বাড়ি কিনে জরিমানার ফাঁদে অনাবাসী

যা জানা জরুরি
- প্রতিবেদন: ৭৫ লক্ষ টাকার সম্পত্তি কেনার সময়ে বিক্রেতাকে ভারতীয় বাসিন্দা ধরে এক শতাংশ উৎসে কর কেটেছিলেন তিন ক্রেতা।
- পরে আয়কর দপ্তর বিক্রেতাকে অনাবাসী হিসেবে চিহ্নিত করে জানায়, লেনদেনটিতে অনাবাসীকে অর্থপ্রদানের আলাদা ধারা প্রযোজ্য ছিল।
- করের ঘাটতি, সুদ এবং তার উপর প্রায় ৫.১৫ লক্ষ টাকার জরিমানা—ইন্দোর আয়কর আপিল ট্রাইবুনালের সাম্প্রতিক মামলাটি দেখিয়েছে, বিক্রেতার নাগরিকত্ব নয়, কর-আবাসিক অবস্থাই ক্রেতার বড়…
বিস্তারিত প্রতিবেদন
প্রতিবেদন: ৭৫ লক্ষ টাকার সম্পত্তি কেনার সময়ে বিক্রেতাকে ভারতীয় বাসিন্দা ধরে এক শতাংশ উৎসে কর কেটেছিলেন তিন ক্রেতা। পরে আয়কর দপ্তর বিক্রেতাকে অনাবাসী হিসেবে চিহ্নিত করে জানায়, লেনদেনটিতে অনাবাসীকে অর্থপ্রদানের আলাদা ধারা প্রযোজ্য ছিল। করের ঘাটতি, সুদ এবং তার উপর প্রায় ৫.১৫ লক্ষ টাকার জরিমানা—ইন্দোর আয়কর আপিল ট্রাইবুনালের সাম্প্রতিক মামলাটি দেখিয়েছে, বিক্রেতার নাগরিকত্ব নয়, কর-আবাসিক অবস্থাই ক্রেতার বড় দায় তৈরি করতে পারে।
বাসিন্দার কাছ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা বা তার বেশি দামের স্থাবর সম্পত্তি কেনার ক্ষেত্রে সাধারণত মূল্য বা স্ট্যাম্প-ডিউটির মূল্য—যেটি বেশি—তার এক শতাংশ কর কাটার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু বিক্রেতা করের বিচারে অনাবাসী হলে এই সরল হার প্রযোজ্য নয়। অনাবাসীকে অর্থপ্রদানের বিধিতে বিক্রির সম্ভাব্য করযোগ্য লাভ, প্রযোজ্য হার, অতিরিক্ত কর ও স্বাস্থ্য–শিক্ষা উপকর মিলিয়ে কাটার অঙ্ক অনেক বেশি হতে পারে।
আলোচিত ঘটনায় ক্রেতারা স্থানীয় দালালের তথ্য ও নথির উপর নির্ভর করেছিলেন। দপ্তর বিক্রেতাকে অনাবাসী বলার পরে তাঁরা প্রত্যেকে প্রায় ৬.১৮ লক্ষ টাকা ঘাটতি ও সুদ মেটান। তবু উৎসে কম কর কাটার জন্য পৃথক জরিমানা ধার্য হয়েছিল। ট্রাইবুনাল তাঁদের ভুলকে সৎ ও যুক্তিসঙ্গত বলে মেনে জরিমানা বাতিল করেছে। কিন্তু পরের সময়ে টাকা মেটালেই প্রত্যেক মামলায় জরিমানা মাফ হবে—রায়টি এমন সাধারণ ছাড় নয়।
‘অনাবাসী ভারতীয়’ লেখা ব্যাঙ্ক হিসাব, বিদেশি ঠিকানা বা পাসপোর্ট একা কর-আবাসিক অবস্থার চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। নির্দিষ্ট অর্থবর্ষে ভারতে থাকার দিনের সংখ্যা এবং আয়কর আইনের আবাসিকতার পরীক্ষা প্রযোজ্য। আবার ভারতীয় নাগরিক হয়েও কেউ অনাবাসী হতে পারেন। তাই বিক্রয়চুক্তিতে বিক্রেতার লিখিত আবাসিকতার ঘোষণা, প্যান, ঠিকানা ও প্রয়োজনীয় সহায়ক তথ্য রাখা উচিত। সন্দেহ থাকলে কর-পেশাদারের লিখিত মত নেওয়া নিরাপদ।
অনাবাসী বিক্রেতা আয়কর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কম হারে কর কাটার শংসাপত্র চাইতে পারেন। সেটি না-থাকলে ক্রেতা নিজের অনুমানমতো শুধু প্রকৃত লাভের উপর কর কেটে ঝুঁকি নিতে পারেন না। সঠিক সময়ে কর জমা, নির্ধারিত বিবরণী এবং বিক্রেতাকে শংসাপত্র দেওয়ার দায়িত্বও ক্রেতার। একাধিক ক্রেতা বা বিক্রেতা থাকলে প্রত্যেকের অংশ আলাদা করে নথিভুক্ত করা প্রয়োজন।
বিশ্লেষণ: ট্রাইবুনালের সহানুভূতি ক্রেতার মূল দায় মুছে দেয়নি; শুধু যুক্তিসঙ্গত কারণের ভিত্তিতে জরিমানা সরিয়েছে। করের ঘাটতি ও সুদ ইতিমধ্যে দিতে হয়েছিল। অর্থাৎ বিক্রেতার ভুল তথ্যের মূল্য প্রথমে ক্রেতার নগদেই পড়ে। পরে চুক্তির ক্ষতিপূরণ-ধারা ব্যবহার করে অর্থ উদ্ধারের চেষ্টা করা গেলেও তা আলাদা দেওয়ানি বিরোধ।
১ অক্টোবর থেকে নির্দিষ্ট বাসিন্দা ব্যক্তি বা হিন্দু অবিভক্ত পরিবারের ক্ষেত্রে অনাবাসী বিক্রেতার সম্পত্তি কেনার কর কাটতে ট্যান নেওয়ার প্রয়োজন শিথিল হচ্ছে। এটি প্রশাসনিক সুবিধা; করের হার বা বিক্রেতার অবস্থান যাচাইয়ের দায়িত্ব বাতিল নয়। বাড়ির টাইলস ও দিকনির্দেশ দেখার পাশাপাশি বিক্রেতার কর-আবাসিকতার কাগজ দেখা এখন সমান গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



