দেশ

গুজরাতের অভিন্ন দেওয়ানি বিধিতে রাষ্ট্রপতির সম্মতি, উত্তরাখণ্ডের পরে দ্বিতীয় রাজ্য

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • গুজরাতের অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোডের বিলে সম্মতি দিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু।
  • এর ফলে উত্তরাখণ্ডের পরে স্বাধীন ভারতে একই ধরনের বিস্তৃত আইন প্রণয়নের পথে দ্বিতীয় রাজ্য হল গুজরাত।
  • শুক্রবার, ২ অক্টোবর প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের মাধ্যমে আইনটির একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ধাপ সম্পূর্ণ হয়েছে।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

গুজরাতের অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোডের বিলে সম্মতি দিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। এর ফলে উত্তরাখণ্ডের পরে স্বাধীন ভারতে একই ধরনের বিস্তৃত আইন প্রণয়নের পথে দ্বিতীয় রাজ্য হল গুজরাত। শুক্রবার, ২ অক্টোবর প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের মাধ্যমে আইনটির একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ধাপ সম্পূর্ণ হয়েছে। বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার এবং লিভইন সম্পর্কের ক্ষেত্রে ধর্মনির্বিশেষে সাধারণ আইনি কাঠামো প্রতিষ্ঠাই এর উদ্দেশ্য।

তবে রাষ্ট্রপতির সম্মতি পাওয়া এবং আইন কার্যকর হওয়া এক বিষয় নয়। গুজরাত সরকারকে এর প্রয়োগের জন্য বিধি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রকাশ করতে হবে। সেই প্রক্রিয়ার পরে আইন কার্যকর হবে। ফলে এখনই রাজ্যের সমস্ত ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সম্পর্ক নতুন বিধির অধীনে চলে এসেছে, এমন দাবি সঠিক নয়। প্রশাসনিকভাবে কী পদ্ধতিতে আইন প্রয়োগ হবে, তা বোঝার জন্য বিধিগুলি গুরুত্বপূর্ণ।

গত ২৪ মার্চ দীর্ঘ বিতর্কের পরে গুজরাত বিধানসভায় বিলটি ধ্বনিভোটে পাশ হয়। মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র পটেল বিলটি পেশ করেছিলেন। তার এক সপ্তাহ আগে রাজ্য সরকারের গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। বিবাহ ও পারিবারিক বিষয়ে বিভিন্ন ধর্মীয় ব্যক্তিগত আইনের পরিবর্তে সাধারণ নিয়ম চালু করার এই উদ্যোগ নিয়ে তখন থেকেই সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে।

আইনটি গোটা গুজরাতে প্রযোজ্য হবে। রাজ্যের বাইরে বসবাসকারী গুজরাতের বাসিন্দাদের ক্ষেত্রেও এর প্রয়োগের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে তফসিলি জনজাতির সদস্যেরা এর আওতার বাইরে থাকবেন। সংবিধানে প্রথাগত অধিকার সুরক্ষিত রয়েছে, এমন কয়েকটি গোষ্ঠীর ক্ষেত্রেও ছাড় রয়েছে। অর্থাৎ, ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে সাধারণ বিধি চালুর লক্ষ্য থাকলেও আইনের প্রয়োগে নির্দিষ্ট ব্যতিক্রম থাকছে। এই ছাড় আইনের পরিধি বোঝার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক।

নতুন কাঠামোয় বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করার বিধান রয়েছে। বৈধ বিবাহের শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে, বিয়ের সময়ে কোনও পক্ষেরই অন্য জীবিত স্বামী বা স্ত্রী থাকতে পারবেন না। পাশাপাশি লিভইন সম্পর্কের নথিভুক্তি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং সেই সম্পর্ক শেষ করার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়াও রাখা হয়েছে। ফলে বিয়ে ছাড়াই একসঙ্গে থাকা যুগলদের সম্পর্কও প্রশাসনিক নথিভুক্তির আওতায় আসবে। ব্যক্তিগত জীবনে রাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে বিতর্কের একটি কেন্দ্র এই ব্যবস্থা।

সরকারের বক্তব্য, এই সংস্কার নারীদের সমান অধিকার এবং মর্যাদা নিশ্চিত করবে। মুখ্যমন্ত্রী পটেল বিল পেশের সময়ে দাবি করেছিলেন, সাম্য, ন্যায়বিচার ও ঐক্যের সাংবিধানিক লক্ষ্যকে শক্তিশালী করতেই এই পদক্ষেপ। উপমুখ্যমন্ত্রী হর্ষ সাংঘভির যুক্তি ছিল, ধর্মভিত্তিক পৃথক ব্যক্তিগত আইনের কারণে মহিলাদের দুর্ভোগ হয়েছে; বিবাহ ও উত্তরাধিকারে একই নিয়ম সেই বৈষম্য দূর করতে সাহায্য করবে। সরকারের কাছে তাই এটি সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ।

বিরোধীরা অবশ্য আইন আনার সময় এবং পরামর্শ গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কংগ্রেস নেতা অমিত চাভদার অভিযোগ ছিল, গুরুত্বপূর্ণ সংশ্লিষ্ট পক্ষ ও ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে যথেষ্ট আলোচনা হয়নি। কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ না করেই দ্রুত বিল আনার প্রয়োজন কী, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, এত বড় পরিবর্তনের আগে আরও বিস্তৃত ঐকমত্য প্রয়োজন। এই অভিযোগগুলি সরকারের ঘোষিত সমতার লক্ষ্যের পাশাপাশি আইন তৈরির প্রক্রিয়াকেও বিতর্কে এনেছে।

বিল পাশের আগে কংগ্রেস বিধায়কেরা সেটি সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানোর দাবি জানিয়ে ওয়াকআউট করেন। বিরোধীদের অভিযোগ, নির্বাচনী লাভের হিসাব থেকেই বিষয়টি এগিয়ে নিয়েছে বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য দাবি করেন, এই আইন কোনও সম্প্রদায়ের অধিকার বা স্বাধীনতা কেড়ে নেবে না। রাষ্ট্রপতির সম্মতির পরে এখন নজর থাকবে প্রয়োগবিধির দিকে। নথিভুক্তি, সম্পর্কের আইনি স্বীকৃতি এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সাধারণ মানুষের জীবনে কী পরিবর্তন আনবে, কার্যকর হওয়ার পর্যায়েই তা আরও স্পষ্ট হবে। সেই বাস্তব প্রয়োগই সরকারের সমতার প্রতিশ্রুতির প্রধান পরীক্ষা হয়ে উঠবে। সেজন্য প্রয়োজন স্পষ্ট এবং সহজবোধ্য প্রশাসনিক নির্দেশিকা।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles