হাইলাইটস:
- তৃণমূলের সংকটের মাঝেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানালেন শত্রুঘ্ন সিনহা।
- তিনি বলেন, কঠিন সময়ে মমতা তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তাই তিনিও নেত্রীকে ছেড়ে যাবেন না।
- দলত্যাগ ও বিদ্রোহের আবহে তৃণমূল নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্যের বার্তা দিলেন আসানসোলের সাংসদ।
- বিরোধীদের সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, তৃণমূল এখনও বাংলার মানুষের ভরসার জায়গা।
বাংলাস্ফিয়ার: তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ভাঙন, বিধায়কদের একাংশের বিদ্রোহ এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার আবহে দলের অন্যতম সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহা স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন যে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশেই থাকবেন।
বৃহস্পতিবার কলকাতায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শত্রুঘ্ন সিনহা বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। আমি কখনও সেই ঋণ ভুলব না। তাই আজ যখন তাঁর দলের কঠিন সময় চলছে, তখন তাঁকে ছেড়ে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।”
একসময়ের বিজেপি নেতা শত্রুঘ্ন সিনহা ২০২২ সালে তৃণমূলের টিকিটে আসানসোল লোকসভা উপনির্বাচনে জয়ী হন। সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, রাজনীতিতে সম্পর্ক এবং বিশ্বাসের মূল্য অনেক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর উপর আস্থা রেখেছিলেন বলেই তিনি সংসদে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূলের একাধিক বিধায়কের বিদ্রোহ, বিরোধী শিবিরে যোগদান এবং নেতৃত্ব নিয়ে বিতর্কের জেরে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত। এই প্রেক্ষাপটে শত্রুঘ্ন সিনহার মন্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, দলের অস্থিরতার সময়ে তাঁর এই বার্তা তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের মনোবল বাড়ানোর উদ্দেশ্যেই দেওয়া হয়েছে।
শত্রুঘ্ন সিনহা আরও বলেন, “রাজনীতিতে উত্থান-পতন থাকবেই। কোনও দলই সব সময় একরকম অবস্থায় থাকে না। কিন্তু নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রাখতে হয়। আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিশ্বাস করি।”
বিরোধীদের আক্রমণ করে তিনি দাবি করেন, বাংলার মানুষ এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে শ্রদ্ধা করেন এবং তাঁর রাজনৈতিক অবদানকে স্বীকৃতি দেন। তাঁর কথায়, “কিছু রাজনৈতিক ঘটনা ঘটতেই পারে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে মানুষের সমর্থন শেষ হয়ে গেছে।”
রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণে যখন তৃণমূলের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা জল্পনা চলছে, তখন শত্রুঘ্ন সিনহার এই মন্তব্য দলীয় নেতৃত্বের প্রতি প্রকাশ্য আনুগত্যের বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে এমন এক সময়ে, যখন তৃণমূলের বহু নেতা-নেত্রীর অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, তখন ‘শটগান’-এর বক্তব্য দলীয় শিবিরে কিছুটা হলেও স্বস্তি এনে দিতে পারে।