মহড়াতেই ফাঁস সফর!

যা জানা জরুরি
- নিজস্ব সংবাদদাতা, নয়াদিল্লি: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে বড়সড় অস্বস্তিতে রাষ্ট্রপতি ভবন।
- বিদেশি রাষ্ট্রনেতার আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার মহড়ার কথা জানাতে গিয়ে শুক্রবার প্রকাশ্যে চলে আসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রস্তুতির খবর।
- অথচ ভারত বা বাংলাদেশ—কোনও দেশই তখনও সফরটি আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা করেনি।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
নিজস্ব সংবাদদাতা, নয়াদিল্লি: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে বড়সড় অস্বস্তিতে রাষ্ট্রপতি ভবন। বিদেশি রাষ্ট্রনেতার আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার মহড়ার কথা জানাতে গিয়ে শুক্রবার প্রকাশ্যে চলে আসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রস্তুতির খবর। অথচ ভারত বা বাংলাদেশ—কোনও দেশই তখনও সফরটি আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা করেনি। ফলে বিবৃতি প্রকাশের মাত্র ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই তা প্রত্যাহার করে নিতে হয় রাষ্ট্রপতি ভবনকে।
শুক্রবার দুপুর ২টা ১৩ মিনিট নাগাদ রাষ্ট্রপতি ভবন জানায়, শনিবার রাষ্ট্রপতি ভবনের সম্মুখ প্রাঙ্গণে নিয়মিত ‘প্রহরী পরিবর্তন’ অনুষ্ঠান হবে না। কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার পূর্ণাঙ্গ মহড়া। অর্থাৎ একটি বাক্যেই কার্যত প্রকাশ্যে চলে আসে—তারিক রহমানকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি চলছে।
বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই কূটনৈতিক মহলে শুরু হয় জল্পনা। কারণ, তারিকের ভারত সফর নিয়ে দিল্লি ও ঢাকার মধ্যে আলোচনা চললেও সফরের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হওয়ার কোনও সরকারি ঘোষণা ছিল না। এরই মধ্যে দুপুর ৩টা ২৮ মিনিটে রাষ্ট্রপতি ভবন ফের একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতি প্রকাশ করে জানায়, আগের বিজ্ঞপ্তিটি প্রত্যাহার করা হচ্ছে। কেন বিবৃতি ফিরিয়ে নেওয়া হল, তার কোনও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
দুটি বিবৃতিই রাষ্ট্রপতির উপ-প্রেসসচিবের দফতর থেকে প্রকাশিত হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সফর এখনও নিশ্চিত না হওয়া সত্ত্বেও তাঁর অভ্যর্থনার কথা প্রকাশ্যে চলে আসায় বিদেশ মন্ত্রক আপত্তি জানায়। এরপরই বিবৃতিটি প্রত্যাহার করা হয়। তবে বিদেশ মন্ত্রক বা রাষ্ট্রপতি ভবন আনুষ্ঠানিক ভাবে এমন কোনও আপত্তির কথা স্বীকার করেনি। ফলে বিষয়টি প্রশাসনিক সমন্বয়ের ঘাটতি, নাকি সফরসূচি নিয়ে শেষ মুহূর্তের জটিলতা—তা এখনও স্পষ্ট নয়।
রাষ্ট্রপতি ভবনের ‘চেঞ্জ অব গার্ড’ বা প্রহরী পরিবর্তন অনুষ্ঠান একটি নিয়মিত সাপ্তাহিক আনুষ্ঠানিকতা। বিদেশি রাষ্ট্রনেতার সফরের সময় রাষ্ট্রপতি ভবনের সম্মুখ প্রাঙ্গণেই সাধারণত আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার আয়োজন করা হয়। দুই দেশের জাতীয় সঙ্গীত, সম্মানরক্ষী বাহিনীর অভিবাদন এবং রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে পরিচয়পর্ব থাকে সেই অনুষ্ঠানে। তার আগে পূর্ণাঙ্গ মহড়াও হয়। ফলে সেই মহড়ার কারণ জানাতে গিয়েই সম্ভাব্য সফরের খবর অনিচ্ছাকৃত ভাবে প্রকাশ্যে চলে এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দফতর শুক্রবার স্পষ্ট করেছে, ভারত সফর নিয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তারিক রহমানের প্রেসসচিব আবু আবদুল্লাহ এম সালেহ জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত সফর নিয়ে আলোচনা চলছে, তবে ঢাকা নয়াদিল্লির কাছ থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর এখনও প্রত্যাশা করছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেনি। ২৩ থেকে ২৫ আগস্টের মধ্যে তারিকের নয়াদিল্লি আসার সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা থাকলেও সরকারি ভাবে সফর নিশ্চিত করা হয়নি।
তারিকের সম্ভাব্য সফর ঘিরে অনিশ্চয়তার পিছনে রয়েছে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের সাম্প্রতিক টানাপড়েনও। ২০২৪ সালের গণআন্দোলনের পর ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকেই তাঁকে ফেরত চেয়ে আসছে ঢাকা। বাংলাদেশে হাসিনার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা এবং সাজা ঘোষণার পর সেই দাবি আরও জোরালো হয়েছে। ভারত জানিয়েছে, প্রত্যর্পণের অনুরোধগুলি দেশের আইন অনুযায়ী পরীক্ষা করা হচ্ছে।
এরই মধ্যে নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্য নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের বর্তমান সরকার। ঢাকার দাবি, ভারতের মাটিতে হাসিনার প্রকাশ্য বক্তব্য বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননাকর। ফলে তারিক রহমানের সম্ভাব্য প্রথম ভারত সফরের আগে দুই দেশের মধ্যে একটি অনুকূল কূটনৈতিক পরিবেশ তৈরি করা ঢাকার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি ভবনের বিবৃতি প্রকাশ এবং দ্রুত তা প্রত্যাহার সফর ঘিরে জল্পনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রথম বিবৃতিতে অন্তত এতটা স্পষ্ট হয়েছে যে প্রশাসনিক স্তরে সম্ভাব্য অভ্যর্থনার প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল। কিন্তু কূটনৈতিক সম্মতি ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেই সেই প্রস্তুতির খবর প্রকাশ্যে চলে আসায় শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে আসতে হল রাষ্ট্রপতি ভবনকে।
এখন নজর একটাই—তারিক রহমানের ভারত সফর শেষ পর্যন্ত ঘোষণা হয় কি না। আর সফর হলে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ-সহ অমীমাংসিত বিষয়গুলিতে দিল্লি ও ঢাকা কোনও সমঝোতার পথে হাঁটতে পারে কি না, সেটাই হবে বড় পরীক্ষা।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



