Table of Contents
নরওয়ের রাজপরিবারকে ঘিরে সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত আইনি মামলার রায় ঘোষণার অপেক্ষায় দেশ। নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেস Mette-Marit-এর ছেলে Marius Borg Høiby-এর বিরুদ্ধে ধর্ষণ, যৌন নিগ্রহ, গার্হস্থ্য হিংসা এবং অন্যান্য অপরাধের একাধিক অভিযোগের মামলায় ১৫ জুন রায় দেওয়ার কথা রয়েছে।
২৯ বছর বয়সি হইবি নরওয়ের রাজপরিবারের আনুষ্ঠানিক সদস্য নন। তিনি মেট্টে-মারিতের পূর্ববর্তী সম্পর্কের সন্তান। তবুও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া নরওয়ের রাজতন্ত্রকে অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে ফেলেছে।
কী অভিযোগ?
প্রসিকিউশনের দাবি, ২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে হইবি চারটি ধর্ষণসহ মোট ৪০টি অপরাধে জড়িত ছিলেন। অভিযোগগুলির মধ্যে রয়েছে যৌন নির্যাতন, গার্হস্থ্য হিংসা, হুমকি, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করা এবং মাদক-সংক্রান্ত অপরাধ। কিছু ক্ষেত্রে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, তাঁরা অচেতন বা অসহায় অবস্থায় ছিলেন যখন নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।
হইবি অবশ্য ধর্ষণের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তবে মাদক বহন, ট্রাফিক আইন ভঙ্গ এবং কয়েকটি অপেক্ষাকৃত কম গুরুতর অভিযোগে আংশিক দোষ স্বীকার করেছেন।
প্রসিকিউটর বনাম প্রতিরক্ষা
নরওয়ের প্রসিকিউটররা হইবির জন্য সাত বছর সাত মাসের কারাদণ্ড চেয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, অভিযোগগুলির গুরুত্ব এবং একাধিক ভুক্তভোগীর বক্তব্য বিবেচনায় কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত।
অন্যদিকে প্রতিরক্ষা আইনজীবীরা দাবি করেছেন, ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। তাঁদের মতে, হইবিকে গণমাধ্যম এবং জনমতের আদালতে আগেই দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। তাই তিনি সর্বাধিক ১৮ মাসের বেশি সাজা পাওয়ার যোগ্য নন।
মায়ের অসুস্থতা ঘিরে নতুন বিতর্ক
রায় ঘোষণার ঠিক আগে মামলায় নতুন আবেগঘন মাত্রা যোগ করেছে ক্রাউন প্রিন্সেস মেট্টে-মারিতের শারীরিক অবস্থা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসের জটিল রোগে ভুগছেন এবং বর্তমানে ফুসফুস প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায় রয়েছেন। নরওয়ের রাজপ্রাসাদ তাঁর অবস্থা “জীবন-সংশয়পূর্ণ” বলে বর্ণনা করেছে।
এই পরিস্থিতিতে হইবি আদালতের কাছে আবেদন করেছিলেন, যাতে তাঁকে সাময়িকভাবে মুক্তি দিয়ে মায়ের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেওয়া হয়। প্রথমে নিম্ন আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করলেও পরে আপিল আদালত তা বাতিল করে। আদালতের মতে, মুক্তি দিলে তিনি নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করতে পারেন বা মামলার শর্ত লঙ্ঘনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
রাজতন্ত্রের জন্য বড় পরীক্ষা
নরওয়ে সাধারণত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও স্বচ্ছতার জন্য পরিচিত। কিন্তু এই মামলা রাজপরিবারকে এমন এক বিতর্কের মুখে দাঁড় করিয়েছে, যা বহু বছর দেখা যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, হইবি রাজপরিবারের আনুষ্ঠানিক সদস্য না হলেও জনগণের চোখে তিনি রাজপরিবারেরই অংশ। ফলে মামলার প্রভাব সরাসরি রাজতন্ত্রের ভাবমূর্তির উপর পড়েছে।
অনেক নরওয়েজীয় সংবাদমাধ্যম ইতিমধ্যেই এই বিচারকে “শতাব্দীর বিচার” বলে অভিহিত করেছে। রায় যেদিকেই যাক না কেন, তা নরওয়ের রাজপরিবার, বিচারব্যবস্থা এবং জনমতের উপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এখন সবার নজর ১৫ জুনে
অবশেষে বহু মাসের তদন্ত, ছয় সপ্তাহের বিচারপ্রক্রিয়া এবং তীব্র জনআলোচনার পর সোমবার আদালত তার সিদ্ধান্ত জানাবে। হইবি দোষী সাব্যস্ত হলে বহু বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। আর যদি তিনি বড় অভিযোগগুলি থেকে মুক্তি পান, তবে তা প্রসিকিউশনের জন্য বড় ধাক্কা হবে।
নরওয়ে এখন অপেক্ষা করছে এমন এক রায়ের, যা শুধু একজন অভিযুক্তের ভবিষ্যৎ নয়, দেশের রাজতন্ত্রের জনসমর্থনের ওপরও গভীর ছাপ ফেলতে পারে।