হাইলাইটস:
- মেক্সিকো–চেকিয়া বিশ্বকাপ ম্যাচের দিন মেক্সিকো সিটির গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মদ বিক্রি বন্ধ।
- দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে জয়ের পর প্রায় ৬ লক্ষ মানুষের উচ্ছ্বাসে ভরে উঠেছিল রাজধানী।
- রাস্তার মদ্যপান ও বিশৃঙ্খলা ঠেকাতেই এই পদক্ষেপ।
- রেস্তোরাঁ ও বারে বসে মদ্যপানে নিষেধাজ্ঞা নেই।
- ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ঐতিহাসিক Estadio Azteca-এ।
মেক্সিকো বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে দেশের ফুটবলপ্রেমীদের নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছে। সেই উন্মাদনার মধ্যেই বুধবার চেকিয়ার বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচকে সামনে রেখে কঠোর পদক্ষেপ নিল Mexico City প্রশাসন। শহরের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অস্থায়ীভাবে মদ বিক্রি নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
গত সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে মেক্সিকোর জয়ের পর রাজধানীতে নজিরবিহীন উদ্যাপন দেখা গিয়েছিল। শহর প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, শুধু Angel of Independence চত্বরে প্রায় চার লক্ষ মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। পাশাপাশি Zócalo স্কোয়ারেও প্রায় দুই লক্ষ সমর্থক উৎসবে সামিল হন। রাতভর চলা সেই উদ্যাপনের পরে শহর পরিষ্কার করতে প্রায় ৪০ টন আবর্জনা সরাতে হয়েছিল।
যদিও বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা বা সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি ঘটেনি, তবুও প্রশাসন মনে করছে যে পরবর্তী ম্যাচে আরও বড় জনসমাগম হতে পারে। তাই রাস্তার মদ্যপান নিয়ন্ত্রণে রাখতে বুধবার বিকেল থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত নির্দিষ্ট এলাকায় মদ বিক্রি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মেয়র Clara Brugada জানিয়েছেন, লক্ষ্য হলো জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং উৎসবের আবহ বজায় রেখেও সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়ানো। সুপারমার্কেট, মুদি দোকান ও খুচরো বিক্রেতারা এই সময়ে মদ বিক্রি করতে পারবেন না। তবে রেস্তোরাঁ ও বারের ভেতরে বসে মদ্যপানের ক্ষেত্রে কোনো নিষেধাজ্ঞা থাকছে না।
বুধবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মেক্সিকো–চেকিয়া ম্যাচকে ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। গ্রুপ ‘এ’-এর শীর্ষস্থানে উঠে ইতিমধ্যেই শেষ ৩২-এ জায়গা নিশ্চিত করেছে মেক্সিকো। ফলে সমর্থকদের প্রত্যাশা আরও বেড়েছে। শহর প্রশাসনও মনে করছে, দলের সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে উদ্যাপনের মাত্রা আগের চেয়েও বেশি হতে পারে।
বিশ্বকাপ আয়োজক দেশ হিসেবে মেক্সিকোর সামনে শুধু মাঠের সাফল্য নয়, বিপুল জনসমাগম সামলানোরও বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তাই প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে অনেকেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে দেখছেন। ফুটবল উৎসব যেন আনন্দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়, সেটাই এখন মেক্সিকো সিটির প্রধান লক্ষ্য।