Home SportsFIFA 2026 গোলের সিংহাসনে আপাতত মেসি

গোলের সিংহাসনে আপাতত মেসি

Authored By নির্ণয় চট্টোপাধ্যায়
19 views 4 minutes read
A+A-
Reset

হাইলাইটস

  • বিশ্বকাপে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন লিওনেল মেসি, গোল ১৮টি।
  • কিলিয়ান এমবাপে ১৬ গোল নিয়ে স্পর্শ করেছেন মিরোস্লাভ ক্লোসের রেকর্ড।
  • ব্যক্তিগত রেকর্ডের লড়াইও বড় তারকাদের অনুপ্রাণিত করে বলে মত এমবাপের।
  • মেসি-রোনালদোর দীর্ঘ প্রতিদ্বন্দ্বিতা দু’জনকেই আরও বড় ফুটবলার বানিয়েছে।
  • এবার একই সঙ্গে বিশ্বকাপ জয় ও গোল্ডেন বুট জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে একাধিক তারকার সামনে।

এই বিশ্বকাপের অন্যতম বড় আনন্দ হলো বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের গোলবন্যা। আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি ইতিমধ্যেই পাঁচটি গোল করেছেন। শনিবার জর্ডানের বিপক্ষে বেঞ্চ থেকে নেমেও তিনি গোলসংখ্যা আরও বাড়াতে পারেন। ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে, ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এবং নরওয়ের এরলিং হলান্ড করেছেন চারটি করে গোল। অন্যদিকে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও হ্যারি কেনের ঝুলিতে রয়েছে দুটি করে গোল।

তবে এবারের আসরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় লড়াই কেবল গোল্ডেন বুটের জন্য নয়। আরও বড় প্রতিযোগিতা হলো বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়া। টুর্নামেন্ট শুরুর পর এমবাপে ১৬ গোল করে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসের রেকর্ড স্পর্শ করেছেন। অন্যদিকে মেসি ১৮ গোল নিয়ে এককভাবে শীর্ষে উঠে গিয়েছেন।

ফুটবলে ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলা প্রায় নিষিদ্ধ বিষয়। প্রচলিত ধারণা, দলই সবকিছু, বিশেষ করে বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে। কিন্তু বাস্তবে অনেক বড় ফুটবলারই ব্যক্তিগত লক্ষ্য স্থির করেন। তাঁদের বিশ্বাস, ব্যক্তিগত সাফল্যের ক্ষুধাই দলকে জেতানোর শক্তি হয়ে উঠতে পারে।

বেশিরভাগ তারকাই এ নিয়ে মুখ খোলেন না। রোনালদো ও মেসি তো প্রায় কখনওই নয়। কিন্তু এমবাপে ব্যতিক্রম। ২০২১ সালে তিনি বলেছিলেন, “প্রত্যেক মানুষই নিজের ক্ষেত্রের সেরাদের সঙ্গে নিজেকে তুলনা করে। একজন রুটিওয়ালা যেমন দেখে, সেরা ক্রোয়াসাঁ বা সেরা পাউরুটি কে বানাচ্ছে, আমরাও তেমনই অন্য বড় ফুটবলারদের খেলা দেখি। এতে নিজের মান আরও বাড়ানোর তাগিদ তৈরি হয়।”

এমবাপের মতে, মেসির সাফল্যের পেছনেও এই প্রতিযোগিতার বড় ভূমিকা রয়েছে। ২০১৮-১৯ মৌসুমে ইউরোপের সর্বোচ্চ গোলদাতার লড়াইয়ে তিনি লক্ষ্য করেছিলেন, “আমি দুই গোল করলে মেসি তিনটি করতেন। আমি তিনটি করলে তিনি চারটি করতেন। এতটাই অবিশ্বাস্য ছিল যে আমি উসমান দেম্বেলেকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, মেসি কি ইচ্ছে করেই এটা করছেন? তিনি কি আমার গোলসংখ্যা দেখেন? দেম্বেলে বলেছিল, অবশ্যই দেখেন।”

