Table of Contents
হাইলাইটস
- কিয়েভে রাশিয়ার ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা।
- ইউনেস্কো ঐতিহ্যবাহী Kyiv Pechersk Lavra-র ডরমিশন ক্যাথেড্রালে আগুন।
- রাজধানীর ১৬টি স্থানে ক্ষয়ক্ষতি, বহু আহত।
- খারকিভে উদ্ধারকর্মীদের লক্ষ্য করে সন্দেহভাজন “ডাবল ট্যাপ” হামলা।
- পুতিনের হুমকির পরই বড় আকারের আক্রমণ।
- শান্তি আলোচনার মাঝেই যুদ্ধ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা।
ইউক্রেনের রাজধানীতে রাতভর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ সোমবার ভোরে আবারও রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে পড়েছে। শহরজুড়ে বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে আকাশ, জানালার কাচ কাঁপতে থাকে, আর বহু এলাকায় আগুন জ্বলে ওঠে। দেশজুড়ে এই হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটেছে কিয়েভের ঐতিহাসিক ও ধর্মীয়ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ Kyiv Pechersk Lavra মঠ কমপ্লেক্সে। সেখানে অবস্থিত ডরমিশন ক্যাথেড্রালে আগুন ধরে যায়। ইউনেস্কো স্বীকৃত এই ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাটি ইউক্রেনীয় অর্থোডক্স খ্রিস্টানদের অন্যতম পবিত্র উপাসনাকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
আগুনে জ্বলল ইউক্রেনের অন্যতম পবিত্র গির্জা
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিশাল আগুনের শিখা ক্যাথেড্রালের গম্বুজের দিকে ছড়িয়ে পড়ছে। ঘটনায় অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন।
ইউক্রেনের অর্থোডক্স চার্চের প্রধান Metropolitan Epiphanius এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, “খ্রিস্টীয় বিশ্বের অন্যতম পবিত্র স্থানের ছাদ জ্বলছে।”
ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী Yulia Svyrydenko আগুনে পুড়ে যাওয়া মঠের ছবি প্রকাশ করে রাশিয়াকে তীব্র আক্রমণ করেন। তাঁর ভাষায়, “এটি শুধু আমাদের মানুষের ওপর নয়, আমাদের ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ওপরও নৃশংস হামলা। এটাই রাশিয়ার তথাকথিত ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রকৃত চেহারা।”
কিয়েভের ১৬টি স্থানে ক্ষয়ক্ষতি
কিয়েভ সামরিক প্রশাসনের প্রধান Tymur Tkachenko জানান, রাজধানীর অন্তত ১৬টি স্থানে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। হামলার সময় শহরের আকাশে প্রতিরক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার শব্দ এবং একের পর এক বিস্ফোরণ শোনা যায়।
তিনি নাগরিকদের আশ্রয়কেন্দ্রে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নতুন নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে কিয়েভকে চিহ্নিত করা হচ্ছিল। রাজধানীতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
খারকিভে উদ্ধারকর্মীদের লক্ষ্য করে ‘ডাবল ট্যাপ’ হামলা
রাজধানীর বাইরে ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর Kharkiv-এ আরও ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। সেখানে অন্তত পাঁচজন নিহত হন।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এটি ছিল তথাকথিত “ডাবল ট্যাপ” হামলা। অর্থাৎ প্রথম আঘাতের পর উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে দ্বিতীয় দফায় আবার হামলা চালানো হয়। যুদ্ধক্ষেত্রে এই কৌশল বিশেষভাবে বিতর্কিত, কারণ এতে জরুরি পরিষেবার কর্মীরাও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন।
পুতিনের হুমকির পরই বড় আঘাত
এই হামলার কয়েক দিন আগেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট Vladimir Putin সতর্ক করেছিলেন যে মস্কো ইউক্রেনের বিরুদ্ধে “পদ্ধতিগত” বা ধারাবাহিক বড় আকারের হামলা চালাবে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার অগ্রগতি প্রত্যাশার তুলনায় ধীর হয়ে যাওয়া এবং কিছু এলাকায় প্রতিরোধের মুখে পড়ার পরই আকাশপথে চাপ বাড়ানোর কৌশল নেওয়া হয়েছে।
গত কয়েক দিনে কিয়েভে তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতি ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সেই সময়ে রাশিয়া নতুন করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত গড়ে তুলছিল।
পোল্যান্ডের সতর্কতা, ন্যাটোর নজর
রাশিয়ার এই ব্যাপক হামলার পর প্রতিবেশী Polandও সতর্ক অবস্থানে চলে যায়। দেশটির সশস্ত্র বাহিনী যুদ্ধবিমান উড্ডয়ন করায় এবং স্থলভিত্তিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও রাডার পর্যবেক্ষণ সর্বোচ্চ প্রস্তুতিতে রাখা হয়।
যেহেতু পোল্যান্ড NATO-এর সদস্য, তাই ইউক্রেন সীমান্তবর্তী অঞ্চলে যেকোনও উত্তেজনা জোটের নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়ে দেয়।
শান্তি আলোচনার মাঝেই নতুন রক্তপাত
হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট Volodymyr Zelenskyy জানিয়েছিলেন যে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিতব্য জি-৭ বৈঠকের আগে দুই নেতা যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাব্য উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করেন।
অন্যদিকে ক্রেমলিন জানিয়েছে, ট্রাম্পও পুতিনের সঙ্গে কথা বলে ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন এবং মধ্যস্থতার জন্য প্রস্তুতির কথা বলেছেন।
তবে বাস্তবতা হলো, চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধের অবসানের কোনও স্পষ্ট পথ এখনও দেখা যাচ্ছে না। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন শান্তি প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মনোযোগের একটি বড় অংশ সেদিকে সরে গেছে। সেই প্রেক্ষাপটে ইউক্রেনে আবারও রক্তক্ষয়ী হামলা দেখিয়ে দিল, যুদ্ধক্ষেত্রে পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত অস্থির এবং বিপজ্জনক।