Home খবর পেরুর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয় কেইকো ফুজিমোরির, লাতিন আমেরিকায় ডানপন্থার উত্থানে নতুন অধ্যায়

পেরুর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয় কেইকো ফুজিমোরির, লাতিন আমেরিকায় ডানপন্থার উত্থানে নতুন অধ্যায়

Authored By বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক
8 views 3 minutes read
A+A-
Reset

হাইলাইটস:

  • অতি অল্প ব্যবধানে পেরুর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়ী কেইকো ফুজিমোরি।
  • প্রায় ১ কোটি ৮০ লক্ষ ভোটের মধ্যে ব্যবধান ৫০ হাজারেরও কম।
  • বামপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বী রোবের্তো সানচেজ ফলাফল মেনে নেননি, অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন।
  • ২৮ জুলাই পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেবেন ফুজিমোরি।
  • প্রয়াত রাষ্ট্রপতি আলবের্তো ফুজিমোরির কন্যা কেইকোর এটি চতুর্থ প্রচেষ্টায় সাফল্য।

পেরুর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয় পেলেন রক্ষণশীল নেত্রী কেইকো ফুজিমোরি। বামপন্থী প্রার্থী রোবের্তো সানচেজকে অতি অল্প ব্যবধানে পরাজিত করে তিনি দেশটির পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হতে চলেছেন। এই ফলাফলকে লাতিন আমেরিকায় সাম্প্রতিক সময়ে ডানপন্থী রাজনীতির ধারাবাহিক উত্থানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গত ৭ জুন অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফার ভোটে ফুজিমোরি ১ কোটি ৮০ লক্ষেরও বেশি প্রদত্ত ভোটের মধ্যে ৫০ হাজারেরও কম ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে থাকেন। বিতর্কিত ব্যালটপত্র যাচাই-বাছাই করতে নির্বাচন কর্তৃপক্ষের কয়েক সপ্তাহ লেগে যায়। চূড়ান্ত ফল ঘোষণার আনুষ্ঠানিক দিন নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৩ জুলাই। ফলাফল স্পষ্ট হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফুজিমোরি লিখেছেন, “প্রতিটি মুহূর্ত আমাদের এমন এক পথের আরও কাছে নিয়ে যাচ্ছে, যেখানে পেরুর মানুষের জন্য শৃঙ্খলা ও নতুন আশা অপেক্ষা করছে।”

৫১ বছর বয়সি কেইকো ফুজিমোরির জন্য এটি ছিল রাষ্ট্রপতি হওয়ার চতুর্থ প্রচেষ্টা। আগের তিনবার তিনি পরাজিত হলেও এবার শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হলেন। এই নির্বাচনের মূল ইস্যু ছিল দেশে ক্রমবর্ধমান অপরাধ, চাঁদাবাজি, খুন এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা। গত এক দশকে পেরুতে আটজন রাষ্ট্রপতি ক্ষমতায় এসেছেন, যা দেশের রাজনৈতিক সংকটের গভীরতাকেই তুলে ধরে।

নির্বাচনী প্রচারে ফুজিমোরি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, অপরাধ দমনে তিনি কঠোর অবস্থান নেবেন। এই অবস্থান অনেকটাই তাঁর বাবা, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি আলবের্তো ফুজিমোরির শাসনশৈলীর প্রতিফলন। আলবের্তো ফুজিমোরি একদিকে মাওবাদী বিদ্রোহ দমন এবং লাগামছাড়া মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রশংসিত হয়েছিলেন, অন্যদিকে দুর্নীতি এবং সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের নামে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে কারাবন্দিও হয়েছিলেন। অন্যদিকে বামপন্থী প্রার্থী রোবের্তো সানচেজ এখনও ফলাফল নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাননি। ভোট গণনার এক পর্যায়ে তিনি এগিয়ে থাকলেও পরে ফুজিমোরি তাকে ছাড়িয়ে যান। বিশেষ করে বিদেশে প্রদত্ত ভোট গণনায় প্রশাসনিক অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে সানচেজ আগেই জানিয়েছিলেন, ফুজিমোরির নেতৃত্বাধীন সরকারকে তিনি স্বীকৃতি নাও দিতে পারেন।

আগামী ২৮ জুলাই ফুজিমোরি আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। তাঁর মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই কেইকো ফুজিমোরিকে অনেকেই সংঘাতপ্রবণ নেত্রী হিসেবে দেখেছেন। তবে এবারের নির্বাচনী প্রচারে তিনি নিজের ভাবমূর্তি আরও সংযত ও গ্রহণযোগ্য করে তোলার চেষ্টা করেন। মাত্র ১৯ বছর বয়সে তিনি দেশের ফার্স্ট লেডির দায়িত্ব পালন করেছিলেন, যখন তাঁর মা স্বামী আলবের্তো ফুজিমোরির সঙ্গে প্রকাশ্যে সম্পর্কচ্ছেদ করেন। পরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসা প্রশাসনে পড়াশোনা করেন।

ফুজিমোরি পরিবারের নাম যেমন তাঁকে দ্রুত পরিচিতি, সংগঠিত সমর্থকগোষ্ঠী এবং শক্তিশালী রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক এনে দিয়েছে, তেমনই এই নাম তাঁর বিরুদ্ধে বড় বাধাও হয়ে দাঁড়িয়েছে। আলবের্তো ফুজিমোরির শাসনামলের স্মৃতি এখনও বহু পেরুভিয়ানের কাছে তিক্ত। সেই কারণেই অতীতে তিনবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কেইকো ফুজিমোরির পথ রুদ্ধ হয়েছিল। সমালোচকদের একাংশের অভিযোগ, ফুজিমোরির দল ফুয়ের্সা পপুলার কংগ্রেসে অতিরিক্ত প্রভাব খাটিয়ে এবং নানা রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে পেরুর দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক অস্থিরতার অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে। তবে সব বিতর্ক পেরিয়ে এবার দেশের সর্বোচ্চ নির্বাহী পদে বসতে চলেছেন কেইকো ফুজিমোরি। তাঁর নেতৃত্বে পেরুর রাজনীতি কতটা স্থিতিশীল হয়, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles