গ্রিন কার্ড কর্মসূচিতে স্থগিতাদেশেও নিয়োগনীতি বদলাবে না, জানাল টিসিএস

যা জানা জরুরি
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড পাওয়ার কর্মসূচি থেকে সাময়িক ভাবে বাদ পড়লেও নিজেদের কর্মী নিয়োগের কৌশল বা গ্রাহকদের পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাব পড়বে না…
- শুক্রবার, ৯ অক্টোবর সংস্থাটি জানায়, আমেরিকায় তাদের কাজের ভিত্তি মূলত স্থানীয় কর্মী নিয়োগ।
- ফলে পার্মানেন্ট লেবার সার্টিফিকেশন বা পার্ম কর্মসূচির উপর সীমিত নির্ভরতা এই সিদ্ধান্তের অভিঘাত সামলাতে সাহায্য করবে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড পাওয়ার কর্মসূচি থেকে সাময়িক ভাবে বাদ পড়লেও নিজেদের কর্মী নিয়োগের কৌশল বা গ্রাহকদের পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছে টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেস বা টিসিএস। শুক্রবার, ৯ অক্টোবর সংস্থাটি জানায়, আমেরিকায় তাদের কাজের ভিত্তি মূলত স্থানীয় কর্মী নিয়োগ। ফলে পার্মানেন্ট লেবার সার্টিফিকেশন বা পার্ম কর্মসূচির উপর সীমিত নির্ভরতা এই সিদ্ধান্তের অভিঘাত সামলাতে সাহায্য করবে।
টিসিএসের বক্তব্য, গত দু’বছরে এই কর্মসূচির আওতায় তাদের আবেদনের সংখ্যা ছিল এক অঙ্কে। সেই কারণেই স্থগিতাদেশে কর্মীসংক্রান্ত পরিকল্পনা এবং গ্রাহকদের সঙ্গে চলতি কাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখছে না সংস্থা। একই সঙ্গে তারা জানিয়েছে, মার্কিন সরকারের ঘোষণা তাদের নজরে এসেছে এবং শ্রম দফতর যে নির্দেশ দেবে, তা মেনে চলবে। অর্থাৎ, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের জবাবে সংস্থাটি নিয়ম মানার পাশাপাশি ব্যবসার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আশ্বাস দিয়েছে।
আমেরিকায় নিজেদের উপস্থিতির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে টিসিএস জানিয়েছে, দেশজুড়ে তাদের ৩১টি অফিস ও পরিষেবা প্রদান কেন্দ্রে স্থানীয় কর্মীদের বাহিনী তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে নিয়োগ সেই ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সংস্থাটি আগের ঘোষণাও পুনর্ব্যক্ত করেছে: আগামী পাঁচ বছরে যুক্তরাষ্ট্রে আরও ১৫ হাজার কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন নিষেধাজ্ঞার পরেও স্থানীয় কর্মীসংখ্যা বাড়ানোর সেই লক্ষ্য বহাল থাকছে বলে তাদের বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ট্রাম্প প্রশাসন আটটি প্রযুক্তি ও তথ্যপ্রযুক্তি পরিষেবা সংস্থাকে পার্ম কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ থেকে স্থগিত করার কথা ঘোষণা করে। তালিকায় টিসিএস ছাড়াও রয়েছে ইনফোসিস, উইপ্রো, এইচসিএলটেক, কগনিজ্যান্ট, ক্যাপজেমিনি, মাইক্রোসফট এবং অ্যাডোবি। মার্কিন শ্রম দফতর জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির নতুন আবেদন গ্রহণ করা হবে না। ইতিমধ্যে জমা পড়া আবেদনগুলির প্রক্রিয়াকরণও বন্ধ থাকবে। ফলে নিয়োগকর্তার মাধ্যমে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার পথে সরাসরি বাধা তৈরি হয়েছে।
পার্ম কর্মসংস্থানের সূত্রে গ্রিন কার্ড পাওয়ার বহু আবেদনের প্রাথমিক ধাপ। এর মাধ্যমে নিয়োগকর্তাকে দেখাতে হয়, নির্দিষ্ট কাজটির জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতাসম্পন্ন, কাজ করতে ইচ্ছুক এবং উপলব্ধ মার্কিন কর্মী পাওয়া যাচ্ছে না। পাশাপাশি বিদেশি কর্মী নিয়োগের ফলে একই ধরনের কাজে নিযুক্ত আমেরিকানদের মজুরি বা কাজের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, সেটিও নিশ্চিত করতে হয়। শ্রম দফতরের ছাড়পত্র পাওয়ার পর স্থায়ী অভিবাসনের পরবর্তী আবেদন এগোনোর সুযোগ তৈরি হয়।
ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এবং শ্রমসচিব কিথ সন্ডারলিংয়ের ঘোষণায় মার্কিন কর্মীদের স্বার্থরক্ষার যুক্তি সামনে এসেছে। প্রশাসনের অভিযোগ, বিদেশি কর্মীসংক্রান্ত ব্যবস্থার অপব্যবহার করে কিছু সংস্থা আমেরিকানদের কর্মসংস্থানের সুযোগ কমিয়েছে। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করেই নজরদারি ও তদন্ত বাড়ানো হয়েছে। তবে প্রশাসনের অভিযোগ এবং কোনও নির্দিষ্ট সংস্থার বিরুদ্ধে আইনভঙ্গ প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়। টিসিএসের প্রতিক্রিয়ার বক্তব্য ছিল, তাদের বর্তমান নিয়োগব্যবস্থা এই কর্মসূচির উপর বিশেষ নির্ভরশীল নয়।
এই সিদ্ধান্তের অর্থ অবশ্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্মীদের চালু এইচ-১বি ভিসা বাতিল হয়ে যাওয়া নয়। পার্মের মাধ্যমে স্থায়ী বসবাসের প্রক্রিয়া এবং অস্থায়ী কর্মভিসা আলাদা ব্যবস্থা। তবে যাঁদের গ্রিন কার্ডের প্রস্তুতি বা আবেদন নিয়োগকর্তার এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের উপর নির্ভরশীল, তাঁদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় বিলম্ব ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে বিচারাধীন আবেদন বন্ধ থাকলে অপেক্ষার সময় আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ফলে টিসিএসের আশ্বাসের তাৎপর্য মূলত সংস্থার কাজকর্ম ও নিয়োগ পরিকল্পনায়। স্থানীয় কর্মীদের দিয়ে পরিষেবা চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা থাকায় ব্যবসায় বড় ধাক্কা প্রত্যাশা করছে না তারা। কিন্তু সেই আশ্বাস থেকে প্রত্যেক বিদেশি কর্মীর স্থায়ী বসবাসের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে একই সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না। কর্মীদের ক্ষেত্রে প্রভাব নির্ভর করবে তাঁদের আবেদনের অবস্থান এবং মার্কিন কর্তৃপক্ষের পরবর্তী নির্দেশের উপর। আপাতত সংস্থার বার্তা স্পষ্ট: স্থানীয় নিয়োগ বাড়ানোর ঘোষিত পথেই এগোবে টিসিএস।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



