Home খবর এসএসকেএমে স্বজনের আর্তনাদ, ধ্বংসস্তূপের নীচে হারিয়ে যাওয়া জীবনের খোঁজে অপেক্ষা—আশা ফুরোতেই বাড়ছে কান্না

এসএসকেএমে স্বজনের আর্তনাদ, ধ্বংসস্তূপের নীচে হারিয়ে যাওয়া জীবনের খোঁজে অপেক্ষা—আশা ফুরোতেই বাড়ছে কান্না

Authored By নির্ণয় চট্টোপাধ্যায়
20 views 3 minutes read
A+A-
Reset

হাইলাইটস

  • এসএসকেএম হাসপাতালে নিখোঁজ শ্রমিকদের খোঁজে উদ্বিগ্ন পরিবারগুলির ভিড়।
  • প্রথমবার কলকাতায় এসে প্রাণ হারাল ১৭ বছরের কিশোর শ্রমিক ঘি কুমার।
  • বিহারের মুঙ্গেরের একই পরিবারের ছয় সদস্য দুর্ঘটনার কবলে, এক জনের মৃত্যু, এক জন নিখোঁজ।
  • কাজে যোগ দেওয়ার প্রথম দিন থেকেই নিখোঁজ শ্যামনগরের স্বপন মণ্ডল, পরিবারের উৎকণ্ঠা চরমে।
  • মৃত ও নিখোঁজদের পরিচয় নিশ্চিত করতে হিমশিম প্রশাসন, হাসপাতাল ও দুর্ঘটনাস্থলে স্বজনদের দীর্ঘ অপেক্ষা।

স্বজনের খোঁজে এসএসকেএম হাসপাতালের করিডরজুড়ে শুক্রবার সকাল থেকেই একের পর এক উৎকণ্ঠিত মুখ। কেউ আহত প্রিয়জনের খবর জানতে ছুটছেন, কেউ আবার মর্গের সামনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন শেষবারের মতো আপনজনকে দেখার জন্য। তারাতলার গুদাম ধসের ঘটনায় উদ্ধারকাজ যত এগোচ্ছে, ততই ম্লান হচ্ছে বহু পরিবারের আশা।

মৃতদের মধ্যে রয়েছে মাত্র ১৭ বছরের ঘি কুমার। বিহারের মুঙ্গের জেলার বাসিন্দা ওই কিশোর প্রথমবারের মতো কলকাতায় এসেছিল কাজ করতে। আত্মীয়দের কথায়, কাকার সঙ্গে শহরে আসা নিয়ে সে ভীষণ উৎসাহিত ছিল। কিন্তু সেই প্রথম কলকাতা সফরই শেষ পর্যন্ত তার জীবনের শেষ যাত্রা হয়ে দাঁড়াল। মর্গের সামনে দাঁড়িয়ে এক আত্মীয় বলেন, “ও খুব খুশি ছিল কলকাতায় আসতে পেরে। কে জানত, এটাই ওর শেষ সফর হবে।”

দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে মুঙ্গেরের একটি পরিবার। গত বারো দিন ধরে ওই নির্মাণস্থলে কাজ করছিলেন একই পরিবারের ছয় সদস্য—চার ভাই, তাঁদের বাবা এবং এক খুড়তুতো ভাই। বাবা রাজেন্দ্র কুমার (৪৫) এবং তাঁর দুই ছেলে মানিকচাঁদ কুমার (২১) ও সাহিদ কুমার (২০) আহত অবস্থায় এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি। বড় ছেলে মনু কুমার (২৪) একটি বেসরকারি হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। সবচেয়ে ছোট ছেলে ঘি কুমার আর বেঁচে নেই।

পরিবারের এক সদস্য জানান, “রাত দু’টো নাগাদ মনুর ফোন পাই। সে তখনও ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে ছিল। উদ্ধারকারী দলকে খবর দিতে বলেছিল। শেষ পর্যন্ত সকাল ছ’টা নাগাদ তাকে বের করা হয়। এখন তার অবস্থা সঙ্কটজনক। কিন্তু ছোট ভাই ঘি আর নেই। আর তাদের খুড়তুতো ভাই, ১৯ বছরের শ্রীচাঁদ কুমার, এখনও নিখোঁজ।”

এসএসকেএম হাসপাতালের বাইরে আর এক করুণ অপেক্ষায় ছিলেন উত্তর ২৪ পরগনার শ্যামনগরের প্রিয়াঙ্কা মণ্ডল। তাঁর বাবা, ৫৫ বছরের স্বপন মণ্ডল, মাত্র এক দিন আগে ওই নির্মাণস্থলে কাজে যোগ দিয়েছিলেন। বুধবার ছিল তাঁর প্রথম কর্মদিবস। তারপর থেকেই আর কোনও খোঁজ নেই।

চোখে জল নিয়ে প্রিয়াঙ্কা বলেন, “আমার স্বামী দুর্ঘটনাস্থলে গিয়েছেন। আমি এখানে হাসপাতালে আছি। বারবার ফোন করে খবর নেওয়ার চেষ্টা করছি। কিন্তু আমাদের ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।” সময় যত গড়াচ্ছে, ততই আশঙ্কা বাড়ছে। কণ্ঠরুদ্ধ হয়ে তিনি বলেন, “আমার ছোট ছেলেকে কী বলব? ও তো এখনও দাদুর জন্য অপেক্ষা করছে।”

হাসপাতাল চত্বরে এমন অসংখ্য পরিবারের একই ছবি—কেউ মোবাইল ফোনে পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, কেউ উদ্ধারকারী দলের কাছ থেকে সামান্য খবরের আশায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে। কারও হাতে আহতের তালিকা, কারও হাতে নিখোঁজের নাম। প্রশাসনের তরফে পরিচয় নিশ্চিত করার কাজ চললেও অনিশ্চয়তার দীর্ঘ অপেক্ষা আরও ভারী করে তুলছে স্বজন হারানোর যন্ত্রণা।

তারাতলার গুদাম ধস শুধু বহু শ্রমিকের প্রাণই কেড়ে নেয়নি, ভেঙে দিয়েছে বহু পরিবারের ভবিষ্যতের স্বপ্নও। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকলেও এসএসকেএম হাসপাতালের করিডরে এখনও একটাই প্রশ্ন ঘুরে বেড়াচ্ছে—আরও কতজন ফিরবেন, আর কতজনের অপেক্ষা শেষ হবে শুধুই শোকের সংবাদে?

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles