রাজ্য

‘খারিজ করব, তবে সোমবার’: মিলনের জামিনের বিরুদ্ধে রাজ্যের আবেদনে সুপ্রিম কোর্ট

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের অন্তর্বর্তী জামিনের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আবেদনের জরুরি শুনানিতে সায় দিল না সুপ্রিম কোর্ট।
  • বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানায়, বিষয়টি সোমবার, ৫ অক্টোবর শুনানির জন্য তোলা হবে।
  • রাজ্যের আবেদন সম্পর্কে প্রধান বিচারপতির মন্তব্য, “খারিজ করব, তবে সোমবার।” উপনির্বাচনের ঠিক আগে সর্বোচ্চ আদালতের এই অবস্থান মিলনের স্বস্তি বজায় রাখল।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের অন্তর্বর্তী জামিনের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আবেদনের জরুরি শুনানিতে সায় দিল না সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানায়, বিষয়টি সোমবার, ৫ অক্টোবর শুনানির জন্য তোলা হবে। রাজ্যের আবেদন সম্পর্কে প্রধান বিচারপতির মন্তব্য, “খারিজ করব, তবে সোমবার।” উপনির্বাচনের ঠিক আগে সর্বোচ্চ আদালতের এই অবস্থান মিলনের স্বস্তি বজায় রাখল।

রাজ্যের হয়ে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বৃহস্পতিবারই শুনানির আর্জি জানান। তাঁর যুক্তি ছিল, মিলনের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ রয়েছে। নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য তাঁকে জামিন দেওয়া হয়েছে। অথচ নন্দীগ্রামে ভোট ৬ অক্টোবর। তার আগে আবেদনটি শোনা না হলে জামিনকে চ্যালেঞ্জ করার উদ্দেশ্যই কার্যত ব্যর্থ হয়ে যাবে। তাই বিষয়টি দ্রুত আদালতের বিবেচনার জন্য তোলার অনুরোধ করেন তিনি।

প্রধান বিচারপতি অবশ্য জানান, বৃহস্পতিবারের শুনানির তালিকা ইতিমধ্যেই দীর্ঘ। মেহতা ফের অনুরোধ করলেও বেঞ্চ সোমবারের সিদ্ধান্তে অনড় থাকে। প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বেঞ্চে ছিলেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনা। তবে আবেদন খারিজ করার ইঙ্গিত ও চূড়ান্ত বিচারিক নির্দেশ এক বিষয় নয়। বুধবারের ঘটনাকে রাজ্যের আবেদন ইতিমধ্যেই খারিজ হয়ে গিয়েছে বলে ব্যাখ্যা করা সঠিক হবে না।

কলকাতা হাই কোর্ট ২৯ সেপ্টেম্বর মিলনকে ছয়টি মামলায় তিন সপ্তাহের অন্তর্বর্তী জামিন দেয়। মামলাগুলি ২০০৭ সালের জমি অধিগ্রহণবিরোধী আন্দোলনের সময়কার। পাঁচটি নন্দীগ্রামের, একটি পাশের খেজুরির। এর মধ্যে চারটি খুনের মামলা। জামিনের শর্ত অনুযায়ী, আগামী ২১ অক্টোবর তাঁকে হলদিয়ার আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে। অর্থাৎ নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দিলেও হাই কোর্টের নির্দেশে তাঁর বিরুদ্ধে মামলাগুলির নিষ্পত্তি হয়নি।

জামিন দেওয়ার সময় হাই কোর্ট গ্রেফতারের সময়কালকে গুরুত্ব দিয়েছিল। আদালতের নজরে আসে, মামলাগুলি প্রায় উনিশ বছরের পুরনো এবং মিলন গ্রেফতার হওয়ার আগেই উপনির্বাচনের মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন। এতদিন আইনি প্রক্রিয়া কার্যকর করার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও পুলিশ কেন মনোনয়ন পেশের পরে তাঁকে গ্রেফতার করল, সেই পরিস্থিতি বিবেচনায় আসে। আদালত তাঁকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ দেওয়ার পক্ষে মত জানায়।

রাজ্য অবশ্য হাই কোর্টের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে অভিযোগগুলির গুরুতর চরিত্র সামনে এনেছে। তার আবেদনে খুন, অগ্নিসংযোগ, বোমা বিস্ফোরণ এবং অস্ত্র নিয়ে দাঙ্গার অভিযোগের উল্লেখ রয়েছে। রাজ্যের দাবি, দীর্ঘদিন বিচারিক প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়ার বিষয়টি যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে সরকার। এগুলি রাজ্যপক্ষের বক্তব্য; সুপ্রিম কোর্ট বুধবার এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করেনি।

মিলন গ্রেফতার হন ১৮ সেপ্টেম্বর। তার কয়েক ঘণ্টা আগে তৃণমূলের প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহারের কথা জানান এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের ঘোষণা করেন। ফলে পুরনো মামলায় গ্রেফতার এবং নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক তীব্র হয়। জমি আন্দোলনের সময়ে মিলন ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির সদস্য ছিলেন। রাসায়নিক শিল্পকেন্দ্রের জন্য জমি অধিগ্রহণের বিরোধিতা করেই ওই কমিটি তৈরি হয়েছিল।

এই আসনে উপনির্বাচনের কারণ শুভেন্দু অধিকারীর নন্দীগ্রাম ছেড়ে দেওয়া। বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরে জেতার পরে তিনি ভবানীপুর আসনটি রাখেন। ভোটের প্রচার শেষ হওয়ার কথা ৪ অক্টোবর, ভোটগ্রহণ ৬ অক্টোবর এবং গণনা ৯ অক্টোবর। ফলে রাজ্যের আবেদনের জন্য নির্ধারিত সোমবারের শুনানি হবে প্রচারপর্ব শেষ হওয়ার পরে, ভোটগ্রহণের আগের দিন।

আপাতত তাই মিলনের অন্তর্বর্তী জামিন বহাল রয়েছে। রাজ্য যে দ্রুত হস্তক্ষেপ চেয়েছিল, বুধবার তা পায়নি। সোমবার আবেদনটি আদালতে উঠলে পরবর্তী নির্দেশ জানা যাবে। এই মুহূর্তে বিচারিক অবস্থানটি স্পষ্ট: নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সাময়িক সুযোগ পেয়েছেন কংগ্রেস প্রার্থী, কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাগুলি বহাল। একইভাবে রাজ্যের আপিল নিয়েও প্রধান বিচারপতির মৌখিক মন্তব্যকে আনুষ্ঠানিক নিষ্পত্তির বিকল্প হিসেবে ধরা যাবে না। এখন নজর সোমবার সর্বোচ্চ আদালতের শুনানিতে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles