সব পদকের গুরুত্ব কি সমান? ভারতের ৮৫ পদকের মধ্যে অনন্য পাঁচ

যা জানা জরুরি
- এই সাফল্য আরও বিশেষ হয়ে উঠেছে, কারণ এর সঙ্গে মিলেছে ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে সরাসরি অংশগ্রহণের ছাড়পত্র।
- তার আগের টোকিয়ো অলিম্পিকে অল্পের জন্য পদক হাতছাড়া হওয়ার পরে প্যারিস অলিম্পিকে যোগ্যতা অর্জনই করতে পারেনি ভারত।
- এখন খেলোয়াড়, কোচ ও ক্রীড়া প্রশাসকেরা অলিম্পিকে নিজেদের সেরাটা দেওয়া, এমনকি পদক জয়ের লড়াইয়ের প্রস্তুতিতেও সম্পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারবেন।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
এই সাফল্য আরও বিশেষ হয়ে উঠেছে, কারণ এর সঙ্গে মিলেছে ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে সরাসরি অংশগ্রহণের ছাড়পত্র। তার আগের টোকিয়ো অলিম্পিকে অল্পের জন্য পদক হাতছাড়া হওয়ার পরে প্যারিস অলিম্পিকে যোগ্যতা অর্জনই করতে পারেনি ভারত। এখন খেলোয়াড়, কোচ ও ক্রীড়া প্রশাসকেরা অলিম্পিকে নিজেদের সেরাটা দেওয়া, এমনকি পদক জয়ের লড়াইয়ের প্রস্তুতিতেও সম্পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারবেন।
কুস্তি: অমন সেহরাওয়াতের সোনা
পুরুষদের ৫৭ কেজি বিভাগ
ফাইনালে উত্তর কোরিয়ার বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হান চং সংকে হারিয়ে নিজের সাফল্যের মুকুটে আরও একটি পালক যোগ করলেন অমন। ২০২৪ সালের প্যারিস অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন তিনি। বিশ্বের অন্যতম কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই ৫৭ কেজি বিভাগে এশিয়ান গেমসে এটিই ভারতের প্রথম সোনা।
কুস্তিতে আরও একটি উল্লেখযোগ্য পদক নীতেশ সিওয়াচের রুপো। পুরুষদের ৯৭ কেজি গ্রেকো-রোমান বিভাগে তাঁর এই সাফল্য ভারতের ৬৪ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছে।
তিরন্দাজি: কুমকুম মোহোদের সোনা
মহিলাদের ব্যক্তিগত রিকার্ভ
১৯৭৮ সাল থেকে এশিয়ান গেমসে তিরন্দাজি রয়েছে। কিন্তু দোলা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দীপিকা কুমারীর মতো তিরন্দাজেরা অংশ নিলেও কোনও ভারতীয় মহিলা কখনও ব্যক্তিগত রিকার্ভের ফাইনালে উঠতে পারেননি। সেই বাধা ভাঙল ১৭ বছরের কুমকুম মোহোদ। শুধু ফাইনালে ওঠাই নয়, কোরিয়ার ও জে-ইনকে হারিয়ে সোনাও জিতল সে। সেই সঙ্গে নিশ্চিত করল অলিম্পিকে অংশগ্রহণের একটি কোটা।
মহিলাদের দলগত বিভাগেও সোনা জিতে কোরিয়ার ২৮ বছরের একচ্ছত্র আধিপত্যের অবসান ঘটিয়েছে ভারত। লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের দু’বছর আগে এই সাফল্য ভারতীয় তিরন্দাজিকে ঘিরে প্রত্যাশা বাড়িয়ে দিয়েছে।
শুটিং: নীরু ধান্দার সোনা
মহিলাদের ট্র্যাপ
এশিয়ান গেমসের শুটিংয়ে ভারতের বেশির ভাগ পদক সাধারণত আসে রাইফেল ও পিস্তল বিভাগ থেকে। কিন্তু ইতিহাসে এই প্রথম শটগান বিভাগ সোনার সংখ্যায় অন্য দুই বিভাগকে ছাপিয়ে গিয়েছে। এই সাফল্যের প্রধান মুখ হরিয়ানার ২৬ বছরের নীরু ধান্দা। বছরটা দুর্দান্ত কাটছে তাঁর। বিশ্বকাপে সোনা জেতার পরে এ বার আইচি-নাগোয়ায় জিতলেন দু’টি সোনা।
ব্যক্তিগত ট্র্যাপে তাঁর সোনা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৭৮ সালের এশিয়ান গেমসে রণধীর সিংহের সোনা জয়ের পরে এই ইভেন্টে আর কোনও ভারতীয় পদকের মঞ্চের সর্বোচ্চ ধাপে উঠতে পারেননি।
অ্যাথলেটিক্স: সাওয়ান বারওয়ালের রুপো
পুরুষদের ম্যারাথন
দেশের বাইরে অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসে ম্যারাথনে কখনও পদক জেতেনি ভারত। জাতীয় রেকর্ডের অধিকারী সাওয়ান বারওয়াল ২ ঘণ্টা ১১ মিনিট ৩৭ সেকেন্ড সময় করে রুপো জিতে সেই ইতিহাস বদলে দিলেন। শেষ হল এই ইভেন্টে ভারতের ৪৪ বছরের পদক-খরা। একই সঙ্গে এত বড় মঞ্চে নিজের জাতীয় রেকর্ডও উন্নত করলেন তিনি।
এর আগে এশিয়ান গেমসের ম্যারাথনে ভারতের তিনটি পদক এসেছিল ১৯৮২ সালে একটি ব্রোঞ্জ এবং ১৯৫১ সালে একটি সোনা ও একটি ব্রোঞ্জের হাত ধরে। দু’বারই প্রতিযোগিতা হয়েছিল দিল্লিতে।
বারওয়ালের কৃতিত্ব আরও বড় হয়ে ওঠে প্রতিদ্বন্দ্বীদের পূর্ববর্তী পারফরম্যান্সের দিকে তাকালে। এই দৌড়ে অংশ নেওয়া দশ জনের ব্যক্তিগত সেরা সময় তাঁর চেয়ে ভাল ছিল। তা সত্ত্বেও নিজের সেরা সময় এবং দেশের রেকর্ড উন্নত করে রুপো জিতলেন এই ভারতীয়। তা-ও বৃষ্টির মধ্যে দৌড়ে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



