হাইলাইটস
- ডিআর কঙ্গোর বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডোর ষষ্ঠ ও সম্ভবত শেষ বিশ্বকাপ।
- ৪১ বছর বয়সী রোনাল্ডোকে ঘিরেই পর্তুগালের বিশ্বকাপ স্বপ্ন, তবে প্রশ্ন উঠছে তাঁর বর্তমান কার্যকারিতা নিয়ে।
- পর্তুগালের মিডফিল্ড ও আক্রমণভাগকে এবারের আসরের অন্যতম শক্তিশালী বলে মনে করা হচ্ছে।
- কোচ রবার্তো মার্তিনেজের মতে, রোনাল্ডো এখনও দলের ‘কিলার’ এবং অপরিহার্য সদস্য।
- হিউস্টনে রোনাল্ডোর উপস্থিতি ঘিরে তুমুল উন্মাদনা, টিকিটের দাম আকাশছোঁয়া।
ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডোর বিশ্বকাপ যাত্রা যেন শেষ অধ্যায়ে পৌঁছে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে শুরু হতে চলেছে তাঁর ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। আন্তর্জাতিক ফুটবলের অন্যতম দীর্ঘ ও আলোচিত কাহিনির সমাপ্তির দিকে এগোচ্ছে বিশ্ব। আর সেই গল্পের কেন্দ্রে রয়েছেন রোনাল্ডো—একজন কিংবদন্তি, যিনি এখনও পর্তুগালের স্বপ্নের প্রতীক।
তবে প্রশ্নও কম নয়। এই পর্তুগাল দলকে অনেকেই সাম্প্রতিক সময়ের সেরা পর্তুগাল বলে মনে করছেন। মাঝমাঠে ভিতিনিয়া ও ব্রুনো ফার্নান্ডেজ, অভিজ্ঞ রক্ষণভাগ এবং গতিশীল উইঙ্গারদের নিয়ে দলটি যথেষ্ট ভারসাম্যপূর্ণ। কিন্তু আক্রমণের কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে আছেন ৪১ বছর বয়সী রোনাল্ডো। তিনি কি এখনও ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করতে সক্ষম, নাকি তাঁর উপস্থিতিই দলের স্বাভাবিক ছন্দে বাধা হয়ে দাঁড়াবে—সেটাই বড় প্রশ্ন।
ইউরো ২০২৪-এ রোনাল্ডোর পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনা কম হয়নি। ফ্রান্সের বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালে তাঁকে অনেকটাই নিষ্ক্রিয় দেখিয়েছিল। কাতার বিশ্বকাপেও শেষ ষোলোয় তাঁকে বাদ দেওয়ার পর সুইৎজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ছয় গোল করেছিল পর্তুগাল। ফলে সমালোচকদের একাংশের মতে, রোনাল্ডোর সেরা সময় পেরিয়ে গেছে।
তবু তাঁর আকর্ষণ অমলিন। ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি যোগ্যতা অর্জন পর্বে আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে লাল কার্ডের জন্য পাওয়া তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার শেষ দুটি ম্যাচ মকুব করে দেওয়ায় তিনি বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেই খেলতে পারছেন। ফলে হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে তাঁকে ঘিরে এক বিরাট উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে।
ডিআর কঙ্গোর কোচ সেবাস্তিয়ান দেশাব্রে রোনাল্ডোকে নিয়ে যথেষ্ট সতর্ক। তাঁর কথায়, “ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় তিনি। আমাদের ডিফেন্ডারদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে সেট-পিসে তিনি এখনও অসাধারণ।”
পর্তুগালের বর্তমান প্রজন্মের ফুটবলারদের কাছেও রোনাল্ডো এক অনুপ্রেরণার নাম। ম্যানচেস্টার সিটির মিডফিল্ডার মাতেউস নুনেস বলেছেন, “রোনাল্ডোর সঙ্গে খেলব, এটা কখনও কল্পনাও করিনি। তাঁর জন্য যদি আমরা বিশ্বকাপ জিততে পারি, সেটা হবে অসাধারণ এক অর্জন।”
ব্রুনো ফার্নান্ডেজও একই সুরে কথা বলেছেন। তাঁর মতে, রোনাল্ডোর সঙ্গে মাঠ ভাগ করে নেওয়া এখনও এক বিরাট সম্মানের বিষয়। ২০০৪ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে রোনাল্ডোকে খেলতে দেখেই তিনি ফুটবলের প্রেমে পড়েছিলেন।
পর্তুগালের কোচ রবার্তো মার্তিনেজ অবশ্য রোনাল্ডোর সমালোচনায় কান দিতে রাজি নন। তিনি বলেন, “এটা তাঁর ষষ্ঠ বিশ্বকাপ, কিন্তু দলের ভেতরে তাঁর আবেগ, তীব্রতা আর প্রস্তুতি দেখে মনে হয় যেন প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে চলেছেন। তিনি আমাদের স্ট্রাইকার, গোলদাতা এবং অন্যদের জন্য জায়গা তৈরি করে দেন।”
মার্তিনেজ আশা করছেন, ২০২৪-২৫ নেশনস লিগে শক্তিশালী প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে যে রোনাল্ডো ছয় গোল করেছিলেন, সেই রূপই আবার দেখা যাবে। যদিও প্রস্তুতির পথে কিছু বাধাও এসেছে। ঝড়-বৃষ্টির কারণে রবিবার দলের অনুশীলন বাতিল করতে হয়েছিল। আবার সমুদ্রসৈকতে সময় কাটানো নিয়ে দেশে সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছে দলকে।
এর মধ্যে ডিফেন্ডার রুবেন দিয়াস চোটের কারণে আলাদা অনুশীলন করেছেন এবং কঙ্গোর বিরুদ্ধে তাঁকে বিশ্রাম দেওয়া হতে পারে।
তবে বুধবার সব আলো আবার ফিরে যাবে রোনাল্ডোর ওপরেই। ২০১৪ সালের পর এই প্রথম তিনি যুক্তরাষ্ট্রে কোনও প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলতে নামছেন। তাঁর শেষ বিশ্বকাপ অভিযান দেখতে হিউস্টনে দর্শকদের উন্মাদনা তুঙ্গে। ম্যাচের আগের দিন পুনর্বিক্রয় বাজারে সবচেয়ে সস্তা টিকিটের দামও ছিল প্রায় ১,২৫০ ডলার।
রোনাল্ডোকে ঘিরে এই উন্মাদনা অবশ্য শুধু পর্তুগালের নয়, গোটা বিশ্ব ফুটবলের। তিনি কি শেষবারের মতো নিজের জাদু দেখিয়ে পর্তুগালকে প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন? নাকি সময়ের নির্মম বাস্তবতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে? সেই উত্তর খুঁজতেই আজ মাঠে নামছে পর্তুগাল।