সংস্কৃতি ও বিনোদন

শ্বেতার প্রশ্ন রাজকে

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • সমাজমাধ্যমে কুরুচিকর ভাষায় আক্রমণের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে সরাসরি মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনার প্রধান রাজ ঠাকরেকে প্রশ্ন করলেন অভিনেত্রী শ্বেতা তিওয়ারি।
  • তাঁর দাবি, আক্রমণকারীদের কয়েক জন নিজেদের ‘মরাঠি মানুষ’ এবং রাজ ঠাকরের সমর্থক বলে পরিচয় দিয়েছেন।
  • তবে গোটা মরাঠি সমাজকে দায়ী না করে, সেই পরিচয়ের আড়ালে নারীদের অপমান করার প্রবণতাকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন অভিনেত্রী।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

সমাজমাধ্যমে কুরুচিকর ভাষায় আক্রমণের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে সরাসরি মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনার প্রধান রাজ ঠাকরেকে প্রশ্ন করলেন অভিনেত্রী শ্বেতা তিওয়ারি। তাঁর দাবি, আক্রমণকারীদের কয়েক জন নিজেদের ‘মরাঠি মানুষ’ এবং রাজ ঠাকরের সমর্থক বলে পরিচয় দিয়েছেন। তবে গোটা মরাঠি সমাজকে দায়ী না করে, সেই পরিচয়ের আড়ালে নারীদের অপমান করার প্রবণতাকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন অভিনেত্রী।

নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে একাধিক বার্তা এবং কয়েক জন ব্যবহারকারীর প্রোফাইলের পর্দাছবি প্রকাশ করেন শ্বেতা। তাঁর অভিযোগ, সমাজমাধ্যমে কোনও নারীকে অত্যন্ত অবমাননাকর ভাষায় আক্রমণ করা যেন দিন দিন স্বাভাবিক হয়ে উঠছে। বয়স, পেশা বা সামাজিক পরিচয়—কিছুই যেন নারীদের এই ধরনের হেনস্থার হাত থেকে রক্ষা করছে না।

অভিনেত্রীর বক্তব্য, সবচেয়ে বেশি অবাক করে আক্রমণকারীদের সামাজিক পরিচয়। তাঁদের অনেকেই শিক্ষিত, সম্ভ্রান্ত পরিবারের সদস্য এবং তাঁদের নিজেদের পরিবারেও মা, স্ত্রী, বোন বা কন্যা রয়েছেন। তা সত্ত্বেও অন্য এক নারীকে অপমান করতে তাঁদের কোনও দ্বিধা হচ্ছে না। এখানেই শ্বেতার প্রশ্ন—অন্য এক মহিলাকে এতটা কুরুচিকর ভাষায় আক্রমণ করার পর তাঁরা কী ভাবে নিজেদের পরিবারের নারীদের সামনে স্বাভাবিক থাকতে পারেন?

সম্প্রতি ‘দ্য ট্রেটর্স’-এর কয়েক জন প্রতিযোগীর সঙ্গে ইনস্টাগ্রাম লাইভ চলাকালীনও মহিলা অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে অশ্লীল মন্তব্য করা হয়েছিল বলে অভিযোগ শ্বেতার। তাঁর দাবি, এমনকি তাঁর মেয়ে এবং আট বছরের ছেলেকেও টেনে এনে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে। মন্তব্যকারীদের প্রোফাইল খতিয়ে দেখতে গিয়ে তাঁদের পরিবারের ছবিও নজরে আসে অভিনেত্রীর। সেখান থেকেই তাঁদের আচরণের দ্বিচারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

এরপরই রাজ ঠাকরেকে সরাসরি নিশানা করেন শ্বেতা। তাঁর বক্তব্য, তিনি সারা জীবন মহারাষ্ট্রে থেকেছেন এবং তাঁর বাবা মুম্বইয়ে বড় হয়েছেন। মরাঠি সংস্কৃতির আত্মমর্যাদা ও নারীর প্রতি সম্মান দেখেই তাঁর বেড়ে ওঠা। তাই ‘মরাঠি মানুষ’-এর পরিচয় সামনে রেখে কেউ যদি কোনও নারীর ব্যক্তিগত বার্তায় ঢুকে অশ্রাব্য ভাষায় আক্রমণ করেন, তা হলে প্রশ্ন ওঠেই—এটাই কি মরাঠি পরিচয়ের অর্থ?

রাজ ঠাকরের সমর্থক বলে পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিদের আচরণ নিয়েও সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন অভিনেত্রী। তাঁর বক্তব্য, শুধু মরাঠি ভাষায় কথা বলা কিংবা মহারাষ্ট্রকে ভালবাসার দাবি করলেই মরাঠি পরিচয় সম্পূর্ণ হয় না। নারীর মর্যাদার প্রতি সম্মানও সেই পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

শ্বেতার বার্তা স্পষ্ট—মতের অমিল কোনও নারীকে অপমান করার লাইসেন্স হতে পারে না। কাউকে পছন্দ না হলেই তাঁর মর্যাদা কেড়ে নেওয়ার অধিকার কারও নেই। শুধু নিজের পরিবারের নারী নয়, প্রত্যেক নারীকে সম্মান করার সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শ্বেতার অভিযোগ নিয়ে রাজ ঠাকরে বা তাঁর দলের তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles