হাইলাইটস
- আমেরিকা-ইরান শান্তি চুক্তির খবরে বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে জোরদার উত্থান।
- প্রাথমিক লেনদেনেই সেনসেক্স বেড়েছে ১,১১২ পয়েন্টের বেশি।
- নিফটি উঠে গিয়েছে ২৩,৯৫৬ পয়েন্টে।
- অপরিশোধিত তেলের দামে বড় পতন বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
- বিমান, অবকাঠামো ও আর্থিক খাতের শেয়ারে সবচেয়ে বেশি কেনাবেচা হয়েছে।
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি এবং শান্তি চুক্তির খবর সামনে আসতেই সোমবার ভারতীয় শেয়ারবাজারে দেখা গেল শক্তিশালী উত্থান। বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা বাড়ায় মুম্বইয়ের বাজারও সেই ইতিবাচক আবহে ভেসে যায়। প্রাথমিক লেনদেনেই ৩০ শেয়ারের সেনসেক্স ১,১১২.৭০ পয়েন্ট বেড়ে ৭৬,৬৪৮.৭৪-এ পৌঁছে যায়। একই সময়ে ৫০ শেয়ারের নিফটি ৩৩৫.৫৫ পয়েন্ট বেড়ে ২৩,৯৫৬.৪০ স্পর্শ করে।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উত্থানের প্রধান কারণ পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা হ্রাস। গত কয়েক মাস ধরে আমেরিকা-ইরান সংঘাতের জেরে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ঘিরে অনিশ্চয়তার কারণে তেলের দাম দ্রুত বেড়েছিল। কিন্তু শান্তি চুক্তির ফলে সেই আশঙ্কা অনেকটাই কমেছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৪ থেকে ৫ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ৮৩ ডলারের আশপাশে নেমে এসেছে।
ভারতের মতো তেল আমদানিনির্ভর অর্থনীতির জন্য এটি অত্যন্ত ইতিবাচক খবর। তেলের দাম কমলে আমদানি ব্যয় হ্রাস পায়, মূল্যস্ফীতির চাপ কমে এবং সরকারের আর্থিক ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ হয়। সেই কারণেই বিনিয়োগকারীরা বাজারে নতুন করে কেনাকাটা শুরু করেছেন।
সকালের লেনদেনে ইন্টারগ্লোব অ্যাভিয়েশন (ইন্ডিগো), বাজাজ ফিনান্স, বাজাজ ফিনসার্ভ, আল্ট্রাটেক সিমেন্ট, লার্সেন অ্যান্ড টুবরো এবং অন্যান্য বড় সংস্থার শেয়ারে উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা যায়। বিমান পরিবহণ সংস্থাগুলি বিশেষভাবে লাভবান হয়েছে, কারণ তেলের দাম কমলে তাদের জ্বালানি খরচও কমে যায়।
শুধু ভারত নয়, এশিয়ার অন্যান্য বাজারেও উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং অন্যান্য প্রধান বাজারে সূচকগুলি শক্তিশালী উত্থান নথিভুক্ত করেছে। একই সঙ্গে ভারতীয় মুদ্রা টাকাও ডলারের তুলনায় শক্তিশালী হয়েছে এবং সরকারি বন্ডের ফলন কমেছে, যা অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক সংকেত বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি আমেরিকা-ইরান শান্তি প্রক্রিয়া সফলভাবে এগোয় এবং হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে স্বাভাবিকভাবে খুলে যায়, তাহলে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে আরও স্থিতিশীলতা আসতে পারে। সেক্ষেত্রে ভারতীয় শেয়ারবাজারে বর্তমান ইতিবাচক ধারা আরও কিছুদিন বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে চুক্তির বাস্তবায়ন এবং ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক আলোচনার দিকে নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা।