International

গাজায় জট, শর্তে অনড় নেতানিয়াহু

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • গাজায় থমকে থাকা যুদ্ধবিরতি চুক্তি এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর প্রায় তিন ঘণ্টার বৈঠকেও বরফ গলল না।
  • নেতানিয়াহুর সাফ কথা—হামাস সম্পূর্ণ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত গাজা থেকে ইজরায়েলি সেনা সরবে না, শুরু হবে না উপত্যকার পুনর্গঠনও।
  • অন্য দিকে হামাসের দাবি, নিরস্ত্রীকরণের আগে ইজরায়েলকেই হামলা বন্ধ করে সেনা পিছিয়ে নিতে হবে।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

গাজায় থমকে থাকা যুদ্ধবিরতি চুক্তি এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর প্রায় তিন ঘণ্টার বৈঠকেও বরফ গলল না। নেতানিয়াহুর সাফ কথা—হামাস সম্পূর্ণ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত গাজা থেকে ইজরায়েলি সেনা সরবে না, শুরু হবে না উপত্যকার পুনর্গঠনও। অন্য দিকে হামাসের দাবি, নিরস্ত্রীকরণের আগে ইজরায়েলকেই হামলা বন্ধ করে সেনা পিছিয়ে নিতে হবে। অর্থাৎ, আগে কে পা বাড়াবে—সেই প্রশ্নেই আটকে শান্তির চাকা।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাই এবং বিশেষ দূত কুশনার রবিবার মিশরে হামাসের রাজনৈতিক প্রধান খলিল আল-হাইয়ার সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে হামাসের দাবি, ইজরায়েল বর্তমানে গাজার প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। ওই এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার না হলে অস্ত্র সমর্পণের সময়সূচি নিয়ে আলোচনা শুরু করা সম্ভব নয়। হামাসের আরও দাবি, ইজরায়েলকে আগে হামলা বন্ধ করে তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’ পর্যন্ত পিছিয়ে যেতে হবে।

এর পরেই সোমবার ইজরায়েলে নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে বসেন কুশনার। বৈঠকে ছিলেন প্রাক্তন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার এবং রাষ্ট্রপুঞ্জের প্রাক্তন দূত নিকোলাই ম্লাদেনভও। দু’জনেই ট্রাম্পের তৈরি ‘বোর্ড অব পিস’-এর সদস্য।

নেতানিয়াহুর দফতর বৈঠকটিকে ‘গভীর ও গঠনমূলক’ বলে বর্ণনা করলেও এক ইজরায়েলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আলোচনায় কোনও সাফল্য আসেনি। নেতানিয়াহু স্পষ্ট করেছেন, ইজরায়েলি বাহিনী গাজায় অভিযান চালিয়ে যাবে।

নিরস্ত্রীকরণের প্রক্রিয়া কী ভাবে হবে, তারও একটি প্রস্তাব দিয়েছেন নেতানিয়াহু। তাঁর পরিকল্পনা অনুযায়ী, হামাসের অস্ত্র সমর্পণের প্রক্রিয়া একজন মার্কিন সেনা আধিকারিকের তত্ত্বাবধানে হতে পারে। পাশাপাশি দুটি কার্যকরী গোষ্ঠী তৈরির সিদ্ধান্ত হয়েছে—একটি হামাসের নিরস্ত্রীকরণ ও গাজার সামরিক পরিকাঠামো ধ্বংসের জন্য, অন্যটি উপত্যকার পুনর্গঠনের জন্য। কিন্তু ইজরায়েলের অবস্থান, প্রথম কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত দ্বিতীয়টির পালা আসবে না।

আমেরিকার সমর্থনপুষ্ট ১৫ দফা শান্তি-রূপরেখায় হামাসের নিরস্ত্রীকরণের পাশাপাশি গাজা থেকে ধাপে ধাপে ইজরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের কথাও রয়েছে। হামাসের দাবি, তারা এই রূপরেখা মেনে নিয়েছে এবং তা কার্যকর করার সময়সূচি ঠিক করতে ১৪ দিনের আলোচনায় বসতেও প্রস্তুত।

কিন্তু নেতানিয়াহু প্রায় এক সপ্তাহ আগেই পরিকল্পনাটি প্রত্যাখ্যান করেন। ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যমের দাবি, তাঁর এই অনড় অবস্থানে ট্রাম্প ক্রমশ বিরক্ত হচ্ছেন।

অচলাবস্থার মধ্যেই আরও একটি পরস্পরবিরোধী বার্তা সামনে এসেছে। বৈঠকের সময় ট্রাম্প বলেন, গাজায় ইজরায়েলের হামলা চালানো উচিত নয়। অথচ ‘হারেৎজ’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, কুশনারের আলোচনার পর আমেরিকা ইজরায়েলকে গাজায় হামলা চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে। ফলে শান্তি-উদ্যোগের মার্কিন অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

এ দিকে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, জর্ডন, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, মিশর, কাতার ও তুরস্ক যৌথ বিবৃতিতে শান্তিরূপরেখা প্রত্যাখ্যানের জন্য ইজরায়েলকে দায়ী করেছে। তাদের বক্তব্য, গাজায় শান্তি ফেরানোর প্রচেষ্টায় বাধা সৃষ্টির দায় এখন ইজরায়েলের।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দাবি, গত বছরের যুদ্ধবিরতির পরও ইজরায়েলি হামলায় ১,২০০-র বেশি প্যালেস্তিনীয় নিহত এবং ৪,১০০-র বেশি আহত হয়েছেন। প্রায় ২০ লক্ষ মানুষের ভবিষ্যৎ যে যুদ্ধবিরতি ও পুনর্গঠনের সঙ্গে জড়িয়ে, সেই প্রক্রিয়াই এখন ফের ‘আগে তুমি’ শর্তে আটকে।

হামাস বলছে, আগে সেনা সরাও। নেতানিয়াহু বলছেন, আগে অস্ত্র নামাও। আর শান্তি? সে এখনও অপেক্ষায়।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles