সংস্কৃতি ও বিনোদন

হেমা মালিনীর ৫৪ বছরের ‘অদ্বিতীয়া’ বাংলো: আলাদা রান্নাঘর, নাচের হল আর স্মৃতিতে ভরা এক রাজকীয় ঠিকানা

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • হাইলাইটস মুম্বইয়ের ৫৪ বছরের পুরনো বাড়ির দরজা খুলে দেখালেন ঈশা দেওল।
  • আধ্যাত্মিক গুরু শ্রী শ্রী রবিশঙ্করের দেওয়া নাম—‘অদ্বিতীয়া’, অর্থ ‘অনন্য’।
  • বাড়িতে রয়েছে হেমা মালিনীর শাস্ত্রীয় নৃত্যের জন্য আলাদা বিশাল মহড়াঘর।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

হাইলাইটস

  • মুম্বইয়ের ৫৪ বছরের পুরনো বাড়ির দরজা খুলে দেখালেন ঈশা দেওল।
  • আধ্যাত্মিক গুরু শ্রী শ্রী রবিশঙ্করের দেওয়া নাম—‘অদ্বিতীয়া’, অর্থ ‘অনন্য’।
  • বাড়িতে রয়েছে হেমা মালিনীর শাস্ত্রীয় নৃত্যের জন্য আলাদা বিশাল মহড়াঘর।
  • নিরামিষ ও আমিষ খাবারের জন্য রয়েছে সম্পূর্ণ পৃথক দুটি রান্নাঘর।
  • একটি ঘরজুড়ে সংরক্ষিত হেমা মালিনীর জীবনের দুর্লভ ছবি, পুরস্কার ও স্মৃতিচিহ্ন।

মুম্বইয়ের এই বাড়িটি বহু দশক ধরেই হেমা মালিনী ও তাঁর পরিবারের পরিচয়ের অন্যতম প্রতীক। সম্প্রতি অভিনেত্রী ঈশা দেওল জনপ্রিয় ইউটিউব চ্যানেল Curly Tales-এ সেই ঐতিহাসিক বাড়ির অন্দরমহল ঘুরিয়ে দেখান এবং জানান বহু অজানা গল্প। প্রায় ৫৪ বছর আগে কেনা এই বাংলো পরে সংস্কার করে বহুতল আবাসে রূপান্তরিত করা হয়। বর্তমানে বাড়িটির নাম ‘অদ্বিতীয়া’। ঈশা জানান, দীর্ঘদিন বাড়িটির কোনও নাম ছিল না। পরে আধ্যাত্মিক গুরু Sri Sri Ravi Shankar এই নামের প্রস্তাব দেন। সংস্কৃত শব্দ ‘অদ্বিতীয়া’-র অর্থ—যার তুলনা নেই, অনন্য।

বাড়ির প্রবেশপথেই নজর কাড়ে নতুন নামফলক। ভিতরে ঢুকলেই চোখে পড়ে হালকা রঙের মার্বেল মেঝে, বড় বড় ঝাড়বাতি, আয়নায় মোড়া দেওয়াল এবং প্রশস্ত বসার ঘর। বিশাল জানালা দিয়ে প্রাকৃতিক আলো প্রবেশ করায় গোটা বাড়ি জুড়ে তৈরি হয়েছে উজ্জ্বল ও প্রশান্ত পরিবেশ। ক্রিম রঙের সোফা, আরামকেদারা এবং যত্ন করে সাজানো শিল্পসামগ্রী বাড়িটিকে দিয়েছে এক রাজকীয় অথচ আন্তরিক আবহ। অতিথি কক্ষের এক কোণে রয়েছে দুটি বিশেষ কুশন, যাতে ছাপা রয়েছে Dharmendra ও Hema Malini-র ছবি। ঈশা মজা করে বলেন, এটাই তাঁর বাবা-মায়ের ‘নির্দিষ্ট আসন’। বাড়ির নানা প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছে পারিবারিক ছবি, চলচ্চিত্রের স্থিরচিত্র, আঁকা প্রতিকৃতি এবং অনুরাগীদের উপহার দেওয়া শিল্পকর্ম।

