International

স্কুলে আগুন, রাস্তায় সংঘর্ষ

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • ঠাসা শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষকসংকট ও দীর্ঘ সময়সূচির প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ; আটক ৪৪০, অধিকাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক ঠাসা শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষকসংকট আর দীর্ঘ ক্লাসের সময়সূচি—এই তিন অভিযোগকে সামনে রেখে…
  • মঙ্গলবার সেই বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আটক করা হয়েছে ৪৪০ জনকে।
  • তাঁদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই পুলিশ হেফাজতে রয়েছে এবং অধিকাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

ঠাসা শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষকসংকট ও দীর্ঘ সময়সূচির প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ; আটক ৪৪০, অধিকাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক

ঠাসা শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষকসংকট আর দীর্ঘ ক্লাসের সময়সূচি—এই তিন অভিযোগকে সামনে রেখে ফ্রান্সজুড়ে স্কুল অবরোধে নেমেছে কিশোর-কিশোরীরা। মঙ্গলবার সেই বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আটক করা হয়েছে ৪৪০ জনকে। তাঁদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই পুলিশ হেফাজতে রয়েছে এবং অধিকাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ বিএফএম টিভিকে বলেন, “সারা দেশে ৪৪০ জনকে আটক করা হয়েছে। চূড়ান্ত হিসাব এখনও আমাদের হাতে আসেনি। তবে আমাকে জানানো হয়েছে, আটক ব্যক্তিদের দুই-তৃতীয়াংশকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।”

শিক্ষামন্ত্রকের হিসাবে, দেশের প্রায় ৩,৭০০ স্কুলের মধ্যে মঙ্গলবার ৪০০টিতে বিক্ষোভ হয়েছে অথবা স্বাভাবিক পঠনপাঠন ব্যাহত হয়েছে।

গত সপ্তাহে প্যারিসে শুরু হয়েছিল আন্দোলন। কয়েক দিনের মধ্যেই তা ছড়িয়ে পড়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। মঙ্গলবার উত্তর ফ্রান্সের লিল শহরে উচ্চমাধ্যমিকের পড়ুয়ারা আবর্জনার পাত্রে আগুন ধরিয়ে দেয়। পুলিশের দিকে ছোড়া হয় বোতল, পাথর ও অন্যান্য বস্তু। বাসযাত্রীদের অপেক্ষার ছাউনি এবং বিজ্ঞাপনের হোর্ডিংয়েও ভাঙচুর চালানো হয়। পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে।

নুনেজ বলেন, মুখ ঢেকে এবং পুলিশের দিকে ছোড়ার জন্য বিভিন্ন বস্তু নিয়ে স্কুলে বিক্ষোভে আসা, পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হস্তক্ষেপ করলেই তাদের আক্রমণ করা—“কোনও যুক্তিতেই” সমর্থন করা যায় না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, মঙ্গলবার পুলিশের দিকে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড ছোড়ার সাতটি ঘটনা ঘটেছে। দেশজুড়ে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ৪৮ জন পুলিশকর্মী।

লিলের পাশাপাশি পশ্চিম ফ্রান্সের বোর্দো, রেন ও নঁত এবং দক্ষিণের মার্সেইয়েও পুলিশের সঙ্গে অপ্রাপ্তবয়স্ক বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়েছে।

তবে সব জায়গায় বিক্ষোভের ছবি ছিল একই রকম নয়। প্যারিসের উত্তরাংশে লামার্তিন লিসের পড়ুয়ারা দীর্ঘ ক্লাসের সময়সূচির বিরুদ্ধে প্ল্যাকার্ড হাতে রাস্তায় নামে। একটি প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, “সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা। ঘুমের চেয়েও বেশি সময় ক্লাস।”

প্যারিসের উপকণ্ঠ সেন-সাঁ-দনি এলাকায় পল এলুয়ার লিসের কয়েকশো পড়ুয়ার বিক্ষোভে যোগ দেন স্থানীয় মেয়র বালি বাগায়োকো। পড়ুয়াদের সঙ্গে জাতীয় সংগীত গাওয়ার নেতৃত্ব দিয়ে তিনি আন্দোলনকে “সম্পূর্ণ ন্যায্য” বলে অভিহিত করেন। তাঁর অভিযোগ, বেশি আয়ের এলাকার তুলনায় কম আয়ের অঞ্চলের স্কুলগুলি কম অর্থ ও সুযোগসুবিধা পায়।

সংবাদ সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিড় বাড়লে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের ঢাল হাতে থাকা পুলিশকর্মীরা পড়ুয়াদের লাঠি দিয়ে আঘাত করেন।

এর মধ্যেই বিক্ষোভ ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরও তীব্র হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু আগে সতর্ক করে বলেছিলেন, আন্দোলনকে আরও তীব্র করা “দায়িত্বজ্ঞানহীন” হবে।

এক্স-এ তিনি লেখেন, “উচ্চমাধ্যমিক স্কুলের কাছে বাজি, অগ্নিসংযোগ, হিংসা—কোনও কিছুই পড়ুয়া, কর্মী বা পুলিশকে বিপদের মুখে ফেলার যুক্তি হতে পারে না।”

সরকারের এই অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেন কট্টর বামপন্থী দল ‘ফ্রান্স আনবাউড’ বা এলএফআইয়ের নেতা জঁ-লুক মেলঁশোঁ। সোমবার এক্স-এ তিনি লেখেন, “বিক্ষোভরত উচ্চমাধ্যমিকের পড়ুয়ারা নিরীহ।” তাঁর অভিযোগ, লেকর্নু সরকার দমনপীড়নের নির্দেশ দিয়েছে এবং এর মধ্যে “স্পষ্ট বর্ণবাদী সুর” রয়েছে।

পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়াতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও এলএফআই কর্মীদের ঘটনাস্থলে যাওয়ার আহ্বানও জানান মেলঁশোঁ।

পাল্টা জবাবে লেকর্নু মেলঁশোঁর হস্তক্ষেপকে “দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে উত্তেজনা বাড়ানো” বলে অভিহিত করেন। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাজ হল তরুণদের নিরাপদ রাখা এবং শান্ত থাকার আবেদন জানানো—দলীয় স্বার্থে তাঁদের ক্ষোভকে ব্যবহার করা নয়।

মেলঁশোঁর বর্ণবাদের অভিযোগও খারিজ করে তাঁকে “অপমানজনক” মন্তব্য করার জন্য অভিযুক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

ফলে স্কুলের শ্রেণিকক্ষ থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন এখন শুধু শিক্ষা ব্যবস্থার সমস্যা নিয়ে বিক্ষোভে সীমাবদ্ধ নেই। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, অপ্রাপ্তবয়স্কদের আটক এবং সরকারের সঙ্গে বিরোধীদের প্রকাশ্য সংঘাত—সব মিলিয়ে ফ্রান্সের রাজনীতিতেও নতুন চাপ তৈরি হয়েছে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles