যাদবপুরে এ বার ‘ফ্রি পিওকে’, দেওয়াল-যুদ্ধে এবিভিপিকে স্বাগত এসএফআইয়ের

যা জানা জরুরি
- যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়াল ঘিরে রাজনৈতিক লড়াই নতুন মোড় নিল।
- বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির লেখা মুছে দেওয়ার পরে এ বার বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ‘ফ্রি পিওকে’, ‘অখণ্ড ভারত’ এবং ‘ফ্রি আকসাই চিন’ স্লোগান লিখল অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী…
- তবে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের এই দেওয়াললিখন মুছে দেওয়ার দাবি না তুলে এসএফআই জানিয়েছে, নিজেদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবিভিপিরও রয়েছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়াল ঘিরে রাজনৈতিক লড়াই নতুন মোড় নিল। বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির লেখা মুছে দেওয়ার পরে এ বার বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ‘ফ্রি পিওকে’, ‘অখণ্ড ভারত’ এবং ‘ফ্রি আকসাই চিন’ স্লোগান লিখল অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ বা এবিভিপি। তবে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের এই দেওয়াললিখন মুছে দেওয়ার দাবি না তুলে এসএফআই জানিয়েছে, নিজেদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবিভিপিরও রয়েছে। দেওয়াল মোছার বদলে রাজনৈতিক বিতর্ক চলুক—এমনই অবস্থান নিয়েছে বাম ছাত্র সংগঠনটি।
শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরের একাধিক দেওয়ালে এবিভিপি কর্মীদের লেখা নতুন স্লোগান দেখা যায়। কোনওটিতে পাক-অধিকৃত কাশ্মীরকে মুক্ত করার ডাক, কোথাও অখণ্ড ভারত প্রতিষ্ঠার দাবি, আবার কোথাও চিনের দখলে থাকা আকসাই চিন মুক্ত করার কথা লেখা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে আগে লেখা ‘ফ্রি প্যালেস্তাইন’ কিংবা অন্য বামপন্থী স্লোগানের পালটা হিসেবেই এই প্রচার চালানো হয়েছে বলে সংগঠনের দাবি।
এবিভিপির সংবাদমাধ্যম-প্রধান অনন্ত বারুই বলেন, যাদবপুরের দেওয়ালে ‘ফ্রি পিওকে’, ‘অখণ্ড ভারত’ ও ‘ফ্রি আকসাই চিন’ লেখা জাতীয়তাবাদের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। যে বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে আগে ‘ফ্রি প্যালেস্তাইন’ লেখা হত, সেখানে এখন ‘ফ্রি পিওকে’ লেখা হচ্ছে। তাঁর দাবি, যাদবপুরে এবিভিপির সংগঠন বিস্তৃত হচ্ছে এবং আরও বেশি জাতীয়তাবাদী ছাত্রছাত্রী তাদের সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন।
ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় এসএফআই নেতা শুভজিৎ সরকার বলেন, ‘‘ভালই হয়েছে। প্রত্যেকেরই নিজের বিশ্বাসের কথা লেখার অধিকার থাকা উচিত। এবিভিপিকে আমরা বিদ্যায়তনিক বিতর্কের পরিসরে নিয়ে আসতে পেরেছি—এটাই আমাদের নৈতিক জয়। আগামী দিনে বিতর্ক ও রাজনৈতিক লড়াই চলবে। কিন্তু দেওয়াল মুছে দেওয়া চলবে না। আমরা আমাদের দেওয়ালে লিখব, ওরা ওদের দেওয়ালে লিখবে।’’
সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়াললিখন নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, ‘দেশবিরোধী’ বলে বিবেচিত কোনও স্লোগান বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বরদাস্ত করা হবে না। সেই হুঁশিয়ারির পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চত্বরের রাজনৈতিক দেওয়াললিখন সাদা রং দিয়ে ঢেকে দেওয়ার অভিযান শুরু করে। তার প্রতিবাদে বাম ছাত্র সংগঠনগুলি ফের দেওয়াললিখন শুরু করেছিল। এ বার সেই লড়াইয়ে সরাসরি নেমে পড়ল এবিভিপিও।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য এর আগে ছাত্রছাত্রীদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও দেশের অখণ্ডতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার আবেদন জানিয়েছিলেন। দেওয়াল নষ্ট না করে সমাজমাধ্যম কিংবা অন্য মঞ্চে রাজনৈতিক বিতর্ক করার পরামর্শও দেন তিনি। কিন্তু যাদবপুরের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে দেওয়াল কেবল ইট-বালি-রঙের কাঠামো নয়; তা মতাদর্শের প্রকাশ্য মঞ্চ। ফলে প্রশাসন সাদা রং চাপালেও রাজনৈতিক বক্তব্য বেশি দিন চাপা থাকছে না। বরং বাম ও গেরুয়া—দুই শিবিরের পালটা স্লোগানে বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালই এখন নতুন রাজনৈতিক রণক্ষেত্র।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



