রাজ্য

ঘর জলে, পরীক্ষা মানিকচকে: ভূতনির পড়ুয়াদের জন্য আশ্রয়ের সঙ্গে শিক্ষার ব্যবস্থাও

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • বাংলাস্ফিয়ারঃ মালদহের ভূতনিতে বন্যার জল নামতে শুরু করলেও বহু পরিবারের স্বাভাবিক জীবন ফেরেনি।
  • সেই অবস্থাতেই ২১ সেপ্টেম্বর উচ্চমাধ্যমিকের তৃতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষায় বসেছেন এলাকার পড়ুয়ারা।
  • তাঁদের জন্য পরীক্ষাকেন্দ্র সরিয়ে আনা হয়েছে মানিকচক কলেজে।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

বাংলাস্ফিয়ারঃ মালদহের ভূতনিতে বন্যার জল নামতে শুরু করলেও বহু পরিবারের স্বাভাবিক জীবন ফেরেনি। সেই অবস্থাতেই ২১ সেপ্টেম্বর উচ্চমাধ্যমিকের তৃতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষায় বসেছেন এলাকার পড়ুয়ারা। তাঁদের জন্য পরীক্ষাকেন্দ্র সরিয়ে আনা হয়েছে মানিকচক কলেজে। বাড়ি থেকে পরীক্ষা দিতে যাওয়া যেখানে অসম্ভব বা ঝুঁকিপূর্ণ, সেখানে প্রশাসন থাকা, খাওয়া এবং যাতায়াতের বিকল্প ব্যবস্থা করেছে। ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলিতে এই উদ্যোগের পাশাপাশি প্রস্তুতির সীমাবদ্ধতাও সামনে এসেছে।

ভূতনির তিনটি স্কুলের প্রায় ৭৩৬ জন পরীক্ষার্থীর কথা বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলি হল উত্তর চণ্ডীপুর বিপি হাইস্কুল, আমতলা নন্দিটোলা হাইস্কুল এবং ভূতনি চণ্ডীপুরের স্কুল। মথুরাপুর বিএসএস হাইস্কুলের পড়ুয়ারাও একই কেন্দ্রে পরীক্ষা দিয়েছেন। ফলে ওই কেন্দ্রের মোট পরীক্ষার্থী এবং শুধু ভূতনির পরীক্ষার্থীর সংখ্যা এক নয়; দুটি হিসাব গুলিয়ে ফেললে বন্যাদুর্গত পড়ুয়ার সংখ্যা ভুল দেখাবে।

পরীক্ষার আগেই পড়ুয়াদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে লালবাথানি হাইস্কুল ও মানিকচক মডেল স্কুলে থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। পরীক্ষার দিন তাঁদের বিনামূল্যে যাতায়াতের ব্যবস্থাও ছিল। প্রতিবেদনে এক পরীক্ষার্থী জানিয়েছেন, চারদিকে জল থাকায় বাড়িতে পড়াশোনার পরিবেশ ছিল না। বিকল্প কেন্দ্রে পৌঁছনোর সুযোগ তাই গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা হারিয়ে যাওয়া প্রস্তুতির সময় ফেরত দেয়নি।

আশ্রয়ের ব্যবস্থাও শুরু থেকে বিতর্কহীন ছিল না। ২০ সেপ্টেম্বরের আগের সন্ধ্যায় কয়েকজন পরীক্ষার্থীর একটি ভিডিওতে খাবার না-পাওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে খাবার ও রান্নার ব্যবস্থা হয়। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই ভিডিওটি করা হয়েছিল বলে পড়ুয়ারা পরে জানিয়েছিলেন। এটি অভিযোগ এবং পরবর্তী ব্যাখ্যার বিবরণ; সব আশ্রয়কেন্দ্রে ধারাবাহিক অনাহার ছিল—এমন সিদ্ধান্তের প্রমাণ নয়।

বন্যার সূত্রপাতের বিবরণও পরিস্থিতির স্থায়িত্ব বোঝায়। ৪ সেপ্টেম্বর গঙ্গার বাঁধ ভাঙার পরে ভূতনির বিস্তীর্ণ এলাকায় ঘর, জমি ও রাস্তা জলমগ্ন হয়। সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে জল নামার সঙ্গে বিদ্যুৎ ও রাস্তা মেরামতের চেষ্টা চলছিল। ভূতনি সেতু, চৌরঙ্গি মোড় এবং ত্রাণশিবিরের মধ্যে বিনামূল্যের সরকারি বাস চালুর কথাও জানানো হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের সহায়তা এই বৃহত্তর পুনরুদ্ধার প্রচেষ্টার অংশ।

উত্তরবঙ্গের পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়ে পৃথক প্রতিবেদনে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের আঞ্চলিক উপসচিব রাজীব বিশ্বাস জানিয়েছেন, এই পর্বে পরীক্ষা দিতে না-পারলে চতুর্থ সেমিস্টারের সঙ্গে তৃতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ থাকবে। বিশেষ নজরদারি, পরিবহণ এবং জঙ্গলপথে বন দফতরের নজর রাখার ব্যবস্থার কথাও জানানো হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট পড়ুয়ার ক্ষেত্রে পরবর্তী পরীক্ষার নিয়ম ও আবেদনপদ্ধতি বিদ্যালয় এবং সংসদের বর্তমান নির্দেশ মেনে জানতে হবে।

বিশ্লেষণ: ভূতনির ঘটনাটি দেখায়, দুর্যোগে শিক্ষা চালু রাখার অর্থ শুধু পরীক্ষার তারিখ অপরিবর্তিত রাখা নয়। শুকনো আশ্রয়, আলো, খাবার, পড়ার জায়গা এবং নির্ভরযোগ্য যাতায়াত একই ব্যবস্থার অংশ। এর কোনও একটি না-থাকলে কেন্দ্রে উপস্থিত হওয়ার সুযোগ থাকলেও পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বৈষম্য থেকে যায়। সাফল্যের হিসাব তাই শুধু কতজন পরীক্ষা দিলেন, সেখানেই থামা উচিত নয়।

পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়াও সবার কাছে সমান সহজ বিকল্প নয়। পরের পর্বে দুটি সেমিস্টারের প্রস্তুতি একসঙ্গে নিতে হলে বাড়তি শিক্ষাসহায়তা দরকার হতে পারে। আবার বর্তমান পরিস্থিতিতে পরীক্ষা দেওয়ার চাপও উপেক্ষা করা যায় না। তাই বিদ্যালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে প্রত্যেকের বাস্তব অসুবিধা বোঝা প্রয়োজন। উপস্থিত থাকতে না-পারা এবং পড়াশোনায় আগ্রহ না-থাকাকে এক করে দেখলে সবচেয়ে বিপন্ন পড়ুয়ারাই অদৃশ্য হয়ে যাবেন।

পরীক্ষার পরে বিদ্যালয়গুলির দেখা দরকার কার বই বা নথি হারিয়েছে, কার অতিরিক্ত ক্লাস প্রয়োজন এবং কে পরবর্তী পর্বে পরীক্ষা দেবেন। এসব প্রয়োজন ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ না-করেও নথিভুক্ত করা সম্ভব। একই সঙ্গে খাবার বা পরিবহণ নিয়ে অভিযোগ জানানোর সহজ ব্যবস্থা থাকা দরকার। একটি ভিডিও সরিয়ে নেওয়া পরিষেবার মান যাচাইয়ের বিকল্প নয়; নিয়মিত তদারকিই শিক্ষার্থী ও প্রশাসন, দুই পক্ষের আস্থা রক্ষা করবে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles