চাকরিপ্রার্থীদের আস্থা ফেরান, পড়ুয়ারা ক্লাসে ফিরুন: মহারাষ্ট্রকে বার্তা বম্বে হাইকোর্টের

যা জানা জরুরি
- সরকারি চাকরির নিয়োগব্যবস্থায় পরীক্ষার্থীদের আস্থা ফেরাতে আন্তরিক পদক্ষেপ করুক মহারাষ্ট্র সরকার।
- একই সঙ্গে আন্দোলনরত পড়ুয়ারা ফিরে যান পড়াশোনায়।
- বুধবার, ৭ অক্টোবর, মহারাষ্ট্র পাবলিক সার্ভিস কমিশন বা এমপিএসসি পরীক্ষাকে ঘিরে চলা বিক্ষোভ নিয়ে শুনানিতে এই বার্তা দিল বম্বে হাইকোর্ট।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
সরকারি চাকরির নিয়োগব্যবস্থায় পরীক্ষার্থীদের আস্থা ফেরাতে আন্তরিক পদক্ষেপ করুক মহারাষ্ট্র সরকার। একই সঙ্গে আন্দোলনরত পড়ুয়ারা ফিরে যান পড়াশোনায়। বুধবার, ৭ অক্টোবর, মহারাষ্ট্র পাবলিক সার্ভিস কমিশন বা এমপিএসসি পরীক্ষাকে ঘিরে চলা বিক্ষোভ নিয়ে শুনানিতে এই বার্তা দিল বম্বে হাইকোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ, হাজার হাজার শূন্যপদ এবং পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের মধ্যে ছাত্রছাত্রীরা রাস্তায় নামলে তাঁদের সমস্যাকে গুরুত্ব দিয়েই দেখতে হবে।
প্রধান বিচারপতি মহেশ চন্দ্র ত্রিপাঠী ও বিচারপতি অদ্বৈত শেঠনার ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, পুণে দেশের অন্যতম প্রধান শিক্ষাকেন্দ্র। সেখানে আসা অধিকাংশ পড়ুয়ার লক্ষ্য পড়াশোনা এবং ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা। তাঁরা সাধারণত রাস্তায় নেমে আন্দোলন করতে চান না। তার পরেও বিক্ষোভ হলে বুঝতে হবে, অভিযোগগুলি গুরুতর। পরীক্ষা নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে হচ্ছে কি না, সেই উদ্বেগ দূর করার দায়িত্ব সরকারের।
শুনানিতে প্রায় ৭০ হাজার শূন্যপদের প্রসঙ্গ ওঠে। পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, নিয়োগ পরীক্ষা নির্ধারিত পদ্ধতি মেনে হচ্ছে না; প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষায় কারচুপির ঘটনাও রয়েছে। বেঞ্চ জানায়, যোগ্য প্রার্থীদের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। দীর্ঘদিনের বকেয়া শূন্যপদ পূরণেও অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলে আদালত।
রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল মিলিন্দ সাঠে আদালতকে জানান, আন্দোলনকারীদের দাবির মধ্যে রয়েছে কমিশনের চেয়ারম্যানের পদত্যাগ, পরীক্ষার ফি কমিয়ে ১০০ টাকা করা এবং সব পরীক্ষা অফলাইনে নেওয়া। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ফি ও অফলাইন পরীক্ষাসংক্রান্ত দাবি সরকার মেনে নিয়েছে। চেয়ারম্যানের বিষয়ে উপযুক্ত সিদ্ধান্তের জন্য রাজ্যপালের কাছে আবেদন পাঠানো হয়েছে।
সাঠে আরও জানান, কয়েক জন ছাত্রনেতা ৩০ সেপ্টেম্বর মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীসের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। তবে আদালত স্পষ্ট করে, বিষয়টি এখন বিচারাধীন এবং পরীক্ষার্থীদের উদ্বেগ খতিয়ে দেখা হবে। কোন দপ্তরে কত পদ খালি, কীভাবে নিয়োগ এগোবে, সে সম্পর্কে লিখিত তথ্য চেয়েছে বেঞ্চ। প্রয়োজনীয় বিবরণ জমা দিতে সরকারকে তিন সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে। নিয়োগ নিয়ে সরকারের প্রস্তাব আদালতের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে। সরকারের তরফে হলফনামা দেওয়ার আশ্বাস মিলেছে। আদালত জানিয়েছে, পরীক্ষার্থীদের উদ্বেগ এবং নিয়োগের অগ্রগতি নিয়ে রাজ্যের বক্তব্য খতিয়ে দেখবে তারা। ফলে এই বিষয়ে বিচারিক নজরদারিও বজায় থাকছে।
এই শুনানির সূত্র পুণের দুই বাসিন্দার দায়ের করা আবেদন। তাঁদের অভিযোগ, শহরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পরীক্ষার্থীদের অবস্থান ও বিক্ষোভের কারণে দৈনন্দিন যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। অলকা টকিজ চক, অহল্যা স্টাডি সেন্টার এবং এস এম জোশি সেতু এলাকার আন্দোলনের কথা আদালতে ওঠে। ফলে শুনানিতে পরীক্ষার্থীদের দাবির পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদের অসুবিধার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।
বেঞ্চের বক্তব্য, পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বহু সময় দেওয়ার পরে প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে বলে মনে হলে পড়ুয়াদের প্রতিবাদ করার অধিকার রয়েছে। তবে আন্দোলন চালাতে হলে প্রয়োজনীয় অনুমতি নিতে হবে এবং উপযুক্ত বিকল্প জায়গায় যেতে হবে। স্থান পরিবর্তন না করলে রাজ্যকে যুক্তিসংগত পদক্ষেপ করতে হতে পারে বলেও জানায় আদালত।
পড়ুয়াদের উদ্দেশে বিচারপতিরা তাঁদের অভিভাবকদের কথাও মনে করিয়ে দেন। বহু পরিবার সন্তানদের পড়াশোনার জন্য পুণেতে পাঠিয়েছে; দীর্ঘ আন্দোলনে তাঁদের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আদালতের ওপর আস্থা রেখে ক্লাসে ফেরার আবেদন জানায় বেঞ্চ। একই সঙ্গে সরকারের পদক্ষেপ পর্যবেক্ষণ এবং অভিযোগের বিষয়গুলি খতিয়ে দেখার আশ্বাসও দেওয়া হয়।
আন্দোলন মোকাবিলায় পুলিশের সংযমী ভূমিকার প্রশংসা করে আদালত। রাজ্যের বক্তব্য ছিল, পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে এফআইআর হলে তাঁদের কর্মজীবনে প্রভাব পড়তে পারে। বেঞ্চও জানায়, এঁরা ছাত্রছাত্রী, অসামাজিক ব্যক্তি নন। তাঁদের প্রধান দাবি সুষ্ঠু পরীক্ষা। অনিয়মের অভিযোগের বিস্তারিত অনুসন্ধান এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য আদালতের নথিতে আনার কথাও বলা হয়। পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হয়েছে ২৫ নভেম্বর। আদালতের বার্তা, নিয়োগে ন্যায্যতার নিশ্চয়তা দিতে হবে সরকারকেই; পাশাপাশি পড়াশোনা এবং নাগরিক জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ ফেরানোও জরুরি।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



