দেশ

আইআইটি থেকে এসআইআর, ইউপিআই: বিক্ষোভের নেপথ্যে ‘কমিউনিস্ট-ইসলামপন্থী চক্র’, দাবি অর্গানাইজারের

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • বাংলাস্ফিয়ারঃ “গণতান্ত্রিক অধিকার ও আন্দোলনের নামে ‘ব্র্যান্ড ভারত’কে হেয় করা এখন ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে”—এমনই মন্তব্য করেছে আরএসএস-ঘনিষ্ঠ পত্রিকা অর্গানাইজার।
  • আইআইটি বম্বের এক ছাত্রের আত্মহত্যা, নির্বাচন কমিশনের বিতর্কিত ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর থেকে শুরু করে ইউপিআই লেনদেনে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা…
  • পত্রিকার সর্বশেষ সংখ্যার সম্পাদকীয়তে অর্গানাইজারের সম্পাদক প্রফুল্ল কেতকর লিখেছেন, “বিক্ষোভে ইন্ধন দেওয়া, প্রতিটি বিষয়ে জাতপাতের আবেগ উসকে দেওয়া, সরকারের প্রতি বিচ্ছিন্নতার মনোভাব তৈরি করা…

বিস্তারিত প্রতিবেদন

বাংলাস্ফিয়ারঃ “গণতান্ত্রিক অধিকার ও আন্দোলনের নামে ‘ব্র্যান্ড ভারত’কে হেয় করা এখন ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে”—এমনই মন্তব্য করেছে আরএসএস-ঘনিষ্ঠ পত্রিকা অর্গানাইজার। আইআইটি বম্বের এক ছাত্রের আত্মহত্যা, নির্বাচন কমিশনের বিতর্কিত ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর থেকে শুরু করে ইউপিআই লেনদেনে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা এমডিআর—বিভিন্ন বিষয় নিয়ে চলতি বিক্ষোভগুলিকে পত্রিকাটি যাকে “কমিউনিস্ট-ইসলামপন্থী চক্র” বলেছে, তার কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত করেছে।

পত্রিকার সর্বশেষ সংখ্যার সম্পাদকীয়তে অর্গানাইজারের সম্পাদক প্রফুল্ল কেতকর লিখেছেন, “বিক্ষোভে ইন্ধন দেওয়া, প্রতিটি বিষয়ে জাতপাতের আবেগ উসকে দেওয়া, সরকারের প্রতি বিচ্ছিন্নতার মনোভাব তৈরি করা এবং প্রতিষ্ঠানগুলির বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করা—এটাই এক কমিউনিস্ট-ইসলামপন্থী চক্রের নতুন কার্যপদ্ধতি।”

তাঁর আরও অভিযোগ, “বিদেশের ভারতবিরোধী শক্তিগুলি” এই আন্দোলনগুলিকে “উৎসাহ ও অর্থ জোগাচ্ছে”, আর কিছু বিরোধী দল “স্বল্পমেয়াদি রাজনৈতিক স্বার্থে এই খেলার ফাঁদে পা দিচ্ছে”।

অর্গানাইজারের ২৮ সেপ্টেম্বরের সম্পাদকীয়টির শিরোনাম, “বিক্ষোভের মরসুম—আইআইটি বম্বে, নির্বাচন কমিশন ও ইউপিআই: মার্ক্স ও মাওয়ের হাত থেকে গান্ধী ও আম্বেদকরকে রক্ষা করা”। সেখানে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ব্যবহৃত ‘সংবিধান বিপন্ন’ ভাষ্যের পরে বিক্ষোভের নতুন পর্ব শুরু হয়েছে। সম্পাদকীয়টির দাবি, শিক্ষার প্রশ্নের সঙ্গে জাতপাতের পরিচয়কে মিলিয়ে এখন তরুণদের কাজে লাগাচ্ছে “পরিচিতিভিত্তিক রাজনৈতিক কূটকৌশল”। এই প্রবণতা ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচন, এমনকি ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন পর্যন্তও চলতে পারে বলে মন্তব্য করা হয়েছে।

গণতন্ত্রে “বিক্ষোভ ও আন্দোলন স্বাভাবিক অভিব্যক্তি”—এ কথা স্বীকার করেও কেতকর লিখেছেন, মার্ক্স ও মাওয়ের অনুপ্রেরণায় পরিচালিত কমিউনিস্টদের মহাত্মা গান্ধীর সত্যাগ্রহের ধারণা এবং বি আর আম্বেদকরের প্রতিকৃতি ও প্রতীকী উপস্থিতি ব্যবহার করা “সমস্যাজনক”। সম্পাদকীয়টির যুক্তি, গান্ধীর শান্তিপূর্ণ প্রতিরোধের পদ্ধতির সঙ্গে মার্ক্সবাদী ও মাওবাদী রাজনৈতিক লক্ষ্যকে মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

আইআইটি বম্বের এক ছাত্রের সাম্প্রতিক আত্মহত্যার প্রসঙ্গ টেনে, তাঁর মৃত্যুকে জাতপাতের ভিত্তিতে বৈষম্যের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সম্পাদকীয়টি। সেখানে বলা হয়েছে, পরীক্ষায় নকলের অভিযোগ এবং তার জেরে শৃঙ্খলাভঙ্গের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনাকে “জাতপাতভিত্তিক বৈষম্যের বিষয়ে” পরিণত করা হয়েছে।

কেতকর লিখেছেন, “জাতপাতনির্বিশেষে আইআইটির ছাত্রছাত্রীরা যদি মানসিক চাপ সামলাতে না পেরে আত্মহত্যার মতো চরম পদক্ষেপ করেন, তা হলে প্রয়োজন আত্মসমীক্ষার, আন্দোলনের নয়।” তাঁর যুক্তি, পারিবারিক ও সামাজিক চাপ এবং মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়গুলিও খতিয়ে দেখা উচিত। তিনি আরও বলেছেন, “উৎকর্ষের প্রতীক আইআইটির ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ণ” করতে দেওয়া উচিত নয় “মতাদর্শগত আন্দোলনকে”।

একই ভাবে নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম এবং এসআইআর নিয়ে প্রশ্ন তোলাকেও নিশানা করেছে সম্পাদকীয়টি। তার অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনারদের নিজেদের মধ্যেকার আলোচনা এমন ভাবে তুলে ধরা হচ্ছে, যাতে নির্বাচনী গণতন্ত্রের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হয়; এটিও “একই কূটকৌশলের অংশ”। ইভিএম ও এসআইআর নিয়ে ওঠা প্রশ্নের উল্লেখ করে সম্পাদকীয়টি জানতে চেয়েছে, “এ কি কাকতালীয়, নাকি এর মধ্যে এমন একটি ছক রয়েছে, যা আমাদের বুঝে নিতে হবে?”

তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, ইউপিআই লেনদেনে প্রস্তাবিত এমডিআর-এর পক্ষেও সওয়াল করেছে সম্পাদকীয়টি। অথচ এই প্রশ্নে বিপরীত অবস্থান নিয়েছে আরএসএসেরই আর এক সংগঠন স্বদেশি জাগরণ মঞ্চ বা এসজেএম।

দু’হাজার টাকার বেশি বাণিজ্যিক লেনদেনে সর্বোচ্চ ০.৪ শতাংশ এমডিআর চালুর প্রস্তাবের উল্লেখ করে সম্পাদকীয়টি বলেছে, এটি “বিক্ষোভের আরও একটি বিষয় হয়ে উঠতে পারে”। তার যুক্তি, এই মাশুল ব্যক্তিগত টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। এমনকি পণ্য কেনাবেচার লেনদেনেও খরচ হবে “নগণ্য”, যা এটিএম থেকে টাকা তোলা বা ক্রেডিট কার্ডে অর্থ মেটানোর খরচের চেয়ে কম।

কেতকর লিখেছেন, “ইউপিআইও ভারতের প্রযুক্তিগত ব্র্যান্ড, যা বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত ও সমাদৃত। গ্রামীণ ভারতে ইউপিআই প্রযুক্তির সাফল্য নিয়ে যাঁরা প্রশ্ন তুলছেন, ভুল তথ্য ছড়িয়ে নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠীকে উসকানিও দিচ্ছেন সেই একই ব্যক্তিরা। শেষ পর্যন্ত তাঁরা আমাদের জাতীয় প্রযুক্তিগত সাফল্যকেই খাটো করছেন।”

কিন্তু এই অবস্থান স্বদেশি জাগরণ মঞ্চের অবস্থানের বিপরীত। সম্প্রতি ইউপিআই লেনদেনে এমডিআর চালুর সুযোগ করে দেওয়ার পদক্ষেপ স্থগিত রাখতে মোদী সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছে মঞ্চ।

এক বিবৃতিতে এসজেএমের জাতীয় সহ-আহ্বায়ক অশ্বিনী মহাজন যুক্তি দিয়েছিলেন, ব্যাঙ্ক এবং সরকার-নির্দিষ্ট অন্য বৈদ্যুতিন পেমেন্ট পরিষেবা প্রদানকারীদের এমডিআর ধার্যের অনুমতি দিলে ইউপিআই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে ভারসাম্য ভিসা ও মাস্টারকার্ডের মতো আন্তর্জাতিক কার্ড সংস্থাগুলির অনুকূলে চলে যেতে পারে।

“ইউপিআই এই দশকের এক সাফল্যের কাহিনি”—বলেছে স্বদেশি জাগরণ মঞ্চ। তাদের সতর্কবার্তা, এমডিআর আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সংস্থাগুলিকে ভারতে হারানো জমি পুনরুদ্ধারের সুযোগ করে দিতে পারে।

শুধু তা-ই নয়, রফতানির জন্য ই-কমার্স সংস্থাগুলিকে পণ্যের মজুত রাখার অনুমতি দেওয়ার সরকারি পদক্ষেপের সঙ্গেও এমডিআর-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তকে এক বন্ধনীতে রেখেছে এসজেএম। ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য আলোচনার প্রেক্ষাপটে এই দুই পদক্ষেপকে আপাতদৃষ্টিতে “অপ্রয়োজনীয় সদিচ্ছা প্রদর্শন” বলে বর্ণনা করে সেগুলি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

অর্গানাইজারের সম্পাদকীয়তে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তোলা হয়েছে। বলা হয়েছে, তাঁরা “ইসলামপন্থীদের পাশাপাশি মার্ক্সবাদী ও মাওবাদীদের উপর ভর করে” ভুল তথ্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপতথ্যের মাধ্যমে “ভয়, বিদ্বেষ এবং নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি” ছড়াচ্ছেন।

বর্তমান পরিস্থিতিকে “পুনরুত্থানশীল ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ” বলে বর্ণনা করেছে সম্পাদকীয়টি। তার দাবি, সমাজে বিভাজন ও রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির জন্য বিক্ষোভ “তৈরি করা হচ্ছে” এবং জাতপাত, ভাষা ও ধর্মীয় পরিচয়কে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

গান্ধী ও আম্বেদকরের প্রসঙ্গ টেনে কেতকর যুক্তি দিয়েছেন, জাতপাতভিত্তিক প্রতিনিধিত্ব, অস্পৃশ্যতা এবং সামাজিক একক হিসেবে গ্রামকে দেখা নিয়ে দু’জনের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও তাঁরা উভয়েই গণতান্ত্রিক ও অহিংস পদ্ধতির প্রতি দায়বদ্ধ ছিলেন। তাঁর উপসংহার, শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক সামাজিক রূপান্তরের জন্য “মার্ক্সবাদী-মাওবাদী চরমপন্থার হাত থেকে গান্ধীজি ও বাবাসাহেব আম্বেদকরকে রক্ষা করা” প্রয়োজন।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles