অক্টোবরের প্রথম দিনেও পতন অব্যাহত ভারতীয় শেয়ার বাজারে। বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, দুপুরের লেনদেনে সেনসেক্সের ক্ষতি ৮০০ পয়েন্ট ছাড়িয়ে যায়। নিফটিও নেমে আসে ২২,৫০০-এর নীচে। শেষবেলায় কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও দুই প্রধান সূচকই লোকসানে বন্ধ হয়েছে। তবে বাজারের সামগ্রিক দুর্বলতার মধ্যেও কয়েকটি বড় ব্যাঙ্ক ও তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার শেয়ারে ক্রেতাদের আগ্রহ বজায় ছিল।

দিনের শেষে বিএসই সেনসেক্স ৫৭০.৫৯ পয়েন্ট বা ০.৭৯ শতাংশ নেমে দাঁড়ায় ৭১,৯০৯.৭০-এ। এনএসই নিফটি ৫০ কমেছে ১৯৮.৫০ পয়েন্ট বা ০.৮৮ শতাংশ; বন্ধ হয়েছে ২২,৪২১.৯৫-এ। এই চূড়ান্ত হিসাব দিনের মাঝের আরও তীব্র পতন থেকে কিছুটা পুনরুদ্ধারের ছবি দেখালেও বাজারের দিক বদলের ইঙ্গিত দেয়নি।

দুপুর ১টা ২৮ মিনিটের হিসাবে সেনসেক্স ছিল ৭১,৬৫৮.০৯-এ, পতন ৮২২.২০ পয়েন্ট বা ১.১৩ শতাংশ। নিফটি তখন ২৯৪.৮০ পয়েন্ট বা ১.৩০ শতাংশ কমে ২২,৩২৫.৩৫-এ। ফলে নিফটি শুধু ২২,৫০০-এর কাছাকাছি ছিল বলা যথেষ্ট নয়; দুপুরের ওই পর্যায়ে সূচক সেই স্তরের বেশ নীচে নেমেছিল।

এর প্রায় এক ঘণ্টা আগে ছবিটি তুলনায় কম উদ্বেগজনক ছিল। দুপুর ১২টা ১৮ মিনিটে সেনসেক্স ২৭২.৪৮ পয়েন্ট হারিয়ে ৭২,২০৭.৮১-এ এবং নিফটি ৭৭.৯০ পয়েন্ট কমে ২২,৫৪২.৫৫-এ ছিল। অর্থাৎ পরবর্তী পর্যায়ে বিক্রির চাপ দ্রুত বেড়েছে। একই দিনের বিভিন্ন সময়ের এই সংখ্যাগুলি বাজারের গতিপথ বোঝায়; এগুলিকে সমাপ্তির দর হিসেবে ধরলে ভুল হবে।

পতনের মধ্যেও দুপুরের একটি হিসাবে এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের শেয়ার ১.০১ শতাংশ এবং ইনফোসিস ০.৮৪ শতাংশ বেড়েছিল। কোটাক মাহিন্দ্রা ব্যাঙ্কের বৃদ্ধি ছিল ০.৫৭ শতাংশ, এইচসিএল টেকনোলজিসের ০.৩১ শতাংশ এবং টিসিএসের ০.১৩ শতাংশ। এগুলিও সংশ্লিষ্ট মুহূর্তের দরবৃদ্ধি, সারাদিনের চূড়ান্ত ফল নয়।

এই বৈপরীত্যের তাৎপর্য হল, প্রধান সূচক নামলেই প্রতিটি শেয়ারের দাম কমে না। সূচকে অন্তর্ভুক্ত সংস্থাগুলির গুরুত্বও সমান নয়। ফলে কয়েকটি বড় শেয়ার বাড়লেও অন্য শেয়ারগুলির সম্মিলিত পতন সূচককে নীচে টেনে নিতে পারে। বৃহস্পতিবারের তথ্য থেকে নির্বাচিত ব্যাঙ্ক ও প্রযুক্তি শেয়ারের আপেক্ষিক শক্তি বোঝা যায়; গোটা ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্র শক্তিশালী ছিল, এমন সিদ্ধান্ত টানা যায় না।

বাজারের উপর চাপের পেছনে বিদেশি লগ্নিকারীদের বিক্রি, মার্কিন সরকারি বন্ডের বাড়তি আয় এবং টাকার দুর্বলতা উল্লেখ করা যায়। বুধবার বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় শেয়ারে ১০,১৪৮.৪১ কোটি টাকার নিট বিক্রি করেছিলেন। মার্কিন দশ বছরের সরকারি বন্ডের আয় ৫.৩ শতাংশের উপরে ওঠায় ডলারভিত্তিক বিনিয়োগের আকর্ষণও বেড়েছে।

অপরিশোধিত তেলের চড়া দাম উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ব্রেন্ট তেল ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের কাছাকাছি এবং ডলারের তুলনায় টাকা প্রায় ৯৬-এর স্তরে থাকায় আমদানি ব্যয় নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে। ভারতের মতো তেল আমদানিনির্ভর অর্থনীতিতে এই পরিস্থিতি মূল্যস্ফীতি ও সংস্থার খরচ বাড়ার ঝুঁকি তৈরি করে। গাড়ি, ধাতু ও পরিকাঠামোর একাধিক শেয়ারে বিক্রির চাপও লক্ষ করা গিয়েছে।)

রয়টার্সের হিসাবে, এই সপ্তাহ নিয়ে টানা আট সপ্তাহ লোকসান হল দুই প্রধান সূচকে, যা ২৫ বছরের মধ্যে দীর্ঘতম সাপ্তাহিক পতনের ধারা। সপ্তাহে নিফটি কমেছে ৩.১ শতাংশ এবং সেনসেক্স ২.৭ শতাংশ। আট সপ্তাহে তাদের মোট পতন যথাক্রমে ৮.৭ ও ৮.৪ শতাংশ।

বৃহত্তর বাজারেও দুর্বলতা ছিল। সপ্তাহজুড়ে ছোট সংস্থার শেয়ারের সূচক ৩.৪ শতাংশ এবং মাঝারি সংস্থার সূচক ৩.৬ শতাংশ কমেছে। বিপরীতে, তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রের সূচক বৃহস্পতিবার ২.২ শতাংশ বাড়ে এবং সপ্তাহে ০.৫ শতাংশ লাভ ধরে রাখে। অর্থাৎ বড় সূচকের বাইরেও বিক্রির চাপ ছড়ালেও প্রযুক্তি শেয়ার কিছুটা প্রতিরোধ গড়েছে।

তাই শেষবেলার সামান্য পুনরুদ্ধারকে স্থায়ী স্বস্তির লক্ষণ বলা যাচ্ছে না। বৃহস্পতিবারের লেনদেন দেখিয়েছে, বাছাই করা শেয়ারে চাহিদা থাকলেও বাজারজুড়ে নতুন করে আস্থা ফিরতে আরও বিস্তৃত অংশগ্রহণ প্রয়োজন। বিদেশি অর্থপ্রবাহ, তেলের দর এবং আন্তর্জাতিক সুদের গতিপথই আপাতত বিনিয়োগকারীদের নজরে থাকবে।