খবর

বিধাননগরের মেয়র পদ ছাড়লেন কৃষ্ণা চক্রবর্তী: রাজনীতির ময়দানে কে এই কৃষ্ণাদেবী?

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • বিধাননগর পুরনিগমের মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিলেন তৃণমূলের পোড়খাওয়া নেত্রী কৃষ্ণা চক্রবর্তী।
  • বৃহস্পতিবার দুপুরে কমিশনারের কাছে তাঁর ইস্তফাপত্র জমা দেন তিনি।
  • তাঁর এই হঠাৎ পদত্যাগে বিধাননগরের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

বিধাননগর: রাজ্য রাজনীতিতে বড়সড় চমক। বিধাননগর পুরনিগমের মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিলেন তৃণমূলের পোড়খাওয়া নেত্রী কৃষ্ণা চক্রবর্তী। বৃহস্পতিবার দুপুরে কমিশনারের কাছে তাঁর ইস্তফাপত্র জমা দেন তিনি। তাঁর এই হঠাৎ পদত্যাগে বিধাননগরের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে। দলের অন্দরের অস্থিরতা নাকি ব্যক্তিগত কারণ—এই ইস্তফার নেপথ্যে ঠিক কী রয়েছে, তা নিয়ে জল্পনার শেষ নেই।

রাজনীতির ময়দানে কৃষ্ণা চক্রবর্তী
বিধাননগরের তৃণমূল রাজনীতিতে কৃষ্ণা চক্রবর্তী একটি পরিচিত নাম। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগত হিসেবে পরিচিত এই নেত্রী দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে রাজনীতির ময়দানে সক্রিয়। ছাত্রাবস্থা থেকেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা কৃষ্ণা চক্রবর্তী তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন। বিধাননগর পুরসভার কাউন্সিলর হিসেবে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। শুধু রাজনৈতিক দক্ষতা নয়, প্রশাসনিক কাজেও তিনি নিজের ছাপ রেখেছেন।

মেয়র হিসেবে কাজের খতিয়ান
বিধাননগরের মেয়র হিসেবে কৃষ্ণা চক্রবর্তীর সময়কাল বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। সল্টলেক ও রাজারহাটের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকা নিয়ে গঠিত এই পুরনিগমের পরিষেবা সুচারুভাবে পরিচালনা করা তাঁর কাছে ছিল অন্যতম বড় পরীক্ষা। মেয়র থাকাকালীন তিনি ডিজিটাল পরিষেবা এবং পুরসভার কাজকে সরাসরি নাগরিকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছিলেন। বিশেষ করে, অতিমারী চলাকালীন কোভিড মোকাবিলায় তাঁর ভূমিকা বিধাননগরের নাগরিকদের কাছে প্রশংসিত হয়েছিল। রাস্তাঘাট উন্নয়ন, নিকাশী সমস্যা সমাধান এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় তিনি নিয়মিত নজর রাখতেন।

কেন এই ইস্তফা গুরুত্বপূর্ণ?
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কৃষ্ণা চক্রবর্তীর ইস্তফা কেবল একটি প্রশাসনিক রদবদল নয়, এর গভীর রাজনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন পুরনিগমে মেয়র বা চেয়ারম্যানদের বদল বা ইস্তফার ঘটনা তৃণমূলের সাংগঠনিক অস্থিরতাকে নির্দেশ করছে। দলের অন্দরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, আইপ্যাক (I-PAC) বিতর্ক এবং বিধায়কদের দলবদলের জল্পনার মধ্যে মেয়রের পদত্যাগ তৃণমূলের অন্দরে যে বড় ভাঙন বা চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা স্পষ্ট।

পরবর্তী পদক্ষেপ কী?
ইস্তফাপত্র জমা দেওয়ার পর এখন বিধাননগর পুরসভার পরবর্তী মেয়র কে হবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। প্রশাসনিক কাজের যাতে ব্যাঘাত না ঘটে, সেদিকেও নজর থাকবে রাজ্য সরকারের। কৃষ্ণাদেবীর মতো একজন হেভিওয়েট নেত্রী, যিনি দীর্ঘ সময় ধরে দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁর এই সিদ্ধান্ত আগামী দিনে তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্ক বা জনসমর্থনে কতটা প্রভাব ফেলে, তা দেখার অপেক্ষায় রাজ্যের মানুষ।

তৃণমূলের এই প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ডামাডোলের প্রতিটি আপডেট সবার আগে পেতে চোখ রাখুন Banglasphere-এ।

আপনার কী মনে হয়? বিধাননগরের মেয়র পদ থেকে কৃষ্ণা চক্রবর্তীর এই পদত্যাগ কি দলের জন্য বড় ধাক্কা? কমেন্ট করে আপনার মতামত জানান।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

পার্বণ

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles