বাংলাস্ফিয়ার: প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত শনিবার ফের স্পষ্ট করে জানালেন, তাঁর বহুল আলোচিত ‘ককরোচ’ মন্তব্য দেশের সমস্ত তরুণ-তরুণী বা ছাত্রসমাজকে উদ্দেশ করে করা হয়নি। তিনি বলেন, ওই মন্তব্য ছিল শুধুমাত্র ভুয়ো আইন ডিগ্রি ব্যবহার করে আদালতের কার্যক্রমে বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং বিচারব্যবস্থার অপব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে।
একটি বিচারিক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর মন্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, “যাঁরা নকল বা অবৈধ আইন ডিগ্রির আড়ালে বিচারব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন, তাঁদের আচরণ বোঝাতেই ওই শব্দ ব্যবহার করা হয়েছিল। দেশের মেধাবী ও সৎ তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই।”
সম্প্রতি তাঁর ‘ককরোচ’ মন্তব্য ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। ছাত্র সংগঠন ও বিরোধী রাজনৈতিক মহলের একাংশ অভিযোগ তোলে, দেশের যুবসমাজকে অপমান করা হয়েছে। তবে সুপ্রিম কোর্ট সূত্রের দাবি ছিল, মন্তব্যটি প্রসঙ্গচ্যুতভাবে প্রচার করা হয়েছে এবং সেটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে ভিন্ন অর্থে তুলে ধরা হয়েছে।
শনিবার প্রধান বিচারপতি বলেন, দেশের যুবসমাজই ভারতের ভবিষ্যৎ এবং বিচারব্যবস্থা সব সময় তাদের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, “যুবকদের শক্তি, মেধা ও সততার উপরই দেশের আগামী দিনের ভিত্তি গড়ে উঠবে। তাঁদের প্রতি আদালতের পূর্ণ আস্থা রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, বিচারব্যবস্থাকে দুর্বল করার জন্য ভুয়ো নথি, ভুয়ো ডিগ্রি বা প্রতারণার আশ্রয় নেওয়া অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। এ ধরনের প্রবণতার বিরুদ্ধে আদালত কঠোর অবস্থান নেবে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, চলমান ছাত্র আন্দোলনের আবহে প্রধান বিচারপতির আগের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছিল। বিরোধীরা অভিযোগ করেছিল, এতে আন্দোলনরত তরুণদের মর্যাদাহানি হয়েছে। তবে শনিবারের বক্তব্যে প্রধান বিচারপতি সেই বিতর্কের অবসান ঘটানোর চেষ্টা করে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তাঁর মন্তব্য কোনওভাবেই দেশের সমগ্র যুবসমাজকে উদ্দেশ করে ছিল না; বরং বিচারব্যবস্থাকে প্রতারণার মাধ্যমে কলুষিত করার চেষ্টা করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেই ছিল।