মনে হচ্ছে সেই নজর এখনও রয়েছে। ফ্রান্সের হয়ে সেনেগালের বিপক্ষে এমবাপে দুই গোল করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেন মেসি।

এমবাপের বিশ্বাস, মেসি ও রোনালদোর দীর্ঘ প্রতিদ্বন্দ্বিতা দু’জনকেই আরও অসাধারণ করে তুলেছে। তাঁর কথায়, “মেসি রোনালদোকে আরও ভালো করেছে, রোনালদো মেসিকে আরও ভালো করেছে। একজন না থাকলে অন্যজন হয়তো এত দীর্ঘ সময় বিশ্বের সেরা হয়ে থাকতে পারতেন না।”

অবশ্য রোনালদো এ প্রসঙ্গে কথা বলতে চান না। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করার পর এক সাংবাদিক মেসি ও এমবাপের গোলসংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন শুরু করতেই তিনি অন্য সাংবাদিককে প্রশ্ন করার সুযোগ দিয়ে দেন।

বর্তমান বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার পুরস্কার গোল্ডেন বুট অবশ্য কিংবদন্তিদের মর্যাদা খুব একটা বাড়ায় না। তবে তুলনামূলক কম পরিচিত ফুটবলারদের জন্য এটি বড় সুযোগ হতে পারে। ১৯৮৬ সালে গোল্ডেন বুট জয়ের পর গ্যারি লিনেকার বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার সুযোগ পান। ২০১৪ সালে একই সাফল্যের সুবাদে কলম্বিয়ার হামেস রদ্রিগেস যোগ দেন রিয়াল মাদ্রিদে।

এর চেয়ে অনেক বেশি মর্যাদার হলো দীর্ঘ ক্যারিয়ারের রেকর্ড। বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়া মানে শুধু শীর্ষে ওঠা নয়, বছরের পর বছর সেই উচ্চতা ধরে রাখা।

টেনিস কিংবদন্তি রজার ফেদেরার ২০১৯ সালে মেসির ধারাবাহিকতা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর ভাষায়, “৬০০তম গোল করা অবিশ্বাস্য ব্যাপার। মানুষ এখন এসব রেকর্ড সম্পর্কে অনেক বেশি সচেতন, তাই আরও বেশি পরিশ্রমও করে।”

হ্যারি কেনও একই কথা বলেন। ২০১৮ সালের গোল্ডেন বুটজয়ী ইংল্যান্ড অধিনায়কের মতে, “মেসি, রোনালদো কিংবা লুকা মদরিচের মতো ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে টিকে থাকাই ভালো খেলোয়াড় আর মহান খেলোয়াড়ের মধ্যে পার্থক্য গড়ে দেয়।”

ফুটবলে এমন দীর্ঘায়ু একসময় বিরল ছিল। পেলে বা ইয়োহান ক্রুইফ ৩০ বছর পার হওয়ার পর আর কোনো বিশ্বকাপে খেলেননি। দিয়েগো ম্যারাডোনা ১৯৯৪ সালে মাত্র দুটি ম্যাচ খেলেই নিষিদ্ধ হয়েছিলেন।

অবশ্য ব্যক্তিগত রেকর্ডের নেশার নেতিবাচক দিকও আছে। অনেকের মতে, ৪১ বছর বয়সেও রোনালদোর কেন্দ্র-আক্রমণভাগে খেলে যাওয়ার অন্যতম কারণ তাঁর ব্যক্তিগত গোলের ক্ষুধা।

তবু ইতিহাস বলছে, ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা অনেক সময় দলেরও উপকার করে। বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ পাঁচ গোলদাতার প্রত্যেকেই অন্তত একবার বিশ্বকাপ জিতেছেন।

এবারের বিশ্বকাপে আরও একটি বিরল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ২০০২ সালে ব্রাজিলের রোনালদোর পর এই প্রথম একই ফুটবলার একসঙ্গে বিশ্বকাপ জয় এবং গোল্ডেন বুট জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করতে পারেন। সেই স্বপ্ন নিয়েই এগিয়ে চলেছেন মেসি, এমবাপে, হলান্ড, ভিনিসিয়ুস এবং অন্য তারকারা।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles