রবার্ট ডি নিরো ও অ্যান হ্যাথাওয়ের জনপ্রিয় ছবি ‘দ্য ইন্টার্ন’-এর কথা মনে আছে? মুক্তির প্রায় ১১ বছর পর সেই গল্পই এবার নতুন সাজে ফিরছে দক্ষিণ কোরিয়ায়। ৪ আগস্ট প্রকাশিত হয়েছে ছবির টিজার ও পোস্টার। আর তা প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
তবে এবার গল্পের আবহ বদলাবে, চরিত্রগুলিও পাবেন নতুন সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট। কোরিয়ান সংস্করণে মুখোমুখি হচ্ছেন কিংবদন্তি অভিনেতা চই মিন-সিক এবং জনপ্রিয় অভিনেত্রী হান সো-হি। আন্তঃপ্রজন্মের বন্ধুত্ব, অফিসের হাসি-কান্না এবং কর্পোরেট দুনিয়ার চাপ—সব মিলিয়ে তৈরি হতে চলেছে এক মানবিক অফিস ড্রামা।
অবসরের পর ‘ইন্টার্ন’!
টিজারে দেখা যায়, কিম গি-হো চরিত্রে চই মিন-সিক ৩৭ বছরের দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে অবসর নিয়েছেন। কিন্তু অবসর মানেই থেমে যাওয়া—এমনটা তিনি মানতে নারাজ। জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করতে একটি ফ্যাশন স্টার্ট-আপে যোগ দেন ‘সিনিয়র ইন্টার্ন’ হিসেবে।
আর সেখানেই শুরু যত বিপত্তি।
বয়সে সহকর্মীদের তুলনায় অনেকটাই বড় গি-হোকে প্রথম দিন থেকেই পড়তে হয় একের পর এক অস্বস্তিকর ও মজার পরিস্থিতিতে। প্রযুক্তিনির্ভর দ্রুতগতির অফিস সংস্কৃতি, তরুণ সহকর্মীদের কাজের ধরন এবং নতুন প্রজন্মের সঙ্গে তাল মেলানোর চ্যালেঞ্জ—সবকিছুর সঙ্গেই তাঁকে মানিয়ে নিতে হয়।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে ছবিটা বদলায়। সহকর্মীদের সঙ্গে তৈরি হয় তাঁর বন্ধুত্ব। আর তরুণ প্রজন্মও ধীরে ধীরে বুঝতে শুরু করে—অভিজ্ঞতা কখনও পুরনো হয়ে যায় না।
বস হান সো-হি, ইন্টার্ন চই মিন-সিক
হান সো-হি অভিনয় করেছেন এক তরুণ, উচ্চাভিলাষী স্টার্ট-আপ প্রধানের ভূমিকায়। দ্রুত সিদ্ধান্ত, তীব্র প্রতিযোগিতা এবং সংস্থাকে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দেওয়ার চাপ—এই তিনের মধ্যেই তাঁর জীবন ছুটে চলে।
তার মধ্যে হঠাৎ অফিসে হাজির ৩৭ বছরের কর্মজীবনের অভিজ্ঞ এক ‘ইন্টার্ন’!
শুরুতে দু’জনের সম্পর্ক স্বাভাবিকভাবেই খানিকটা অস্বস্তিকর। একজনের কাছে গতি ও নতুনত্বই মূল কথা, অন্যজনের হাতে রয়েছে কয়েক দশকের অভিজ্ঞতা। কিন্তু সময় যত গড়ায়, ততই বদলাতে থাকে তাঁদের সম্পর্ক।
প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও ভুল বোঝাবুঝির জায়গা নেয় পারস্পরিক শ্রদ্ধা। আর সেই শ্রদ্ধা থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নেয় বোঝাপড়া ও বন্ধুত্ব।
দুই প্রজন্ম, এক অফিস
টিজারের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক সম্ভবত এই আন্তঃপ্রজন্মের সম্পর্ক। একদিকে তরুণদের দ্রুতগতির কর্পোরেট সংস্কৃতি, অন্যদিকে অভিজ্ঞতার ধীর অথচ গভীর দৃষ্টিভঙ্গি—দুইয়ের সংঘাত যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে একে অপরের কাছ থেকে শেখার সুযোগ।
অফিসের মজার মুহূর্তগুলির পাশাপাশি গল্পটি যে প্রশ্ন তুলতে চলেছে, তা বেশ গুরুত্বপূর্ণ—অভিজ্ঞতা আর নতুন চিন্তাধারা কি একসঙ্গে কাজ করলে কর্মক্ষেত্র আরও ভালো হতে পারে?
কোরিয়ান সংস্করণে সেই প্রশ্নের উত্তরই হয়তো মিলবে হাসি, আবেগ এবং সম্পর্কের গল্পের মধ্যে দিয়ে।
হলিউড থেকে কোরিয়ান অফিস
বিদেশি জনপ্রিয় ছবির কোরিয়ান রিমেক নতুন কিছু নয়। তবে ‘দ্য ইন্টার্ন’-এর মতো মূলত সম্পর্ক, বয়স এবং কর্মজীবনের পরিবর্তন নিয়ে তৈরি একটি উষ্ণ গল্পকে কোরিয়ান কর্পোরেট সংস্কৃতির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার বিষয়টি বেশ আগ্রহ তৈরি করেছে।
তার উপর কাস্টিংয়েও রয়েছে চমক। একদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার অন্যতম শক্তিশালী অভিনেতা চই মিন-সিক, অন্যদিকে বর্তমান প্রজন্মের জনপ্রিয় মুখ হান সো-হি। দুই প্রজন্মের দুই তারকার রসায়নই ছবির অন্যতম বড় আকর্ষণ হতে পারে।
নির্মাতাদের লক্ষ্য, মূল ছবির উষ্ণতা ও মানবিক বার্তা অক্ষুণ্ণ রেখে গল্পটিকে কোরিয়ান দর্শকদের কাছে নতুন করে পরিচিত করে তোলা।
টিজার অন্তত সেই আশাই জাগাচ্ছে—অফিসের ব্যস্ততা, প্রজন্মের ফারাক, খানিক হাসি আর খানিক আবেগ মিলিয়ে ‘দ্য ইন্টার্ন’ এবার ফিরছে কোরিয়ান ছন্দে।