১৩৫ বছরের গ্রন্থাগার সরাতে বিস্তারিত পরিকল্পনা দিন, কেন্দ্রকে নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

যা জানা জরুরি
- নয়াদিল্লির ১৩৫ বছরের পুরনো সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট লাইব্রেরি কোথায় এবং কীভাবে সরানো হবে, তার বিস্তারিত পরিকল্পনা কেন্দ্রের কাছে চাইল সুপ্রিম কোর্ট।
- সোমবার, ৫ অক্টোবর বিচারপতি সঞ্জয় কুমার ও বিচারপতি সঞ্জীব সচদেবের বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, তিন সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা দিয়ে প্রস্তাবিত জায়গার পরিমাণ এবং প্রকৃত নকশা…
- নতুন ব্যবস্থায় গ্রন্থাগারের সম্পূর্ণ সংগ্রহের জায়গা হবে কি না, তা-ও স্পষ্ট করতে হবে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
নয়াদিল্লির ১৩৫ বছরের পুরনো সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট লাইব্রেরি কোথায় এবং কীভাবে সরানো হবে, তার বিস্তারিত পরিকল্পনা কেন্দ্রের কাছে চাইল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার, ৫ অক্টোবর বিচারপতি সঞ্জয় কুমার ও বিচারপতি সঞ্জীব সচদেবের বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, তিন সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা দিয়ে প্রস্তাবিত জায়গার পরিমাণ এবং প্রকৃত নকশা জানাতে হবে। নতুন ব্যবস্থায় গ্রন্থাগারের সম্পূর্ণ সংগ্রহের জায়গা হবে কি না, তা-ও স্পষ্ট করতে হবে।
বর্তমানে শাস্ত্রী ভবনে রয়েছে এই ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠান। সেন্ট্রাল ভিস্তা পুনর্গঠন প্রকল্পে ভবনটি ভেঙে ফেলার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে সাড়ে আট লক্ষের বেশি বই, দুষ্প্রাপ্য প্রকাশনা এবং সরকারি নথির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে স্থানান্তরের অনিশ্চয়তা সামনে আসার পরে বিষয়টি নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা শুরু করে শীর্ষ আদালত।
কেন্দ্রের হয়ে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ঐশ্বর্যা ভাটি জানান, পুনর্গঠন পরিকল্পনায় গ্রন্থাগারের জন্য জায়গা রাখা হয়েছে। কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রকও আগেই জানিয়েছিল, কর্তব্য পথের পুনর্গঠন পরিকল্পনায় এই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থা রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় নির্মাণপ্রক্রিয়া চলছে। তবে আদালত বিস্তারিত হলফনামা চেয়েছে, যাতে সরকারের বক্তব্যের পাশাপাশি প্রস্তাবিত ব্যবস্থার নির্দিষ্ট বিবরণও নথিভুক্ত থাকে।
বিতর্কের সূত্রপাত গ্রন্থাগারকে কর্তব্য ভবন-২-এ মাত্র দু’টি ঘর বরাদ্দ করার প্রস্তাব থেকে। মোট প্রায় ৩০০ বর্গমিটারের ওই জায়গাকে অপর্যাপ্ত বলে জানিয়েছিল সংস্কৃতি মন্ত্রক, যার অধীনে গ্রন্থাগারটি পরিচালিত হয়। এত বিপুল সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় পরিষেবা সেখানে স্থানান্তর করা সম্ভব নয় বলেও আপত্তি জানানো হয়েছিল। শুনানিতে বিচারপতিরাও দু’টি ঘর বরাদ্দের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
আদালতের উদ্বেগের আর একটি বড় কারণ দিল্লির আর কে পুরমে বাক্সবন্দি প্রায় দু’লক্ষ বই। বেঞ্চ জানতে চেয়েছে, নতুন জায়গায় শাস্ত্রী ভবনের বইয়ের পাশাপাশি এই সংগ্রহেরও ব্যবস্থা হবে কি না। ফলে শুধু বর্তমান গ্রন্থাগারের বই সরানোর হিসাব দিলেই চলবে না; অন্যত্র পড়ে থাকা বইগুলিকেও প্রস্তাবিত পরিসরের মধ্যে ধরতে হবে। হলফনামায় এই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর চাওয়া হয়েছে।
ভাটি জানান, দু’টি তলাজুড়ে আরও বড় জায়গার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। কিন্তু আদালতের প্রশ্ন, সেখানে সম্মেলনকক্ষ ও অন্যান্য সুবিধা তৈরি হলে বই রাখার জন্য বাস্তবে কতটা জায়গা অবশিষ্ট থাকবে? বিচারপতিরা মোট আয়তনের পাশাপাশি বই সংরক্ষণের ব্যবহারযোগ্য পরিসরের হিসাবও দেখতে চান। কাগজের ব্যবহার কমানোর যুক্তিতে মূল্যবান পুরনো কাগজপত্রের যত্ন নেওয়ার দায়িত্ব এড়ানো যায় না বলেও শুনানিতে পর্যবেক্ষণ করা হয়।
এই গ্রন্থাগারের ইতিহাসের সঙ্গে কলকাতারও যোগ রয়েছে। ১৮৯১ সালে কলকাতায় ইম্পিরিয়াল সেক্রেটারিয়েট লাইব্রেরি হিসেবে এর প্রতিষ্ঠা। রাজধানী দিল্লিতে সরানোর পরে গ্রন্থাগারটিও সেখানে যায়। ১৯৬৯ সাল থেকে এর ঠিকানা শাস্ত্রী ভবন। কেন্দ্রীয় সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞানভান্ডারে বইয়ের পাশাপাশি সরকারি প্রকাশনা, প্রশাসনিক নথি এবং গেজেটিয়ারের বিপুল সংগ্রহ রয়েছে।
সংগ্রহটির গুরুত্ব শুধু বয়সে নয়, গবেষণার উপাদানেও। এখানে রয়েছে জনগণনার রিপোর্ট, সংসদে পাশ হওয়া আইন, প্রশাসনিক বিবরণ এবং পুরনো সরকারি গেজেট। এসব নথি ভারতের শাসনব্যবস্থা, জনসংখ্যা ও সামাজিক পরিবর্তন বুঝতে সাহায্য করে। সরকারি আধিকারিকদের পাশাপাশি গবেষক এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া শিক্ষার্থীরাও এই গ্রন্থাগার ব্যবহার করেন। দুষ্প্রাপ্য বইগুলির মধ্যে ১৭০২ সালের একটি ফরাসি প্রকাশনাও রয়েছে। জমি ও প্রশাসনিক সীমানার বদলের ইতিহাস খুঁজতেও এই সংগ্রহের গুরুত্ব রয়েছে। সরকারি সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা বোঝার জন্য পুরনো গেজেট প্রয়োজন হয়; কিছু নথি আদালতের কাজেও ব্যবহৃত হয়েছে। তাই সংগ্রহের অখণ্ডতা বজায় রাখার প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ।
মামলায় আদালতকে সাহায্য করার জন্য প্রবীণ আইনজীবী হরিপ্রিয়া পদ্মনাভনকে আদালতবন্ধু হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। পরবর্তী শুনানি ১৬ নভেম্বর। তার আগে কেন্দ্রকে নকশা ও পরিসরের তথ্য দিয়ে বোঝাতে হবে, প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় এই বিপুল সংগ্রহের যথাযথ স্থান হবে কীভাবে। স্থানান্তরের পরিকল্পনা নিয়ে বিচারিক পরীক্ষার কেন্দ্রে এখন সেই প্রশ্নই।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



