প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর আমলে ঈদের নামাজের জন্য বছরে দু বার বন্ধ করা হতো রেড রোড। ঈদ উল ফিতর এবং ঈদ উল আধা এই দুই উৎসবে ই রেড রোড বন্ধ করে নামাজ পড়া হতো। কিন্তু এখন সময় বদলেছে। ঈদের নামাজ রেড রোডে নয়, পড়া হয়েছিল ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে। ১৫ বছরে প্রথমবার এমন ঘটনা দেখেছিলো রাজ্যবাসী।
কিন্তু এবার একরকম উলট পুরান হতে চলেছে। কারণ রেড রোড আপাতত সাত দিনের জন্য থাকবে বন্ধ। কারণ সেই রেড রোডেই চলতি বছরের যোগ দিবসের কর্মসূচি পালন করা হবে যেখানে উপস্থিত হবেন খোদ দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গত বছর অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন মোদী। তবে এ বছর বাংলা হট ফেভারিট লিস্টে। বাংলার সংস্কৃতি থেকে বাংলার ঝালমুড়ি, সবেতেই এবার মোদী টাচ। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে জিতে নেওয়া পশ্চিমবঙ্গকেই তাই চলতি বছরে যোগ দিবসের জন্য বেছে নিয়েছেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। আগামী শনিবারই রাজ্যে আসছেন প্রধানমন্ত্রী। রবিবার “আন্তর্জাতিক যোগ দিবস” এর অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন রেড রোডে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। যোগ দেবেন আরও বহু মানুষ।
যেহেতু কলকাতায় হবে এই অনুষ্ঠান, তাই এই কর্মসূচির জন্য আগামী ৭ দিনের জন্য বন্ধ রাখা হচ্ছে এই রাস্তা। গত রবিবার অর্থাৎ ১৪ জুন থেকে আগামী রবিবার ২১ জুন পর্যন্ত বন্ধ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে রেড রোড।ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে মঞ্চ নির্মাণের কাজ।
কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ ইতিমধ্যেই এক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে। জানিয়েছেন আগামী রবিবার যোগ দিবসের কর্মসূচি শেষ না হওয়া পর্যন্ত মেয়ো রোডে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকবে। ইতিমধ্যেই এজেসি বোস রোড, মৌলালীর মোড়, সেন্ট জর্জেস গেট রোড ধরে দক্ষিণমুখী যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। যোগ দিবসের কর্মসূচি শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই রাস্তাগুলিতে পণ্যবাহী যান চলাচল বন্ধ থাকবে। স্ট্র্যান্ড রোড থেকে সি আর অ্যাভিনিউ, দক্ষিণে জিসি অ্যাভিনিউতেও একই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকছে। অন্যদিকে জহরলাল নেহেরু রোডের দুদিকেই পণ্যবাহী যান চলাচল বন্ধ রাখা হবে এই সময়ের জন্য। তবে যোগ দিবসের কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার জন্য যে গাড়িগুলি আসবে সেগুলি মেয়ো রোড ধরে যেতে পারবে।
অন্যদিকে শনিবার, ২০ জুন রাত দুটো থেকে যোগ দিবসের কর্মসূচি শেষ না হওয়া পর্যন্ত কলকাতার বেশ কিছু রাস্তার যান চলাচল বন্ধ রাখা হবে। এর মধ্যে রয়েছে হসপিটাল রোড (পূর্ব – পশ্চিম), লাভার্স লেন, ক্যাসুরিনা অ্যাভিনিউ, খিদিরপুর রোড (ঘোড়া পাস থেকে জে এবং এন আইল্যান্ড পর্যন্ত), আর আর অ্যাভিনিউ ( ওয়াই রোড অনলাইন থেকে গভর্নমেন্ট প্লেস পশ্চিম পর্যন্ত), গোষ্ঠ পাল সরণি, কুইন্স ওয়ে, পলাশী গেট রোড, ডাফরিন রোড এবং আউট্রাম রোড।
কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী রবিবার ডালহৌসি এবং হাওড়ামুখী বাসগুলিকে বেলভেডিয়ার রোড এবং এইচএসসি বোস রোড দিয়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হবে। উত্তরমুখী গাড়িগুলিকে ডাফরীন রোড – মেয়ো রোড ধরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে। দক্ষিণমুখী যানবাহন রেড রোড এড়িয়ে ডাফরিন রোড ধরে যাবে। তারপরেও পরিস্থিতির বিচার বিবেচনা করে ট্রাফিক পুলিশ গাড়িগুলোকে অপেক্ষাকৃত ছোট রাস্তা দিয়েও ঘুরিয়ে দিতে পারে।
যদিও এই বিষয়ে ইতিমধ্যেই বিরোধী দলের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তবে ওয়াকিবহাল মহল এখানে অন্যরকম রাজনৈতিক গন্ধ পাচ্ছেন। বিজেপি মূলত হিন্দুত্বের উপর ভর করেই পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় এসেছে। সেখানে যে রেড রোডে গত ১৫ বছর ধরে সংখ্যালঘুদের অনুষ্ঠানে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী ক্রমাগত বিজেপি তথা হিন্দুত্বের ওপর আক্রমণ শানিয়েছেন, রেড রোডের এই আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালন সেই আক্রমণেরই পাল্টা উত্তর বলে মনে করছেন রাজনীতিবিদরা। সরাসরি আক্রমণ নয়, তবে রেড রোডে ঈদের নামাজের বদলে হিন্দু শাস্ত্রে উল্লিখিত যোগব্যায়াম, নবনির্বাচিত সরকারের মধুর প্রতিশোধই বটে।
