতিন। প্রধানমন্ত্রী সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। ‘‘দু’পক্ষের সুবিধা অনুযায়ী কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে শীর্ষ বৈঠকের দিনক্ষণ স্থির করা হবে,’’ জানিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক।

প্রায় দু’হাজার বছর আগে কবি ও দার্শনিক তিরুভাল্লুভারের লেখা ‘তিরুক্কুরাল’-এর রুশ অনুবাদ পুতিনকে উপহার দেন মোদী।