খবর

মার্কিন ভিসার সাক্ষাৎকার পেতে ভারতীয়দের গড় অপেক্ষা ৩৪৬ দিন, এত দেরি কেন?

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • বাংলাস্ফিয়ার: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভিজিটর ভিসার সাক্ষাৎকার পেতে ২০২৫ অর্থবর্ষে ভারতীয় আবেদনকারীদের ভারিত গড়ে ৩৪৬ দিন অপেক্ষা করতে হয়েছে।
  • মার্কিন সরকারের নজরদারি ও নিরীক্ষা সংস্থা গভর্নমেন্ট অ্যাকাউন্টেবিলিটি অফিসের (জিএও) একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
  • সোমবার প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘ অপেক্ষার অন্যতম কারণ হল, ভিসার চাহিদা যে হারে বেড়েছে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে কনস্যুলার কর্মীর সংখ্যা বাড়েনি।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

বাংলাস্ফিয়ার: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভিজিটর ভিসার সাক্ষাৎকার পেতে ২০২৫ অর্থবর্ষে ভারতীয় আবেদনকারীদের ভারিত গড়ে ৩৪৬ দিন অপেক্ষা করতে হয়েছে। কোভিড অতিমারির আগে এই গড় ছিল ৪২ দিন। মার্কিন সরকারের নজরদারি ও নিরীক্ষা সংস্থা গভর্নমেন্ট অ্যাকাউন্টেবিলিটি অফিসের (জিএও) একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

সোমবার প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘ অপেক্ষার অন্যতম কারণ হল, ভিসার চাহিদা যে হারে বেড়েছে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে কনস্যুলার কর্মীর সংখ্যা বাড়েনি। ২০২৫ অর্থবর্ষে ভারতে অভিবাসন-বহির্ভূত ভিসার কাজ করতেন ৬৮ জন কনস্যুলার আধিকারিক। তাঁদের সামলাতে হয়েছে ১৪ লক্ষ ৫৫ হাজার ২৫৫টি আবেদন। অর্থাৎ আধিকারিক-পিছু আবেদনের সংখ্যা ছিল ২১ হাজার ৪০১।

তবে ৩৪৬ দিনের হিসাবটি ঠিক কী বোঝাচ্ছে, তা স্পষ্ট করে নেওয়া দরকার। এটি ভিজিটর ভিসার সাক্ষাৎকার পাওয়ার জন্য অপেক্ষার ভারিত গড়। এর অর্থ এই নয় যে প্রত্যেক আবেদনকারীকে ৩৪৬ দিনই অপেক্ষা করতে হয়েছে। ভিসার আবেদনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পেতে কত সময় লেগেছে, এই সংখ্যাটি তা-ও বোঝায় না।

জিএও-র নিরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ভারতে নিযুক্ত মার্কিন কনস্যুলার আধিকারিকদের কাজের চাপ বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ। ভিজিটর ভিসার সাক্ষাৎকারের জন্য দীর্ঘতম অপেক্ষার তালিকায় ভারতের স্থান সপ্তম।

জিএও মার্কিন বিদেশ দফতরের অভিবাসন-বহির্ভূত ভিসা সংক্রান্ত কাজকর্ম খতিয়ে দেখেছে। এই শ্রেণিতে পর্যটন ও ব্যবসার জন্য দেওয়া ভিজিটর ভিসা যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে পড়ুয়া, কূটনীতিক এবং অস্থায়ী কর্মীদের ভিসা।

বিশ্বজুড়ে ভিজিটর ভিসার সাক্ষাৎকার পেতে ভারিত গড় অপেক্ষার সময় ২০১৯ অর্থবর্ষের ২৬ দিন থেকে বেড়ে ২০২৫ অর্থবর্ষে হয়েছে ২০১ দিন। অর্থাৎ অতিমারির আগের তুলনায় প্রায় আট গুণ।

অন্য দিকে, অভিবাসন-বহির্ভূত ভিসার কাজে নিযুক্ত মার্কিন কনস্যুলার আধিকারিকের সংখ্যা ২০২৪ অর্থবর্ষে ছিল ১,৩৪২। ২০২৫ অর্থবর্ষে তা নেমে হয়েছে ৯০৪। জিএও জানিয়েছে, নিয়োগ বন্ধ থাকা এবং কর্মীরা চাকরি ছেড়ে যাওয়া বা অবসর নেওয়ার ফলে এই সংখ্যা কমেছে।

অপেক্ষা বাড়ার কারণ কিন্তু ভিসার আবেদন নিষ্পত্তির সংখ্যা কমে যাওয়া নয়। অতিমারির আগে, ২০১৯ অর্থবর্ষে, মার্কিন বিদেশ দফতর ৯২ লক্ষ ভিজিটর ভিসার আবেদনের নিষ্পত্তি করেছিল। কোভিডের কারণে আন্তর্জাতিক যাতায়াত বিপর্যস্ত হওয়ায় ২০২১ অর্থবর্ষে সেই সংখ্যা নেমে আসে ১৫ লক্ষে। কিন্তু ২০২৫ অর্থবর্ষে তা বেড়ে হয়েছে ১ কোটি ১৭ লক্ষ—যা অতিমারির আগের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে।

জিএও জানিয়েছে, কয়েকটি কনস্যুলার দফতরে চাহিদা অনুযায়ী কর্মীসংখ্যা বজায় রাখতে সমস্যায় পড়েছে মার্কিন বিদেশ দফতর।

অতিমারির সময়ে, ২০২১ অর্থবর্ষে, অভিবাসন-বহির্ভূত ভিসার কাজে নিযুক্ত আধিকারিকের সংখ্যা নেমে হয়েছিল ১,১০৪। সেখান থেকে ২০২৪ অর্থবর্ষে সংখ্যাটি বেড়ে ১,৩৪২-এ পৌঁছয়, যা ছিল অতিমারির আগের স্তরের কাছাকাছি। কিন্তু নিয়োগ বন্ধ থাকা এবং কর্মীসংখ্যা ক্ষয়ের কারণে ২০২৫ অর্থবর্ষে তা ফের কমে ৯০৪ হয়।

বিভিন্ন দফতরের কাজের চাপ পর্যালোচনা করে চাহিদার সঙ্গে কর্মীসংখ্যার সামঞ্জস্য বিধানের জন্য মার্কিন বিদেশ দফতরের একটি ব্যবস্থা রয়েছে। তার নাম ‘গ্লোবাল রিপজিশনিং এক্সারসাইজ’, সংক্ষেপে গ্রেক্স বা GREX।

কিন্তু জিএও জানিয়েছে, ২০১৯ অর্থবর্ষের পর থেকে এই পর্যালোচনা মাত্র এক বার করা হয়েছে। কোভিডজনিত সমস্যার কারণে ২০২১ ও ২০২২ অর্থবর্ষে তা হয়নি। আবার নীতিগত অগ্রাধিকারে পরিবর্তনের কারণে ২০২৪ ও ২০২৫ অর্থবর্ষেও এই পর্যালোচনা করা হয়নি।

জিএও সুপারিশ করেছে, এমন একটি ব্যবস্থা চালু করা হোক, যাতে ব্যুরো অব কনস্যুলার অ্যাফেয়ার্সকে নিয়মিত এই পর্যালোচনা করতেই হয়। মার্কিন বিদেশ দফতর এই সুপারিশের সঙ্গে সহমত বা ভিন্নমত—কোনওটিই জানায়নি।

বিদেশ দফতরের আধিকারিকেরা আরও বলেছেন, ভারতে অনেকে মার্কিন ভিজিটর ভিসাকে সামাজিক মর্যাদার প্রতীক হিসেবে দেখেন। তাঁদের দাবি, এমন অনেকেই এই ভিসার জন্য আবেদন করেন, যাঁদের আসলে আমেরিকায় যাওয়ার কোনও পরিকল্পনা নেই। এই ধরনের বিষয় যাচাই করতেও অতিরিক্ত সময় লাগে বলে জানিয়েছেন ওই আধিকারিকেরা।

ভারতীয় পর্যটকদের ক্ষেত্রে এই দীর্ঘ অপেক্ষার তাৎপর্য কী? প্রথমেই মনে রাখা দরকার, ৩৪৬ দিনের সংখ্যাটি ২০২৫ অর্থবর্ষের তথ্য থেকে পাওয়া গড়। ভারতে প্রত্যেক আবেদনকারীর সাক্ষাৎকারের জন্য অপেক্ষার সময় নির্দিষ্ট ভাবে ৩৪৬ দিন—এমন ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না।

এই হিসাব শুধু ভিজিটর ভিসার সাক্ষাৎকার পাওয়ার জন্য অপেক্ষার সময় মাপে। কোন কনস্যুলার দফতরে আবেদন করা হচ্ছে, ভিসার শ্রেণি কী এবং সাক্ষাৎকারের সময় পাওয়া যাচ্ছে কি না—এসবের ভিত্তিতে প্রকৃত অপেক্ষার সময় বদলাতে পারে।

সাক্ষাৎকার হয়ে যাওয়ার পরে ভিসার আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে মার্কিন বিদেশ দফতরের কত সময় লাগে, এই পরিসংখ্যানে তার হিসাব নেই।

দীর্ঘ অপেক্ষার প্রভাব পড়ছে মার্কিন অর্থনীতিতেও। জিএও জানিয়েছে, ২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও পর্যটন মার্কিন অর্থনীতিতে ১৭ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের অবদান রেখেছে। এই অঙ্ক ২০২৪ সালের তুলনায় ৫০০ কোটি ডলার কম এবং অতিমারির আগের তুলনায় ২ হাজার ৮০০ কোটি ডলার কম।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পতনের পিছনে যে কারণগুলি রয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হল পর্যটক ভিসার সাক্ষাৎকারের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা।

জিএও-র বক্তব্য, ভিসা প্রক্রিয়াকরণের গতি ও দক্ষতার সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তার প্রয়োজনের ভারসাম্য বজায় রাখতে হয় মার্কিন বিদেশ দফতরকে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভিসা দেওয়ার আগে আবেদনকারীর সাক্ষাৎকার নেওয়া বাধ্যতামূলক।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles