আগুনের নেপথ্যে যুদ্ধ?

যা জানা জরুরি
- বৈরুত: দক্ষিণ লেবাননের বনাঞ্চল ও কৃষিজমিতে ইচ্ছাকৃত ভাবে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে—ইজরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে এমনই গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় দমকলকর্মী, বাসিন্দা ও পরিবেশরক্ষীরা।
- তাঁদের দাবি, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় গোলা, অগ্নিসংযোগকারী অস্ত্র, আলোকশিখা এবং চালকহীন আকাশযান ব্যবহার করে আগুন ছড়ানো হচ্ছে।
- দমকলকর্মীদের অভিযোগ, কোনও কোনও এলাকায় আগুন নেভানোর পর ফের নতুন করে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
বৈরুত: দক্ষিণ লেবাননের বনাঞ্চল ও কৃষিজমিতে ইচ্ছাকৃত ভাবে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে—ইজরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে এমনই গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় দমকলকর্মী, বাসিন্দা ও পরিবেশরক্ষীরা। তাঁদের দাবি, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় গোলা, অগ্নিসংযোগকারী অস্ত্র, আলোকশিখা এবং চালকহীন আকাশযান ব্যবহার করে আগুন ছড়ানো হচ্ছে।
দমকলকর্মীদের অভিযোগ, কোনও কোনও এলাকায় আগুন নেভানোর পর ফের নতুন করে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এমনকি কয়েকটি ক্ষেত্রে ইজরায়েলি ড্রোন থেকে জ্বলন্ত বস্তু ফেলে সদ্য নেভানো আগুন আবার জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি তাঁদের। ফলে শুধু বনভূমিই নয়, পুড়ে যাচ্ছে জলপাই বাগান, ফলের বাগান এবং কৃষিজমি। সরাসরি ধাক্কা খাচ্ছে স্থানীয় মানুষের জীবিকা।
গত ১৭ জুন হিজবুল্লার সঙ্গে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর সীমান্তবর্তী এলাকায় এমন ঘটনা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে স্থানীয়দের দাবি। দক্ষিণ লেবাননের সম্মুখসারির কাছে কাজ করা অসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের এক আধিকারিকের দাবি, ওই অঞ্চলের প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ জমি আগুন অথবা সামরিক অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এই পরিসংখ্যান স্বাধীন ভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
কেফার শুবা-সহ দক্ষিণ লেবাননের একাধিক এলাকায় সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের ছবি ও ভিডিয়োও প্রকাশ্যে এসেছে। রাতের অন্ধকারে পাহাড়ের ঢালে আগুনের লেলিহান শিখা এবং চারদিকে ঘন ধোঁয়া দেখা গিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এগুলি নিছক প্রাকৃতিক দাবানল নয়। তাঁদের অভিযোগ, গোলাবর্ষণ অথবা আকাশ থেকে জ্বলন্ত বস্তু ফেলার পরই বহু জায়গায় আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।
এমন অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। ২০২৩ সালের অক্টোবরেও ইজরায়েলি গোলাবর্ষণের জেরে দক্ষিণ লেবাননে একাধিক দাবানল ছড়ানোর অভিযোগ তুলেছিল দেশটির অসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ।
এ বার পরিবেশগত ক্ষতির দিকটিও সামনে আনছেন বিশেষজ্ঞেরা। তাঁদের আশঙ্কা, আগুনে শতাব্দীপ্রাচীন জলপাই গাছ, স্থানীয় উদ্ভিদ এবং বন্যপ্রাণীর আবাস ধ্বংস হওয়ায় এই ক্ষত সহজে সারবে না। ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে গোটা অঞ্চলের জীববৈচিত্র এবং কৃষিনির্ভর অর্থনীতি।
পরিবেশরক্ষক হিশাম ইউনেস এই পরিস্থিতিকে ‘প্রতিবেশ-হত্যা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, লক্ষ্য শুধু সামরিক চাপ তৈরি করা নয়; দক্ষিণ লেবাননের ভূপ্রকৃতি এবং মানুষের জীবনধারণের ভিত্তিকেও দুর্বল করে দেওয়া হচ্ছে।
সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এসিএলইডি-র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইজরায়েলি হামলার সঙ্গে সম্পর্কিত ঘটনায় লেবাননে অন্তত ১১৫টি বন ও কৃষিজমিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। সংস্থাটির মতে, সাদা ফসফরাস ব্যবহারের ঘটনাও আগুন ছড়ানোর অন্যতম কারণ হতে পারে।
তবে অভিযোগগুলির বিষয়ে ইজরায়েলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এখনও কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে আগুনগুলি পরিকল্পিত সামরিক কৌশলের অংশ, নাকি যুদ্ধের পরিস্থিতিতে গোলাবর্ষণ ও অস্ত্র ব্যবহারের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া—তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
আর সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এখন নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে। কারণ দক্ষিণ লেবাননে আগুন শুধু গাছপালা পোড়াচ্ছে না—পুড়ছে মানুষের জমি, জীবিকা এবং বহু প্রজন্মের স্মৃতি।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



