হাইলাইটস
- ই-২০ পেট্রোল নিয়ে সংসদে কেন্দ্রের অবস্থান স্পষ্ট করলেন নিতিন গড়করি।
- দাবি, ইথানল মিশ্রিত জ্বালানিতে ইঞ্জিনের কোনও ক্ষতি বা ত্রুটি ধরা পড়েনি।
- মাইলেজ কিছুটা কমলেও গাড়ির চলার মান বা ‘রাইড কোয়ালিটি’ উন্নত হয় বলে জানাল সরকার।
- বিভিন্ন সংস্থা ও গাড়ি নির্মাতাদের পরীক্ষার ভিত্তিতেই ই-২০ চালু করা হয়েছে বলে দাবি।
ই-২০ পেট্রোল নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্কের মধ্যেই সংসদে কেন্দ্রের অবস্থান স্পষ্ট করলেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রী নিতিন গড়করি। বহু গাড়িচালকের অভিযোগ, ই-২০ পেট্রোল ব্যবহারের ফলে জ্বালানির খরচ বেড়েছে এবং গাড়ির মাইলেজ কমেছে। সেই প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার লোকসভায় লিখিত জবাবে গড়করি জানান, ই-২০ কর্মসূচি কোনও তাড়াহুড়ো করে নেওয়া সিদ্ধান্ত নয়। দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষা, প্রযুক্তিগত মূল্যায়ন এবং বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে পরামর্শ করেই এই জ্বালানি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, গাড়ি নির্মাতা সংস্থা, যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারক, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং পরীক্ষামূলক সংস্থাগুলির সহযোগিতায় ই-২০ পেট্রোলের কার্যকারিতা যাচাই করা হয়েছে। জ্বালানি ব্যবস্থার সক্ষমতা, ইঞ্জিনের স্থায়িত্ব, গাড়ির চালনক্ষমতা, ব্যবহৃত উপাদানের সঙ্গে ইথানলের সামঞ্জস্য, দূষণ নির্গমন এবং গ্রাহকদের গ্রহণযোগ্যতা—সব দিকই খতিয়ে দেখা হয়েছে।
গড়করির বক্তব্য অনুযায়ী, অটোমোটিভ রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া (এআরএআই), সোসাইটি অব ইন্ডিয়ান অটোমোবাইল ম্যানুফ্যাকচারার্স (এসআইএএম) এবং ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন যৌথভাবে একটি সমীক্ষা চালায়। সেই সমীক্ষায় বিএস-৩, বিএস-৪ এবং বিএস-৬ মানের পেট্রোলচালিত দু’চাকা ও চারচাকা গাড়িতে ই-২০ পেট্রোলের প্রভাব বিশদে মূল্যায়ন করা হয়।
সরকারের দাবি, পরীক্ষায় দেখা গেছে যে বিএস-৬ গাড়িগুলি ই-২০ পেট্রোল ব্যবহার করেও নির্ধারিত দূষণ নিয়ন্ত্রণের মান পূরণ করছে। দীর্ঘমেয়াদি ইঞ্জিন স্থায়িত্ব পরীক্ষাতেও ই-২০ ব্যবহারের কারণে কোনও যান্ত্রিক ত্রুটি বা ইঞ্জিন বিকল হওয়ার ঘটনা সামনে আসেনি।
মন্ত্রী আরও জানান, ইঞ্জিন চালু হওয়ার সক্ষমতা, গাড়ি চালানোর সময় প্রতিক্রিয়া, মরিচা প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং বিভিন্ন যন্ত্রাংশের সঙ্গে ইথানলের সামঞ্জস্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও ইতিবাচক ফল মিলেছে। তাই নির্ধারিত মান মেনে তৈরি গাড়িতে ই-২০ পেট্রোল ব্যবহার নিরাপদ বলেই সরকার মনে করছে।
তবে সরকার স্বীকার করেছে যে ই-২০ পেট্রোল ব্যবহারে জ্বালানির গড় খরচ বা মাইলেজ কিছুটা কমতে পারে। এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, ইথানলের শক্তিঘনত্ব সাধারণ পেট্রোলের তুলনায় কম। ফলে একই দূরত্ব অতিক্রম করতে কিছুটা বেশি জ্বালানি লাগতে পারে। তবে সেই ক্ষতি আংশিকভাবে পুষিয়ে যায় উন্নত দহন প্রক্রিয়া এবং ইঞ্জিনের আরও মসৃণ কার্যক্ষমতার মাধ্যমে। গড়করির দাবি, ই-২০ ব্যবহারে গাড়ির চলার মান উন্নত হয় এবং ইঞ্জিনের কার্যকারিতাও সন্তোষজনক থাকে।
কেন্দ্রের মতে, ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি ব্যবহারের অন্যতম উদ্দেশ্য হল অপরিশোধিত তেলের আমদানি কমানো, কৃষকদের কাছ থেকে আখ, ভুট্টা ও অন্যান্য কৃষিপণ্য থেকে তৈরি ইথানলের চাহিদা বাড়ানো এবং কার্বন নির্গমন হ্রাস করা। এর মাধ্যমে জ্বালানি নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব বিকল্প জ্বালানির ব্যবহারও উৎসাহিত করা সম্ভব হবে।
তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ই-২০ পেট্রোল ব্যবহারের ক্ষেত্রে পুরনো গাড়ির মালিকদের সতর্ক থাকা উচিত। যেসব গাড়ি ই-২০ উপযোগী নয়, সেগুলিতে দীর্ঘদিন এই জ্বালানি ব্যবহার করলে কিছু যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। যদিও নতুন প্রজন্মের অধিকাংশ গাড়ি নির্মাতা ইতিমধ্যেই ই-২০ উপযোগী ইঞ্জিন বাজারে এনেছেন।
ই-২০ নিয়ে জনমনে যে সংশয় তৈরি হয়েছে, সংসদে গড়করির বক্তব্য তার জবাব দেওয়ারই চেষ্টা। সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ইঞ্জিনের নিরাপত্তা, দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং কার্যক্ষমতা নিয়ে বিস্তৃত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই এই নীতি কার্যকর করা হয়েছে। তবে বাস্তবে জ্বালানির গড় খরচ, দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় এবং বিভিন্ন ধরনের গাড়িতে এর প্রভাব নিয়ে বিতর্ক আপাতত থামছে না।