Home সংস্কৃতি ও বিনোদন মাইক্রো-ড্রামার বাজারে এখন রমরমা

মাইক্রো-ড্রামার বাজারে এখন রমরমা

Authored By বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক
5 views 3 minutes read
A+A-
Reset

হাইলাইটস

  • ভারতে দ্রুত বাড়ছে উল্লম্ব পর্দার (ভার্টিক্যাল) মাইক্রো-ড্রামার বাজার।
  • কয়েক মিনিটের পর্বে তৈরি হচ্ছে নতুন ধরনের বিনোদনের ভাষা।
  • তরুণ দর্শকদের অভ্যাস বদলে দিচ্ছে স্মার্টফোনভিত্তিক কনটেন্ট।
  • আগামী কয়েক বছরে এই খাতের আয় কয়েকশো মিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে বলে আশাবাদী অমিতা মাধভানি।

ভারতের ডিজিটাল বিনোদনের জগতে নীরবে এক বড় পরিবর্তন ঘটছে। সিনেমা বা দীর্ঘ ওয়েব সিরিজের পাশাপাশি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে মাইক্রো-ড্রামা—মাত্র এক থেকে তিন মিনিটের ছোট ছোট পর্বে বলা ধারাবাহিক গল্প। স্মার্টফোনের উল্লম্ব পর্দার জন্য বিশেষভাবে নির্মিত এই কনটেন্টকে ঘিরেই এখন গড়ে উঠছে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলারের সম্ভাবনাময় বাজার। হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই প্রবণতা, ব্যবসার সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন শিল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ অমিতা মাধভানি।

মাধভানির মতে, দর্শকের মনোযোগ ধরে রাখার সময় ক্রমশ কমে আসছে। মানুষ এখন যাতায়াতের সময়, অফিসের বিরতিতে কিংবা দিনের ফাঁকে কয়েক মিনিটের মধ্যেই একটি গল্প দেখতে চান। সেই চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়েই তৈরি হচ্ছে মাইক্রো-ড্রামা। এখানে প্রতিটি পর্ব ছোট হলেও পুরো সিরিজটি দর্শককে পরের পর্ব দেখার জন্য উৎসাহিত করে। তিনি বলেন, এই নতুন মাধ্যমকে কেবল ছোট ভিডিও হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি আসলে পূর্ণাঙ্গ গল্প বলার একটি নতুন ব্যাকরণ। দ্রুত গতি, তীক্ষ্ণ সংলাপ, আবেগঘন মোড় এবং প্রতিটি পর্বের শেষে কৌতূহল তৈরি করার কৌশল—এসবই এই ধারার মূল শক্তি। ফলে দর্শক একটানা বহু পর্ব দেখে ফেলছেন।

ভারতের বিশাল স্মার্টফোন ব্যবহারকারী জনসংখ্যা এবং সস্তা মোবাইল ইন্টারনেট এই বাজারকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে দ্বিতীয় ও তৃতীয় সারির শহরের দর্শকদের মধ্যে এই ধরনের কনটেন্টের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। আঞ্চলিক ভাষায় নির্মিত মাইক্রো-ড্রামাও সমান জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। ফলে শুধু হিন্দি নয়, বাংলা, তামিল, তেলুগু, মারাঠি-সহ বিভিন্ন ভাষায় নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে। মাধভানির মতে, এই মাধ্যমের আরেকটি বড় সুবিধা হল তুলনামূলক কম ব্যয়ে কনটেন্ট তৈরি করা যায়। একটি বড় ওয়েব সিরিজ বা চলচ্চিত্রের তুলনায় অনেক কম সময়ে এবং কম খরচে মাইক্রো-ড্রামা নির্মাণ সম্ভব। ফলে নতুন নির্মাতা, অভিনেতা ও চিত্রনাট্যকারদের জন্যও এটি সম্ভাবনার নতুন দরজা খুলে দিচ্ছে।

তবে তিনি সতর্কও করেছেন। শুধু ছোট দৈর্ঘ্য হলেই সফল হওয়া যায় না। গল্পের মান, অভিনয়, সম্পাদনা এবং দর্শকের সঙ্গে আবেগের সংযোগ—এসবই সমান গুরুত্বপূর্ণ। নিম্নমানের কনটেন্ট দিয়ে এই বাজার দীর্ঘমেয়াদে টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। তাই গুণগত মান বজায় রাখার ওপর তিনি বিশেষ জোর দিয়েছেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইতিমধ্যেই মাইক্রো-ড্রামা একটি বড় ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে এশিয়ার কয়েকটি বাজারে এর জনপ্রিয়তা বিস্ময়কর। ভারতের ক্ষেত্রেও একই সম্ভাবনা দেখছেন মাধভানি। তাঁর মতে, দেশের বিশাল ডিজিটাল দর্শকসমাজ, তরুণ জনসংখ্যা এবং মোবাইল-নির্ভর বিনোদনের অভ্যাস এই শিল্পকে আগামী কয়েক বছরে বহুগুণ বড় করে তুলতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতের লড়াই শুধু পর্দার আকার নিয়ে নয়, দর্শকের সময় দখল করার লড়াই। যে প্ল্যাটফর্ম সবচেয়ে কম সময়ে সবচেয়ে আকর্ষণীয় গল্প বলতে পারবে, তারাই এগিয়ে থাকবে। তাই উল্লম্ব পর্দার জন্য আলাদা ভাষা, আলাদা নির্মাণশৈলী এবং আলাদা ব্যবসায়িক কৌশল তৈরি করাই এখন শিল্পের প্রধান লক্ষ্য। বিজ্ঞাপনদাতা ও বিনিয়োগকারীরাও এই খাতের দিকে নজর বাড়াচ্ছেন। কারণ, মাইক্রো-ড্রামা দর্শকদের নিয়মিতভাবে প্ল্যাটফর্মে ফিরিয়ে আনতে পারে। এর ফলে বিজ্ঞাপন, সদস্যপদ এবং ক্ষুদ্র অর্থপ্রদানের মতো বিভিন্ন আয়ের পথও তৈরি হচ্ছে। প্রযুক্তি ও সৃজনশীলতার এই মেলবন্ধন আগামী দিনে ভারতের ডিজিটাল বিনোদন শিল্পে বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

অমিতা মাধভানির বক্তব্যে স্পষ্ট, মাইক্রো-ড্রামা কোনও ক্ষণস্থায়ী প্রবণতা নয়; বরং এটি ডিজিটাল গল্প বলার নতুন যুগের সূচনা। সিনেমা ও দীর্ঘ ধারাবাহিকের পাশাপাশি কয়েক মিনিটের শক্তিশালী গল্পও যে কোটি কোটি দর্শকের মন জয় করতে পারে, ভারতের বাজার সেই বাস্তবতার দিকেই দ্রুত এগোচ্ছে।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles