মার্কিন হেফাজতে কাশ্মীরি পরিচালক আরফাত শেখ, শীঘ্রই মুক্তির আশা পরিবারের

যা জানা জরুরি
- যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হেফাজতে থাকা কাশ্মীরে জন্মানো চলচ্চিত্র পরিচালক আরফাত শেখ শীঘ্রই মুক্তি পেতে পারেন বলে আশা প্রকাশ করেছে তাঁর পরিবার।
- ৪২ বছরের এই পরিচালকের ‘স্যাফরন কিংডম’ ছবিটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন জায়গায় প্রদর্শিত হয়েছে এবং একাধিক পুরস্কার পেয়েছে।
- তাঁর আটকের খবর প্রকাশ্যে আসার পর মুক্তির দাবিতে অনলাইন প্রচারও শুরু হয়েছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হেফাজতে থাকা কাশ্মীরে জন্মানো চলচ্চিত্র পরিচালক আরফাত শেখ শীঘ্রই মুক্তি পেতে পারেন বলে আশা প্রকাশ করেছে তাঁর পরিবার। ৪২ বছরের এই পরিচালকের ‘স্যাফরন কিংডম’ ছবিটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন জায়গায় প্রদর্শিত হয়েছে এবং একাধিক পুরস্কার পেয়েছে। তাঁর আটকের খবর প্রকাশ্যে আসার পর মুক্তির দাবিতে অনলাইন প্রচারও শুরু হয়েছে।
পরিবারের এক সদস্য জানিয়েছেন, তাঁরা বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করছেন। তাঁদের আশা, আরফাত দ্রুত ছাড়া পাবেন। তবে পরিবারের এই আশ্বাসের সঙ্গে মুক্তি কার্যকর হওয়ার বিষয়টি এক নয়। তাঁকে ঠিক কখন আটককেন্দ্র থেকে ছাড়া হবে, সে সম্পর্কে নিশ্চিত ঘোষণা পাওয়া যায়নি। ফলে স্বজনদের অপেক্ষা এখনও শেষ হয়নি।
‘ফ্রি আরফাত শেখ’ নামে প্রচারগোষ্ঠীর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটন ডালেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান থেকে নামার পর তাঁকে আটক করে মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই। এরপর তাঁকে ভার্জিনিয়ার বোলিং গ্রিনে ক্যারোলাইন আটককেন্দ্রে রাখা হয়। গোষ্ঠীটি এই আটককে বেআইনি বলে অভিযোগ করেছে।
প্রচারগোষ্ঠীর আরও অভিযোগ, প্রয়োজনীয় অভিবাসনসংক্রান্ত নথি দেখানো সত্ত্বেও তাঁকে আটক করা হয়। সে সময়ে আরফাত লেখক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা তারা দোরাবজির সঙ্গে সফর করছিলেন। ওয়াশিংটনে ‘আর্ট অ্যাজ রেজিস্ট্যান্স’ নামে একটি আলোচনায় তাঁদের অংশ নেওয়ার কথা ছিল। বিমানবন্দরে নামার পর একাধিক আইসিই আধিকারিক তাঁকে ঘিরে ধরেন বলে সমর্থকদের দাবি।
মুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে নতুন তথ্য দিয়েছে একটি সংবাদমাধ্যম। তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৬ অক্টোবর অভিবাসন আদালতে আরফাতের শুনানি হয় এবং আদালত বন্ড মঞ্জুর করে। তাঁর আইনজীবী হাসান আহমদ সংবাদমাধ্যমটিকে জানিয়েছেন, বন্ডের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে আরফাতের মুক্তির পথ খুলবে। ওই প্রতিবেদনে ৭ অক্টোবর তাঁর ছাড়া পাওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।
আইনজীবীর বক্তব্য, আরফাতের কোনও অপরাধের রেকর্ড নেই। তাঁর অভিবাসনসংক্রান্ত আবেদন বিচারাধীন রয়েছে এবং আটক না করেও সেই প্রক্রিয়া চলতে দেওয়া যেত। হাসান আহমদ এই আটককে অযৌক্তিক বলে সমালোচনা করেছেন। তবে এটি আরফাতের আইনজীবীর বক্তব্য; আটক করার কারণ সম্পর্কে মার্কিন কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত ব্যাখ্যা সংশ্লিষ্ট সংবাদপ্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
সমর্থকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে ছাত্রভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে যান আরফাত। জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটিতে চলচ্চিত্র নিয়ে উচ্চতর পড়াশোনা করাই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য। পরের বছর, অর্থাৎ ২০২০ সালে, তিনি আশ্রয়ের আবেদন করেন। বর্তমানে ভার্জিনিয়ার আলেকজান্দ্রিয়ায় বসবাসকারী এই পরিচালকের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ও কাজ করার অনুমতি রয়েছে বলে প্রচারগোষ্ঠী দাবি করেছে।
আরফাতের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্যের ছবি ‘স্যাফরন কিংডম’-এর কেন্দ্রে রয়েছে সংঘাতের মধ্যে বেঁচে থাকা একটি কাশ্মীরি পরিবারের অভিজ্ঞতা। ছবিতে মাসরাত নামে এক নারী স্বামী অপহৃত হওয়ার পরে ছেলে রিজওয়ানকে নিয়ে আমেরিকায় চলে আসেন। আটলান্টায় নতুন জীবন শুরু করলেও পুরনো আঘাত, ঘরছাড়ার যন্ত্রণা এবং পরিচয়ের সংকট তাঁদের পিছু ছাড়ে না।
টিনেক আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের পরিচিতিতে ছবিটিকে বাস্তব ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত কাহিনি বলা হয়েছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা কীভাবে ব্যক্তিগত জীবনকে দীর্ঘদিন প্রভাবিত করে, সেই অভিজ্ঞতাই এর বিষয়। আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ও পুরস্কারের সুবাদে আরফাত পরিচিতি পেয়েছেন। শিকাগো ফিল্মমেকার্স অ্যাওয়ার্ডসেও সেরা পূর্ণদৈর্ঘ্যের ছবির স্বীকৃতি পেয়েছে তাঁর চলচ্চিত্র। তাঁর কাজের আলোচনায় বারবার উঠে এসেছে বাস্তুচ্যুতি, স্মৃতি এবং প্রতিকূলতার মধ্যে মানুষের টিকে থাকার প্রসঙ্গ।
এই মুহূর্তে পরিবারের প্রধান প্রত্যাশা, আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে আরফাত দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন। সমর্থকেরা তাঁর মুক্তির দাবি জানাচ্ছেন এবং আইনি সহায়তার জন্য প্রচার চালাচ্ছেন। তবে মুক্তি সম্পর্কে চূড়ান্ত খবর না আসা পর্যন্ত ঘটনাটিকে সম্ভাব্য মুক্তির পর্যায়েই দেখতে হবে। পরিবারের আশাবাদ এবং আদালতের বন্ড মঞ্জুরের খবর স্বস্তির ইঙ্গিত দিলেও, আটককেন্দ্রের বাইরে তাঁর ফেরার নিশ্চিত সংবাদই এখন অপেক্ষার অবসান ঘটাবে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।
