ইন্ডিয়া বৈঠকে মমতা, ‘দিমাগি নকশাল’ কটাক্ষ শুভেন্দুর

যা জানা জরুরি
- নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে বিরোধীদের বৈঠকের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
- বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে যোগ দিতে মঙ্গলবার রাজধানীতে পৌঁছেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা।
- তাঁর সফরকে ‘দিমাগি নকশালদের’ সঙ্গে পরিকল্পনার বৈঠক বলে কটাক্ষ করেছেন শুভেন্দু।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে বিরোধীদের বৈঠকের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে যোগ দিতে মঙ্গলবার রাজধানীতে পৌঁছেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। তাঁর সফরকে ‘দিমাগি নকশালদের’ সঙ্গে পরিকল্পনার বৈঠক বলে কটাক্ষ করেছেন শুভেন্দু। মমতার গতিবিধির উপর নজর রাখতে দিল্লি পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাকে অনুরোধ করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার রাজ্য বিজেপির দফতরে জনতা দরবার কর্মসূচির ফাঁকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু দাবি করেন, ইন্ডিয়া জোট কার্যত শেষ হয়ে গিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, সিপিএম নেতাদের সঙ্গে নতুন ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা করতেই দিল্লি যাচ্ছেন মমতা। কোনও ‘দেশবিরোধী শক্তির’ সঙ্গে তাঁর বৈঠক হচ্ছে কি না, সেদিকে নজর রাখার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।
মমতার ‘আজাদি’ স্লোগান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শুভেন্দু। তাঁর কটাক্ষ, একদিকে জামাত, অন্যদিকে ‘দিমাগি নকশালদের’ নিয়ে এগোচ্ছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তবে এগুলি শুভেন্দুর রাজনৈতিক অভিযোগ। তাঁর বক্তব্যে নজরদারির অনুরোধ জানানোর কথা রয়েছে; দিল্লি পুলিশ বা গোয়েন্দা সংস্থা ইতিমধ্যে এমন ব্যবস্থা নিয়েছে, সেই তথ্য সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে নেই।
অন্যদিকে, দিল্লি সফরের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মমতা জানিয়েছেন, তাঁদের প্রতিবাদের কেন্দ্রে রয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার, কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ এবং কমিশনের কার্যকলাপ। বৈঠকে নিজের বক্তব্য বিস্তারিতভাবে জানাবেন তিনি। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার অভিযোগের প্রসঙ্গে জ্ঞানেশকে ফের ‘ভ্যানিশ’ বলে বিদ্রূপ করেছেন মমতা।
এই বিরোধী তৎপরতার পটভূমিতে রয়েছে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ নিয়ে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন। জানা যায়, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী দশ মাসে অন্তত চোদ্দোবার লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাঁদের অজ্ঞাতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ত্রুটি ছিল আপত্তির বিষয়।
কমিশনকে ঘিরে এই বিতর্কে বিরোধীদের একত্র করার উদ্যোগ নিয়েছেন সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি। মমতার সঙ্গে তাঁর কথাও হয়েছে। বাংলায় দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী দুই রাজনৈতিক শিবিরের এই যোগাযোগ তাই বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামের জমি আন্দোলন থেকে যে বিরোধ তীব্র হয়েছিল, নির্বাচন কমিশন প্রশ্নে আপাতত তা সরিয়ে যৌথ অবস্থানের চেষ্টা চলছে। বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয় এবং দলের ভাঙনের পরে জাতীয় স্তরে এই উদ্যোগ মমতার কাছেও গুরুত্বপূর্ণ। কমিশনকে ঘিরে বিতর্ক তাঁকে বিরোধী রাজনীতিতে নিজের প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরার সুযোগ এনে দিয়েছে।
বৈঠকের আগে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গেও আলোচনা করেছেন মমতা। দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে বিরোধী নেতাদের আলোচনায় কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, এসআইআর এবং প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ যাওয়ার প্রশ্ন প্রাধান্য পাবে বলে জানা গিয়েছে। বিভিন্ন দলের পৃথক প্রতিবাদকে একটি সমন্বিত কর্মসূচিতে রূপ দেওয়া এবং বৃহত্তর বিরোধী সহযোগিতা গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য।
দেশজুড়ে প্রতিবাদের কর্মসূচি এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের অপসারণের দাবিতে সংসদীয় উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা। সংসদের উভয় কক্ষে দেওয়ার জন্য নোটিসের খসড়া তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে বৈঠকের আগে এসব সম্ভাব্য পদক্ষেপকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
শুভেন্দু অবশ্য এসআইআর নিয়ে কংগ্রেসের অবস্থানকে দ্বিচারিতা বলে আক্রমণ করেছেন। তাঁর দাবি, কেরলে নির্বাচনী সাফল্য এলে সংশোধন প্রক্রিয়ার প্রশংসা করেছে কংগ্রেস, অথচ পরাজয়ের আশঙ্কা থাকা রাজ্যে একই ব্যবস্থাকে প্রশ্ন করছে। নির্বাচনের ফল নিজেদের পক্ষে গেলেই কেবল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের উপর আস্থা রাখা যায় না, বক্তব্য তাঁর।
এই বাদানুবাদের মধ্যেই ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচন হওয়ার কথা। ফলে দিল্লিতে বিরোধী সমন্বয়ের উদ্যোগের সঙ্গে বাংলার নির্বাচনী উত্তাপও জড়িয়ে গিয়েছে। বৈঠক থেকে কী যৌথ কর্মসূচি উঠে আসে, আপাতত নজর সেদিকেই।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



