FIFA 2026

বিশ্বকাপের আগে বিতর্ক: ‘রাজনৈতিক’ প্রতীক সরাতে বাধ্য হল হাইতির ফুটবল দল

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • হাইলাইটস বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগে হাইতির জার্সি বদলাতে বাধ্য করল ফিফা।
  • জার্সিতে ছিল হাইতির স্বাধীনতা সংগ্রাম ও বিপ্লবের প্রতীকী চিত্র।
  • ফিফার মতে, ওই নকশার কিছু অংশ ‘রাজনৈতিক’ বলে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

হাইলাইটস

  • বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগে হাইতির জার্সি বদলাতে বাধ্য করল ফিফা।
  • জার্সিতে ছিল হাইতির স্বাধীনতা সংগ্রাম ও বিপ্লবের প্রতীকী চিত্র।
  • ফিফার মতে, ওই নকশার কিছু অংশ ‘রাজনৈতিক’ বলে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে।
  • হাইতির জার্সি প্রস্তুতকারক সংস্থা সায়েটা সিদ্ধান্তে আপত্তি জানালেও শেষ পর্যন্ত পরিবর্তন মেনে নিয়েছে।
  • একই ধরনের কারণে চলতি বছর শীতকালীন অলিম্পিকেও হাইতির পোশাক পরিবর্তন করতে হয়েছিল।

বিশ্বকাপের মঞ্চে অংশ নেওয়ার স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে হাইতির। কিন্তু সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের ঠিক আগে বড় বিতর্কের মুখে পড়েছে ক্যারিবিয়ান দেশটির ফুটবল দল। ফিফার নির্দেশে বিশ্বকাপের জন্য তৈরি নতুন জার্সি বদলাতে বাধ্য হয়েছে হাইতি, কারণ সংস্থাটির মতে জার্সির কিছু নকশা রাজনৈতিক বার্তা বহন করতে পারে।

শনিবার স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে হাইতির বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হওয়ার কথা। তার কয়েক দিন আগেই সামনে আসে এই বিতর্ক।

হাইতির ক্রীড়া সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান Saeta এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ফিফার সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করেছে এবং পর্যালোচনার সময় চাওয়া সমস্ত পরিবর্তন কার্যকর করেছে। সংস্থার বক্তব্য, তাদের উদ্দেশ্য ছিল হাইতির জনগণের গর্ব, সংগ্রাম ও স্থিতিস্থাপকতার ইতিহাসকে তুলে ধরা, কোনও রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া নয়।

সায়েটা জানায়, বহু মাস ধরে বিভিন্ন নকশা তৈরি ও সংশোধনের পর তা ফিফার অনুমোদনের জন্য জমা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পর্যালোচনার সময় ফিফা মত দেয় যে কয়েকটি দৃশ্যমান উপাদানকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা সম্ভব এবং সেগুলি ফিফার সরঞ্জামবিষয়ক নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে শেষ পর্যন্ত সেই অংশগুলি সরিয়ে ফেলতে হয়।

কী ছিল বিতর্কিত নকশা?

হাইতির জার্সিগুলি ছিল তিন রঙের—নীল (হোম), সাদা (অ্যাওয়ে) এবং লাল (তৃতীয় জার্সি)। জার্সির ডান দিকের নিচের অংশে ছিল কিছু ছায়ামূর্তি, যা হাইতির স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, Battle of Vertières এবং Haitian Revolution থেকে অনুপ্রাণিত।

১৮০৩ সালে বিপ্লবী নেতা Jean-Jacques Dessalines ফরাসি পতাকার সাদা অংশ ছিঁড়ে নতুন পতাকা তৈরি করেছিলেন। সেই পতাকাই পরবর্তীকালে স্বাধীন হাইতির জাতীয় পতাকায় রূপান্তরিত হয়। হাইতিকে প্রায়ই বিশ্বের প্রথম স্বাধীন কৃষ্ণাঙ্গ প্রজাতন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

এই ঘটনাটি হাইতির জাতীয় ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রতি বছর ১৮ মে ‘হাইতিয়ান ফ্ল্যাগ ডে’ হিসেবে উদযাপিত হয়। সেই ঐতিহাসিক স্মৃতিরই প্রতিফলন ছিল জার্সির নকশায়।

ফিফার অবস্থান

ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত ব্যাখ্যা না দিলেও সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ব্যবহৃত পোশাকে রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা বিতর্কিত বার্তা বা প্রতীক থাকা চলবে না। ফিফার ধারণা, হাইতির বিপ্লবের ওই চিত্রগুলি রাজনৈতিক অর্থ বহন করতে পারে।

ফলে বিশ্বকাপের সরকারি ফটোসেশনে তোলা সাম্প্রতিক ছবিগুলিতে দেখা যায়, হাইতির ফুটবলাররা আর সেই প্রতীকযুক্ত জার্সি পরেননি। পরিবর্তিত সংস্করণেই তারা মাঠে নামবেন।

সমর্থকদের ক্ষোভ

বিতর্কের আরেকটি দিক হলো, বিশ্বকাপের আগে বাজারে ছাড়া তিন ধরনের জার্সিই ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। সায়েটার ওয়েবসাইটে সেগুলি ইতিমধ্যে সম্পূর্ণ বিক্রি হয়ে গেছে। অথচ এখন যে সংশোধিত সংস্করণ ব্যবহার করা হবে, তার কোনও নতুন ব্যাচ বাজারে আসার ইঙ্গিত নেই।

অনেক হাইতিয়ান সমর্থকের মতে, স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসকে সম্মান জানানো কোনও রাজনৈতিক প্রচার নয়; বরং জাতীয় পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ফলে ফিফার সিদ্ধান্ত নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

এ বছর দ্বিতীয়বার

এটি চলতি বছরে দ্বিতীয় ঘটনা, যখন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থার নিয়মের কারণে হাইতিকে পোশাক পরিবর্তন করতে হয়েছে।

গত শীতকালীন অলিম্পিকে International Olympic Committee-এর নির্দেশে হাইতির স্কি দলের পোশাকও শেষ মুহূর্তে বদলাতে হয়েছিল। ইতালীয়-হাইতিয়ান ডিজাইনার Stella Jean-এর তৈরি সেই নকশাতেও একজন বিপ্লবী নেতার প্রতিকৃতি ছিল, যা অলিম্পিকের নিরপেক্ষতার নিয়মের সঙ্গে অসঙ্গত বলে মনে করা হয়েছিল।

ইতিহাস বনাম নিরপেক্ষতা

হাইতির জার্সি বিতর্ক আবারও একটি পুরনো প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে—জাতীয় ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক স্মৃতিকে কোথায় পর্যন্ত ক্রীড়াঙ্গনে তুলে ধরা যাবে? কোনও দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতীক কি রাজনৈতিক বার্তা, নাকি জাতীয় ঐতিহ্যের অংশ?

ফিফা নিরপেক্ষতার যুক্তি তুলে ধরলেও অনেকের মতে, হাইতির বিপ্লব কেবল রাজনৈতিক ঘটনা নয়; এটি দাসপ্রথার বিরুদ্ধে মানবমুক্তির এক ঐতিহাসিক সংগ্রামের প্রতীক। ফলে বিশ্বকাপের মঞ্চে সেই ইতিহাসের উপস্থিতি নিষিদ্ধ হওয়ায় বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশ্বকাপে হাইতির পারফরম্যান্স যতই গুরুত্বপূর্ণ হোক না কেন, টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই তাদের জার্সি ঘিরে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক ফুটবল বিশ্বের আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles