রাজ্য

‘শুভেন্দু এত ভয় পাচ্ছেন কেন?’ জেলমুক্ত হয়েই নন্দীগ্রামে প্রচারে কংগ্রেসের মিলন

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • জেল থেকে বেরিয়েই নন্দীগ্রামের নির্বাচনী ময়দানে ফিরলেন কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান।
  • বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর হলদিয়া সংশোধনাগার থেকে মুক্তির পর সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে নিশানা করেন তিনি।
  • প্রশ্ন তোলেন, নন্দীগ্রামকে নিজের আন্দোলনের জায়গা বলে দাবি করা শুভেন্দু তাঁকে এত ভয় পাচ্ছেন কেন?

বিস্তারিত প্রতিবেদন

জেল থেকে বেরিয়েই নন্দীগ্রামের নির্বাচনী ময়দানে ফিরলেন কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর হলদিয়া সংশোধনাগার থেকে মুক্তির পর সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে নিশানা করেন তিনি। প্রশ্ন তোলেন, নন্দীগ্রামকে নিজের আন্দোলনের জায়গা বলে দাবি করা শুভেন্দু তাঁকে এত ভয় পাচ্ছেন কেন? আগামী ৬ অক্টোবর এই বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন।

মিলনের বক্তব্য, নন্দীগ্রামের আন্দোলন থেকেই শুভেন্দুর রাজনৈতিক উত্থান। অথচ সেই কেন্দ্রে বিজেপি কেন বহিরাগতকে প্রার্থী করেছে, তার জবাব দেওয়া প্রয়োজন। নিজেকে নন্দীগ্রামের ভূমিপুত্র হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, যে আন্দোলনের সময়কার মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তখন শুভেন্দুও সেই আন্দোলনে ছিলেন। তাঁর দাবি, স্থানীয় মানুষের সমর্থনই বিজেপির উদ্বেগের কারণ।

মুক্তির পরে মিলন সোনাচূড়ায় নিজের পৈতৃক বাড়িতে গিয়ে বাবা প্রবীরচন্দ্র প্রধান ও মা বঙ্গবালা প্রধানের সঙ্গে দেখা করেন। এরপর সমর্থকদের গাড়ির মিছিল নিয়ে প্রচারে নামেন। পথসভায় তাঁর দাবি, মানুষের উপস্থিতি বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভের প্রকাশ। নন্দীগ্রাম বরাবর নিপীড়িত মানুষের পাশে থেকেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মঙ্গলবার বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ তাঁকে সাময়িক স্বস্তি দিলেও মামলাগুলির নিষ্পত্তি হয়নি। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ২১ অক্টোবর হলদিয়ার আদালতে তাঁকে আত্মসমর্পণ করতে হবে। ফলে ভোটে লড়ার সুযোগ মিললেও তাঁর বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়া বহাল থাকছে। এই মুহূর্তে তাঁর মুক্তি শর্তসাপেক্ষ এবং সাময়িক।

তাঁকে নির্বাচনী লড়াই থেকে সরাতে চাপ দেওয়ার গুরুতর অভিযোগও তুলেছেন কংগ্রেস প্রার্থী। একটি সংবাদ সংস্থার প্রকাশিত ভিডিওতে মিলন অভিযোগ করেন, চোখ বেঁধে তাঁকে একটি হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করতে বলা হয়েছিল। তিনি রাজি হননি। তাঁর অভিযোগ, ভোটের প্রচার থেকে দূরে রাখতেই পুরনো মামলাগুলিতে গ্রেফতার করা হয়। তবে এই অভিযোগগুলি তাঁর বক্তব্য; এগুলিকে আদালতে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে দেখার অবকাশ নেই।

মিলন বন্দি থাকাকালীন তাঁর স্ত্রী অর্পিতা প্রধান কংগ্রেস নেতা ও কর্মীদের সঙ্গে প্রচার চালিয়েছেন। অর্পিতার দাবি, কলেজজীবন থেকেই কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত তাঁর স্বামীকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বাধা দিতেই মিথ্যা অভিযোগে বন্দি করা হয়েছিল। জমি আন্দোলনে মিলনের সঙ্গে যুক্ত অন্যদের কেউ কেউ এখন ক্ষমতাবান হলেও তাঁর স্বামী কেন জেলে, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।

মিলনের আইনজীবী আশফাক আহমদও গ্রেফতারের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, একই আন্দোলনের মামলায় বিজেপি নেতা এবং বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর নাম থাকলেও উনিশ বছর পরে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কংগ্রেস প্রার্থীর বিরুদ্ধে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার জামিনকে দলের ন্যায়ের লড়াইয়ের সাফল্য বলে তুলে ধরেছেন। মিলন জানিয়েছেন, হাতে সময় কম থাকায় মুক্তির দিন থেকেই প্রচার শুরু করা জরুরি।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর মিলনকে গ্রেফতার করা হয় ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলন সংক্রান্ত হত্যা মামলায়। নন্দীগ্রাম থানায় চারটি এবং খেজুরি থানায় দু’টি মামলা রয়েছে। মঙ্গলবার কলকাতা হাই কোর্ট তাঁকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত অন্তর্বর্তী জামিন দেয়। এই জামিনের ফলে ভোটের আগে ব্যক্তিগতভাবে প্রচারে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন তিনি।

রাজ্য সরকার অবশ্য জামিনের নির্দেশের বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। সরকারের যুক্তি, ছ’টি জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকা হত্যা মামলার অভিযুক্তকে এমন ছাড় দেওয়া উচিত হয়নি। অন্যদিকে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ বিরোধী প্রার্থীর কণ্ঠরোধের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, আইন নিজের পথে চলবে এবং বিজেপি বিরোধীদের দমিয়ে রাখার মতো আচরণ করবে না।

এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম, দুই কেন্দ্রেই জেতার পরে শুভেন্দু ভবানীপুর রেখে নন্দীগ্রাম ছেড়ে দেন। সেই শূন্য আসনেই ভোট হচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির নিজেদের প্রার্থী সরিয়ে মিলনকে সমর্থন করেছে। ফলে তাঁর গ্রেফতার ও মুক্তি ঘিরে বিতর্ক নির্বাচনী প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। প্রচার শেষ হবে ৪ অক্টোবর, ভোটগণনা ৯ অক্টোবর।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles