হাইলাইটস
- চেকিয়ার বিরুদ্ধে ১-১ ড্র করে নকআউটের আশা বাঁচিয়ে রাখল দক্ষিণ আফ্রিকা।
- ৮৩ মিনিটে তেবোহো মোকোয়েনার পেনাল্টি থেকে আসে সমতাসূচক গোল।
- পাভেল সুল্কের হ্যান্ডবলের কারণে পেনাল্টি পায় দক্ষিণ আফ্রিকা।
- ম্যাচের পর স্টেডিয়াম ও খেলার ধরন নিয়ে চেকিয়াকে কটাক্ষ করেন কোচ হুগো ব্রুস।
- শেষ ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়াকে হারাতে পারলেই পরের পর্বে ওঠার সুযোগ থাকবে দক্ষিণ আফ্রিকার।
বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য যেন সবকিছুই ক্রমশ অন্ধকার হয়ে উঠছিল। প্রথম ম্যাচে মেক্সিকোর কাছে ০-২ হারের পর চেকিয়ার বিরুদ্ধেও যখন তারা ০-১ পিছিয়ে, তখন মনে হচ্ছিল বিদায়ের ঘণ্টা বেজে গিয়েছে। কিন্তু মাত্র সাত মিনিটের এক নাটকীয় মোড় তাদের টুর্নামেন্টে বাঁচিয়ে রাখল।
ম্যাচের আগে দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ হুগো ব্রুস জানিয়েছিলেন, বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জনের পর এক বন্ধু নাকি বলেছিলেন তাঁর মূর্তি তৈরি করা হবে। উত্তরে ব্রুস বলেছিলেন, “কাঠের মূর্তি বানিও, তাহলে প্রয়োজনে সহজে পুড়িয়ে ফেলা যাবে।” সমালোচনার ঝড় যে কতটা তীব্র ছিল, সেই মন্তব্যেই তার আভাস মিলেছিল।
চেকিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচেও দীর্ঘ সময় ধরে সেই সমালোচনা আরও বাড়ারই সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু ৮৩ মিনিটে পাভেল সুল্কের দুর্ভাগ্যজনক হ্যান্ডবলের ফলে পেনাল্টি পায় দক্ষিণ আফ্রিকা। তেবোহো মোকোয়েনা স্নায়ুর চাপ সামলে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান। জাতীয় সঙ্গীত চলাকালীন যার চোখে জল দেখা গিয়েছিল, গোলের পর সেই মোকোয়েনার উচ্ছ্বাসই যেন দক্ষিণ আফ্রিকার পুনর্জন্মের প্রতীক হয়ে ওঠে।
১-১ ড্র হয়তো আদর্শ ফল নয়, ম্যাচটিও খুব উচ্চমানের ছিল না। তবু এই এক পয়েন্ট দক্ষিণ আফ্রিকাকে নতুন জীবন দিয়েছে। ম্যাচ শেষে ব্রুস বলেন, তাঁর দল “ভালো ফুটবল” খেলেছে এবং সুযোগও তৈরি করেছে। একই সঙ্গে আটলান্টার স্টেডিয়াম নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
ব্রুসের বক্তব্য, “শুধু ঘাসটাই ফুটবল, বাকি সব নয়। আজটেকা স্টেডিয়ামের সঙ্গে তুলনা করলে পার্থক্য বোঝা যায়। আমি আসল ফুটবল স্টেডিয়াম পছন্দ করি। গরমে পানীয় বিরতি দরকার, কিন্তু অন্য সময়ে তা খেলার ছন্দ নষ্ট করে।”
এতেই থামেননি দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ। চেকিয়ার খেলার ধরন নিয়েও কটাক্ষ করে বলেন, “ওরা ফুটবল খেলতে বা পাসিং ফুটবল খেলতে ভালোবাসে না। ওদের খেলা খুব সরাসরি, আর প্রায় সবাই ছয় ফুট তিন ইঞ্চিরও বেশি লম্বা। আপনি যদি ফুটবল ভালোবাসেন, তাহলে আজ আমাদের খেলাই বেশি উপভোগ করবেন।”
চেকিয়া কোচ মিরোস্লাভ কৌবেক অবশ্য পাল্টা জবাব দিতে ভোলেননি। তাঁর বক্তব্য, “ওটা ওঁর মতামত। আমার মত আলাদা। গোলের সুযোগের হিসাব করলে জয়ের কাছাকাছি ছিলাম আমরাই।”
ফলে দুই দলই এখনও প্রতিযোগিতায় টিকে রইল। দক্ষিণ আফ্রিকা যদি শেষ ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়াকে হারাতে পারে, তবে নকআউট পর্বে ওঠার সুযোগ থাকবে। যদিও দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখায় সেই ম্যাচে খেলতে পারবেন না মোকোয়েনা। অন্যদিকে মেক্সিকোর বিরুদ্ধে জিততে পারলে চেকিয়াও শেষ ষোলোয় পৌঁছে যাবে।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ছিল পুরোপুরি চেকিয়ার দখলে। খেলা শুরু হওয়ার মাত্র ৪৫ সেকেন্ডের মধ্যেই প্যাট্রিক শিক গোলের সুযোগ নষ্ট করেন। তবে পাঁচ মিনিটের মাথায় আর ভুল করেনি চেকিয়া।
একটি থ্রো-ইন থেকে আক্রমণ গড়ে ওঠে। আদাম হ্লোজেক ডান দিক দিয়ে উঠে বল বাড়ান বক্সের মধ্যে। খুলিশো মুদাউ দ্বিধায় পড়ে যাওয়ায় বল চলে যায় আলেকসান্দর সইকার কাছে। সইকা এক চমৎকার টাচে মুদাউকে খেলার বাইরে সরিয়ে দিয়ে বল বাড়ান মিখাল সাদিলেকের কাছে। সাদিলেক সহজেই জালে বল জড়িয়ে চেকিয়াকে এগিয়ে দেন।
এরপর দীর্ঘ সময় ম্যাচে উত্তেজনার অভাব ছিল। কিন্তু শেষ দিকে সুল্কের হ্যান্ডবল এবং মোকোয়েনার নিখুঁত পেনাল্টি সব হিসাব পাল্টে দেয়। বিশ্বকাপে বেঁচে থাকার লড়াইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা অন্তত আপাতত আগুনে পোড়া সেই কাঠের মূর্তি হওয়া থেকে বেঁচে গেল।