বাড়ির অন্যতম আকর্ষণ বিশাল একটি নৃত্য-মহড়াঘর। পালিশ করা কাঠের মেঝেওয়ালা এই ঘরটি সম্পূর্ণভাবে হেমা মালিনীর শাস্ত্রীয় নৃত্যচর্চার জন্য নির্দিষ্ট। ঈশার কথায়, জীবনের সুখ-দুঃখ সামলানোর শক্তি তাঁর মা সবসময় নাচ থেকেই পেয়েছেন। সেই শ্রদ্ধার কারণেই এই ঘরে জুতো পরে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আড্ডার ফাঁকে ঈশা নিজের জীবন সম্পর্কেও একটি অজানা তথ্য জানান। ওডিশি নাচ শেখার আগে তিনি টানা সাত-আট বছর সেন্টার-ফরোয়ার্ড হিসেবে ফুটবল খেলেছেন এবং জাতীয় দলের জন্যও নির্বাচিত হয়েছিলেন।

বাড়ির আরেকটি বিশেষ ঘর যেন হেমা মালিনীর ব্যক্তিগত সংগ্রহশালা। সেখানে সাজানো রয়েছে বিরল আলোকচিত্র, বিভিন্ন সময়ের প্রতিকৃতি, চলচ্চিত্রজীবনের স্মারক, পুরস্কার, বই এবং নানা স্মৃতিচিহ্ন। একটি ছবির দিকে দেখিয়ে ঈশা রসিকতা করে বলেন, Razia Sultan ছবির শুটিংয়ের সময় তাঁর মা তাঁকে গর্ভে ধারণ করেছিলেন। তাই সেটিকেই তিনি নিজের ‘বলিউডে অভিষেক’ বলে মনে করেন। ঈশা আরও জানান, তাঁর মা কঠোরভাবে নিরামিষভোজী। সেই কারণে হেমা মালিনীর জন্য আলাদা রান্নাঘর এবং আলাদা রাঁধুনির ব্যবস্থা রয়েছে। পরিবারের অন্য সদস্য বা অতিথিদের মধ্যে কেউ আমিষ খেলে তাঁদের জন্য সম্পূর্ণ পৃথক আরেকটি রান্নাঘরে খাবার প্রস্তুত হয়। ফলে প্রত্যেকের খাদ্যাভ্যাসের প্রতি সমান সম্মান বজায় থাকে।

শৈশবের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ঈশা বলেন, তাঁর দিদিমা Jaya Chakravarthy ছিলেন অত্যন্ত শৃঙ্খলাপরায়ণ। আধুনিক পোশাক পরা বা চুলে রং করলেই তিনি দুই নাতনিকে বকাবকি করতেন। তবে সেই কঠোরতার আড়ালে ছিল গভীর স্নেহ। মা-মেয়ের সম্পর্কও সময়ের সঙ্গে বদলেছে বলে জানান ঈশা। ছোটবেলায় শুটিংয়ের ব্যস্ততায় হেমা মালিনীকে খুব বেশি সময় কাছে পাননি। এখন তিনি নাতনিদের নিয়ে ছবি আঁকা, গান গাওয়া ও নাচে মেতে থাকেন। ঈশার দাবি, মায়ের স্পষ্টভাষী ও শৃঙ্খলাপরায়ণ স্বভাব তিনি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছেন, আর বাবা ধর্মেন্দ্রর কাছ থেকে শিখেছেন মানুষের প্রতি অগাধ ভালোবাসা ও সহমর্মিতা।

এই বাড়ির ইতিহাসও কম আকর্ষণীয় নয়। ১৯৭২ সালে Seeta Aur Geeta-এর শুটিং চলাকালীন একটি গুজরাতি পরিবারের কাছ থেকে বাংলোটি কিনেছিলেন হেমা মালিনী। পরবর্তী কয়েক দশকে একাধিক সংস্কার ও সম্প্রসারণের মধ্য দিয়ে সেটিই আজকের বহুতল, স্মৃতিমণ্ডিত ‘অদ্বিতীয়া’ হয়ে উঠেছে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles