হাইলাইটস:
- ফারাহ খানের দাবি, টেলিভিশনে পরিকল্পিত প্রচার চালানো প্রথম বলিউড ছবি ছিল ‘ওম শান্তি ওম’।
- শাহরুখ খান ও দীপিকা পাড়ুকোন অভিনীত ২০০৭ সালের এই ছবি বদলে দেয় বলিউডের বিপণন কৌশল।
- শ্রেয়স তলপাড়ের মন্তব্য, ‘ওম শান্তি ওম’ ছিল বিপণন ও জনসংযোগের এক আদর্শ পাঠ্যপুস্তক।
- আজ যে বহুমাধ্যমভিত্তিক প্রচার বলিউডে স্বাভাবিক, তার ভিত্তি তৈরি হয়েছিল এই ছবির হাত ধরেই।
২০০৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ওম শান্তি ওম’ শুধু বক্স অফিসে সাফল্য পায়নি, বলিউডের প্রচার কৌশলেও এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা করেছিল। পরিচালক ফারাহ খানের সাম্প্রতিক এক মন্তব্যে ফের উঠে এসেছে সেই ইতিহাস। তাঁর দাবি, পরিকল্পিতভাবে টেলিভিশনকে প্রচারের প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা প্রথম বলিউড ছবি ছিল শাহরুখ খান ও দীপিকা পাড়ুকোন অভিনীত এই সুপারহিট চলচ্চিত্র। সম্প্রতি অভিনেতা শ্রেয়স তলপাড়ের সঙ্গে একটি রান্নাবিষয়ক ভিডিওতে আড্ডা দিতে গিয়ে ফারাহ খান ছবির প্রচারের নানা অজানা দিক তুলে ধরেন। সেই সময় তিনি বলেন, ‘ওম শান্তি ওম’-এর আগে বলিউডে এত বড় পরিসরে টেলিভিশনমুখী প্রচারের নজির ছিল না। ছবির মুক্তির আগে বিভিন্ন বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া, ধারাবাহিক সাক্ষাৎকার, বিশেষ পর্ব এবং দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ—সব মিলিয়ে এক নতুন ধরনের প্রচারাভিযান গড়ে তোলা হয়েছিল।
ফারাহর বক্তব্যের সঙ্গে একমত হয়ে শ্রেয়স তলপাড়ে বলেন, ‘ওম শান্তি ওম’ ছিল বিপণন ও জনসংযোগের এক আদর্শ পাঠ্যপুস্তক। তাঁর মতে, ছবিটি শুধু সিনেমা হিসেবেই সফল হয়নি, কীভাবে একটি চলচ্চিত্রকে দর্শকের কাছে পৌঁছে দিতে হয়, সেই কৌশলও নতুনভাবে শিখিয়েছিল পুরো শিল্পকে। ২০০৭ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব এখনও সীমিত ছিল। আজকের মতো ডিজিটাল প্রচার, প্রভাবশালী নির্মাতা বা অনলাইন প্রচারণার যুগ তখন শুরুই হয়নি। ফলে দর্শকদের কাছে পৌঁছানোর সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম ছিল টেলিভিশন। এই বাস্তবতাকে কাজে লাগিয়ে ‘ওম শান্তি ওম’-এর প্রচার পরিকল্পনা তৈরি করা হয়। শাহরুখ খান ও ছবির অন্যান্য শিল্পীরা বিভিন্ন জনপ্রিয় অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন, বিনোদন চ্যানেলগুলির সঙ্গে যৌথ প্রচার চালানো হয় এবং ছবিকে ঘিরে এক ধরনের উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করা হয়।
এই কৌশলের ফলও মিলেছিল হাতেনাতে। মুক্তির পর ছবিটি বিপুল বাণিজ্যিক সাফল্য অর্জন করে। একই সঙ্গে বলিউডের প্রযোজক ও বিপণন সংস্থাগুলিও বুঝতে পারে, সিনেমার প্রচার আর শুধু পোস্টার, সংবাদপত্রের বিজ্ঞাপন বা ট্রেলারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। দর্শকদের কাছে পৌঁছাতে হলে তাঁদের প্রতিদিনের বিনোদনের অংশ হয়ে উঠতে হবে। ‘ওম শান্তি ওম’ আরও একটি কারণে স্মরণীয়। এই ছবির মাধ্যমেই বলিউডে নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন দীপিকা পাড়ুকোন। শাহরুখ খানের বিপরীতে তাঁর অভিষেক ছিল অত্যন্ত সফল, আর ছবির গান, সংলাপ ও জমকালো উপস্থাপনা আজও দর্শকদের কাছে সমান জনপ্রিয়।
পরবর্তী সময়ে বলিউডের প্রায় সব বড় ছবিই ‘ওম শান্তি ওম’-এর পথ অনুসরণ করে। টেলিভিশনের রিয়্যালিটি শো, গানের অনুষ্ঠান, কৌতুক অনুষ্ঠান, সংবাদমাধ্যমের বিশেষ সাক্ষাৎকার—সবই হয়ে ওঠে চলচ্চিত্র প্রচারের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পরে এই মডেলের সঙ্গে যুক্ত হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন প্রচার ও ডিজিটাল প্রচারণা। ফারাহ খানের সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই পরিবর্তনের ইতিহাসকেই আবার সামনে নিয়ে এসেছে। আজ যখন চলচ্চিত্রের প্রচার বহুস্তরীয় ও প্রযুক্তিনির্ভর, তখন মনে করিয়ে দেয়—বলিউডে পরিকল্পিত গণমাধ্যমভিত্তিক প্রচারের এক বড় মোড় এসেছিল ‘ওম শান্তি ওম’-এর হাত ধরেই। ছবিটি তাই শুধু একটি সফল বিনোদন নয়, ভারতীয় চলচ্চিত্রের বিপণন ইতিহাসেও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।