বিশ্বকাপ স্বপ্নে বুঁদ গোটা কলকাতা, রাত জেগে ছেলে বুড়ো সকলেই দেখছেন ফুটবল ম্যাজিক। ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার অভিযানও শুরু হয়েছে চমৎকার ভাবে। মাঠ কাঁপিয়ে একের পর এক ইতিহাস তৈরি করার পথে কিলিয়ন এমবাপে, লিও মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো, নেইমার। ফুটবলের রাজপুত্র মেসি ইতিমধ্যেই আলজিরিয়ার বিরুদ্ধে ৩-০ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে আবার উঠে এসেছেন শিরোনামে।
একদিকে মেসি যখন গোটা বিশ্বসহ কলকাতার স্যালুট আদায় করছেন ফুটবলের ময়দানে, অন্যদিকে তখন মেসির টিম কলকাতায় ঘটে যাওয়া অসভ্যতা এবং হেনস্থার অভিযোগ জানিয়ে চিঠি পাঠাল বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের কাছে।
১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, মেসির কলকাতায় আগমনকে ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। ফুটবলের রাজপুত্রকে এক ঝলক দেখার জন্য হাজার হাজার টাকা খরচ করে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে উপস্থিত হয়েছিলেন ফুটবল পাগল ফ্যানেরা। GOAT India Tour 2025 এর উদ্যোগে কলকাতা, দিল্লী, হায়দ্রাবাদ এবং মুম্বাইতে মেসি এসেছিলেন। দিল্লি, হায়দ্রাবাদ এবং মুম্বাইতে মেসিকে যথেষ্ট সাবলীল দেখা গেলেও কলকাতায় অত্যন্ত অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয় এই ফুটবল তারকাকে।
কলকাতায় যেদিন মেসি এসেছিলেন, তাকে একনজর দেখার জন্য হাজার হাজার ভক্তের ভিড় হয়েছিল মাঠে। তবে আগত দর্শক তথা GOAT India Tour 2025 এর এই উদ্যোগের বন্দোবস্ত করা শতদ্রু দত্তের অভিযোগ তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং তার আত্মীয় এবং সঙ্গীরা এমনভাবে মেসিকে ঘিরে রেখেছিলেন যে দর্শকরা দেখতেই পাননি তাদের স্বপ্নের তারকাকে। এই নিয়ে বিস্তর ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন তারা। দর্শকের ক্ষোভের প্রভাবে সাজানো যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।
পরবর্তীকালে অরূপ বিশ্বাসের মেসির সঙ্গে একটি ছবি ভাইরাল হয়েছিল যেখানে দেখা গেছে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী মেসির পেটে কোমরে এবং কাঁধে হাত রাখছেন। শতদ্রু দত্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই ঘটনার ভিডিও শেয়ার করেছেন এবং বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রায় ভাইরাল হয়ে গিয়েছিল মেসিকে জড়িয়ে ধরা অরূপ বিশ্বাসের বেশ কিছু ছবি।
মেসি কাণ্ড নিয়ে এর আগে থানা পুলিশ হয়েছে। মামলা পৌঁছেছে আদালতেও। শতদ্রু দত্ত বারবার দাবি করেছেন ঘটনার দিন বিশৃঙ্খলার জন্য দায়ী ছিলেন প্রাক্তন ক্রীড়া মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। সূত্রের খবর এবার মেসির টিমের পক্ষ থেকে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট এর কাছে যে ই মেইল এসেছে সেখানেও দায়ভার চাপানো হয়েছে অরূপের নামেই। সংশ্লিষ্ট চিঠিতে লেখা হয়েছে, প্রটোকল অনুযায়ী লিওনেল মেসিকে সকলে স্পর্শ করতে পারেন না। মেসিকে দেখা যায়, কিন্তু ছোঁয়া যায়না। প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের আচরণ পূর্বনির্ধারিত প্রোটকলের বাইরে ছিল বলে অভিযোগ জানানো হয়েছে এই চিঠিতে।
তাছাড়াও, নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অভিযোগ প্রটোকল অনুযায়ী সেখানে নির্দিষ্ট এলাকায় তিনজন মাত্র সরকারি ফটোগ্রাফারের থাকার কথা ছিল। অথচ সেখানে প্রায় ৪০ জনকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়েছে, যাদের অনেকের কাছেই বৈধ অনুমতি বা পাস ছিল না।
মেসির টিমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধস্তাধস্তিতে রীতিমত অস্বস্তিতে পড়েন মেসি এবং তার সঙ্গীরা। এই অতিরিক্ত ভিড় এবং বিশৃঙ্খলার জন্যই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। ফলে বিরক্ত হয়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই মেসিক অনুষ্ঠান স্থল ছাড়তে হয়।
ইতিমধ্যেই মেসি কান্ড নিয়ে যথেষ্ট বিপদের মধ্যে রয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। এবার খোদ মেসির টিমের পক্ষ থেকে এই চিঠি তার বিপদ আরো বাড়ালো বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। 