মহারাষ্ট্রের লোকাচার থেকে অস্কারের পথে: ভারতের পছন্দ ‘গোন্ধল’

যা জানা জরুরি
- প্রতিবেদন: সন্তোষ দাভাখর পরিচালিত মারাঠি চলচ্চিত্র ‘গোন্ধল’কে ৯৯তম অ্যাকাডেমি পুরস্কারের আন্তর্জাতিক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বিভাগে ভারতের আনুষ্ঠানিক প্রবেশিকা হিসেবে বেছে নিয়েছে ফিল্ম ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া।
- ১৮ সেপ্টেম্বর ঘোষিত সিদ্ধান্তে ৩৩টি জমা পড়া ছবির মধ্যে ‘গোন্ধল’ নির্বাচিত হয়েছে।
- অস্কার অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ২০২৭ সালের ১৪ মার্চ; তার আগে ছবিটিকে প্রাথমিক তালিকা ও চূড়ান্ত মনোনয়নের দুটি ধাপ পেরোতে হবে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
প্রতিবেদন: সন্তোষ দাভাখর পরিচালিত মারাঠি চলচ্চিত্র ‘গোন্ধল’কে ৯৯তম অ্যাকাডেমি পুরস্কারের আন্তর্জাতিক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বিভাগে ভারতের আনুষ্ঠানিক প্রবেশিকা হিসেবে বেছে নিয়েছে ফিল্ম ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া। ১৮ সেপ্টেম্বর ঘোষিত সিদ্ধান্তে ৩৩টি জমা পড়া ছবির মধ্যে ‘গোন্ধল’ নির্বাচিত হয়েছে। অস্কার অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ২০২৭ সালের ১৪ মার্চ; তার আগে ছবিটিকে প্রাথমিক তালিকা ও চূড়ান্ত মনোনয়নের দুটি ধাপ পেরোতে হবে।
নির্বাচকমণ্ডলীর নেতৃত্বে ছিলেন চলচ্চিত্র নির্মাতা পি শেশাদ্রি। জমা পড়া ছবির মধ্যে ১৪টি হিন্দি, চারটি করে মারাঠি, তেলুগু ও গুজরাটি, তিনটি তামিল এবং একটি করে মালয়ালম ও নাগামিজ ভাষার ছবি ছিল। একটি নির্বাক চলচ্চিত্রও প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। ফলে নির্বাচনটি শুধু বাণিজ্যিক সাফল্যের তালিকা থেকে হয়নি; ভাষা, রীতি ও নির্মাণপদ্ধতির বিস্তৃত পরিসর বিচার করতে হয়েছে।
‘গোন্ধল’-এর কাহিনি মহারাষ্ট্রের একই নামের লোকাচার ও গীতিনাট্যকে কেন্দ্র করে। একটি গ্রামীণ পরিবারের বিয়ের আগের রাতে অনুষ্ঠানের জন্য গোন্ধলি শিল্পীদের ডাকা হয়। সুমনের সঙ্গে আনন্দের বিয়ে স্থির হলেও সে গোন্ধল দলের শিল্পী সাহেবাকে ভালোবাসে। পারিবারিক সম্মান, জাতপাত, ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা এবং লোকানুষ্ঠানের উত্তেজনা মিলিয়ে এক রাতের মধ্যেই কাহিনি এগোয়।
ইশিতা দেশমুখ, কিশোর কদম, যোগেশ সোহোনি, নিশাদ ভোইর ও অনুজ প্রভু ছবিটির প্রধান অভিনয়শিল্পী। লোকাচার এখানে শুধু রঙিন পটভূমি নয়; গান, দেবতার আহ্বান এবং রাতভর পরিবেশনার মধ্যেই চরিত্রগুলির চাপা সংকট প্রকাশ পায়। এই ব্যবহার ছবিটিকে পর্যটনধর্মী লোকসংস্কৃতি-প্রদর্শন থেকে আলাদা করেছে।
২০২৫ সালের ভারতের আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে দাভাখর সেরা পরিচালকের রৌপ্য ময়ূর পেয়েছিলেন। তবে দেশে ছবিটির প্রেক্ষাগৃহ-প্রদর্শন সীমিত ছিল। অস্কারের জন্য নির্বাচিত হওয়ার অর্থ এখন ছবিটির আন্তর্জাতিক পরিবেশনা, প্রদর্শনী এবং প্রচারে নতুন অর্থ ও সংগঠন লাগবে। শুধু সরকারি প্রবেশিকা হওয়াই ভোটারদের কাছে পৌঁছনোর নিশ্চয়তা দেয় না।
এটি ভারতের হয়ে পাঠানো চতুর্থ মারাঠি ছবি। এর আগে ‘শ্বাস’, ‘হরিশ্চন্দ্রাচি ফ্যাক্টরি’ এবং ‘কোর্ট’ নির্বাচিত হয়েছিল। ভারতের আনুষ্ঠানিক প্রবেশিকাগুলির মধ্যে ‘মাদার ইন্ডিয়া’, ‘সালাম বম্বে!’ ও ‘লগান’ চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছে; কোনও ভারতীয় ছবি এখনও এই বিভাগে পুরস্কার জেতেনি।
এই প্রক্রিয়া নিয়ে প্রায়ই বিভ্রান্তি হয়। ভারতীয় নির্বাচন মানেই অস্কার মনোনয়ন নয়। প্রতিটি দেশের জমা দেওয়া ছবি থেকে অ্যাকাডেমির ভোটারেরা প্রথমে ১৫টি ছবির সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করেন; পরে পাঁচটি চূড়ান্ত মনোনয়ন হয়। আন্তর্জাতিক পরিবেশক, মার্কিন প্রদর্শনী, প্রচারকৌশল ও সমালোচকদের মনোযোগ তাই পরবর্তী ধাপে গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্লেষণ: ‘গোন্ধল’-এর নির্বাচন আঞ্চলিক চলচ্চিত্রকে জাতীয় প্রতিনিধিত্বের সুযোগ দিয়েছে, কিন্তু ছবিটিকে এখন “অস্কার-মনোনীত” বলা ভুল হবে। এর শক্তি সম্ভবত বহিরাগত দর্শকের জন্য লোকাচার ব্যাখ্যা করার চেয়ে সেই আচারকে জীবন্ত নাট্যভাষা হিসেবে ব্যবহারে। আন্তর্জাতিক প্রচারে কাহিনির সামাজিক দ্বন্দ্ব সামনে না-এলে ছবিটি কেবল ‘রঙিন ভারতীয় লোকসংস্কৃতি’ হিসেবে বাজারজাত হওয়ার ঝুঁকি থাকবে।
নির্বাচনের পর সবচেয়ে জরুরি কাজ স্বচ্ছ ও পেশাদার প্রচার। অর্থ কোথা থেকে আসবে, পরিবেশক কে, অ্যাকাডেমির ভোটারদের জন্য কতগুলি প্রদর্শনী হবে—এসব প্রকাশ করলে বোঝা যাবে ভারত শুধু ছবি পাঠাচ্ছে, না কি নির্বাচিত নির্মাতাকে বাস্তব সহায়তাও দিচ্ছে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



