হাইলাইটস
- আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে কলকাতার রেড রোডে বিশাল কর্মসূচির সম্ভাবনা।
- প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রায় ৩০ হাজার মানুষের সঙ্গে যোগাভ্যাসে অংশ নিতে পারেন।
- কেন্দ্র ও রাজ্য প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে নিরাপত্তা ও পরিকাঠামোগত প্রস্তুতি জোরদার।
- দেশের বিভিন্ন শহরের পাশাপাশি কলকাতাও এবার যোগ দিবসের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হতে চলেছে।
বাংলাস্ফিয়ার: আন্তর্জাতিক যোগ দিবসকে ঘিরে এ বছর কলকাতার রেড রোডে নজিরবিহীন আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২১ জুনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে প্রায় ৩০ হাজার মানুষের সঙ্গে সম্মিলিত যোগাভ্যাসে অংশ নিতে পারেন। চূড়ান্ত সূচি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না হলেও, কেন্দ্র ও রাজ্য প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে।
রেড রোড দীর্ঘদিন ধরেই কলকাতার বড় সরকারি অনুষ্ঠান ও কুচকাওয়াজের অন্যতম কেন্দ্র। বিস্তীর্ণ খোলা জায়গা এবং বিপুল মানুষের সমাগমের উপযোগী পরিকাঠামোর কারণে যোগ দিবসের মূল কর্মসূচির জন্য এই স্থানকেই বেছে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আয়োজকদের আশা, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ৩০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
২০১৫ সালে প্রথম আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালনের পর থেকে প্রতি বছরই প্রধানমন্ত্রী দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে এই অনুষ্ঠানের নেতৃত্ব দিয়েছেন। এর আগে তিনি শ্রীনগর, মাইসোর, দেরাদুন-সহ একাধিক শহরে যোগ দিবসের কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হতে পারে কলকাতা। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পূর্ব ভারতের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে কলকাতাকে বেছে নেওয়ার মধ্যে একটি প্রতীকী বার্তাও রয়েছে।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, অংশগ্রহণকারীদের জন্য বিশেষ প্রবেশপথ, চিকিৎসা শিবির, পানীয় জল, বিশ্রাম এলাকা এবং জরুরি পরিষেবার ব্যবস্থা রাখা হবে। পাশাপাশি বিশাল সংখ্যক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বহুস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থার পাশাপাশি কলকাতা পুলিশ এবং অন্যান্য বাহিনীও মোতায়েন থাকবে।
যোগ দিবস উপলক্ষে শহরের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, ক্রীড়া সংস্থা, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সামাজিক প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কয়েক সপ্তাহ ধরেই বিভিন্ন জায়গায় অনুশীলন শিবির চলছে। অংশগ্রহণকারীদের জন্য নির্দিষ্ট যোগাসনের তালিকা এবং সময়সূচিও প্রস্তুত করা হচ্ছে। আয়ুষ মন্ত্রকের নির্দেশিকা অনুযায়ী ‘কমন যোগা প্রোটোকল’-এর ভিত্তিতেই মূল অনুষ্ঠান পরিচালিত হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যোগ কেবল শরীরচর্চা নয়; এটি মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি, চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং সামগ্রিক সুস্থতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। করোনার পরবর্তী সময়ে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যেও যোগাভ্যাসের জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস এখন শুধু একটি সরকারি অনুষ্ঠান নয়, বরং একটি গণ-আন্দোলনের রূপ নিয়েছে।
রাজনৈতিক দিক থেকেও এই কর্মসূচি তাৎপর্যপূর্ণ। পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর কলকাতা সফরকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই আগ্রহ তৈরি হয়েছে। যদিও অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য স্বাস্থ্য ও সুস্থতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া, তবু এত বড় জনসমাগম রাজনৈতিক মহলেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
আয়োজকদের মতে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে রেড রোডে এটাই হতে পারে কলকাতার ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম সম্মিলিত যোগাভ্যাস কর্মসূচি। সূর্যোদয়ের পরপরই শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বয়সের মানুষ অংশ নেবেন। ছাত্রছাত্রী, প্রবীণ নাগরিক, ক্রীড়াবিদ, সরকারি কর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ—সকলের জন্যই দরজা খোলা থাকবে।
আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল বার্তা হল সুস্থ শরীর, স্থির মন এবং সুষম জীবনযাপন। সেই বার্তাকেই সামনে রেখে ২১ জুনের কলকাতা প্রস্তুত হচ্ছে এক বিশাল গণ-উৎসবের জন্য, যার কেন্দ্রে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী এবং হাজার হাজার যোগপ্রেমী নাগরিক। রেড রোডে সেই সকাল তাই শুধু শরীরচর্চার অনুষ্ঠান নয়, বরং স্বাস্থ্য, শৃঙ্খলা ও সম্মিলিত অংশগ্রহণের এক বড় প্রতীক হয়ে উঠতে চলেছে।