‘শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত ওড়িশার জন্য লড়ব’: খনি আইন ঘিরে পথে নবীন

যা জানা জরুরি
- ভোটে পরাজয়ের পর প্রথম বড় আন্দোলনে নেমে বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণ শানালেন ওড়িশার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়ক।
- সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ভুবনেশ্বরে বিধানসভার কাছে মহাত্মা গান্ধী রোডে বিজু জনতা দলের সমাবেশে তাঁর ঘোষণা, ‘শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত ওড়িশার অধিকারের জন্য লড়ব।’ কেন্দ্রের খনি…
- ২০২৪ সালে দলের ২৪ বছরের শাসনের অবসানের পর এত বড় প্রতিবাদ কর্মসূচি এই প্রথম।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
ভোটে পরাজয়ের পর প্রথম বড় আন্দোলনে নেমে বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণ শানালেন ওড়িশার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়ক। সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ভুবনেশ্বরে বিধানসভার কাছে মহাত্মা গান্ধী রোডে বিজু জনতা দলের সমাবেশে তাঁর ঘোষণা, ‘শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত ওড়িশার অধিকারের জন্য লড়ব।’ কেন্দ্রের খনি ও খনিজ উন্নয়ন এবং নিয়ন্ত্রণ সংশোধনী আইন, ২০২৬ প্রত্যাহারের দাবিতে এই বিক্ষোভ। ২০২৪ সালে দলের ২৪ বছরের শাসনের অবসানের পর এত বড় প্রতিবাদ কর্মসূচি এই প্রথম।
নবীনের বক্তব্য, খনি আইনকে নিছক প্রশাসনিক পরিবর্তন হিসেবে দেখলে চলবে না। এর সঙ্গে সাড়ে চার কোটি ওড়িশাবাসীর অধিকার এবং তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ জড়িত। রাজ্যের মাটি ও খনিজ সম্পদের প্রকৃত অধিকারী সেখানকার মানুষ। অথচ তাঁদের স্বার্থকে উপেক্ষা করেই আইন পাশ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এই প্রশ্নে দলীয় বিভাজন সরিয়ে সকলকে একসঙ্গে আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান বিজেডি সভাপতি।
ওড়িশা থেকে নির্বাচিত বিজেপির ২০ জন লোকসভা সাংসদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নবীন। তাঁর অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এই আইন নিয়ে তাঁরা নীরব থেকেছেন। মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝিকে দু’বার চিঠি লিখেও উত্তর পাননি তিনি। একটি চিঠিতে বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন এবং অন্যটিতে আইনের বিরুদ্ধে প্রস্তাব গ্রহণের দাবি জানিয়েছিলেন। নবীনের হুঁশিয়ারি, ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়; রাজ্যের স্বার্থের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করলে মানুষ তা মনে রাখবেন। নতুন প্রজন্মও ক্ষমা করবে না।
বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে সংশোধিত আইনের ৯ডি ধারা। এই ধারা অনুযায়ী, কেন্দ্রের নির্ধারিত শর্ত বা বিধিনিষেধের বাইরে খনিজ অধিকার কিংবা খনিজসম্পন্ন জমির উপর রাজ্য সরকার কর, সেস বা অনুরূপ অর্থ আদায় করতে পারবে না। ফলে খনি থেকে অতিরিক্ত রাজস্ব সংগ্রহের স্বাধীনতা সংকুচিত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ২০২৪ সালে সুপ্রিম কোর্ট রাজ্যগুলির কর আরোপের ক্ষমতা স্বীকার করেছিল; পরবর্তী নির্দেশে ২০০৫ সালের এপ্রিল থেকে বকেয়া আদায়ের পথও খুলেছিল।
বিজেডি ও অন্য বিরোধী দলগুলির দাবি, নতুন ব্যবস্থায় ওড়িশা প্রায় এক লক্ষ কোটি টাকার বকেয়া এবং বছরে আরও ১২ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব হারাতে পারে। এই অঙ্ক অবশ্য সরকারের চূড়ান্ত মূল্যায়ন নয়। রাজ্য সরকার জানিয়েছে, নতুন আইনের আর্থিক প্রভাব এখনও খতিয়ে দেখা বাকি। তবু খনিজনির্ভর অর্থনীতির রাজ্যে সম্ভাব্য ক্ষতির প্রশ্নই এখন বিরোধীদের আন্দোলনের প্রধান ভিত্তি। রাজ্যের অর্থনীতিতে খনির গুরুত্বও কম নয়: অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, খনি ও পাথর উত্তোলন ক্ষেত্রের অবদান রাজ্যের মোট সংযোজিত মূল্যের ৯.৫ শতাংশ। তাই রাজস্বের প্রশ্নটি রাজনৈতিক বিতর্কের বাইরেও তাৎপর্য বহন করে।
বিজেপির পাল্টা যুক্তি, খনিজসম্পন্ন জমির উপর খেয়ালখুশিমতো একাধিক কর চাপালে শিল্পক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে। রাজ্যের ইস্পাত ও খনিমন্ত্রী বিভূতি জেনা বিরোধীদের বিরুদ্ধে মানুষকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, মোদী সরকারের ২০১৫ সালের সংস্কারের পর ওড়িশার খনি রাজস্ব প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা থেকে পঞ্চাশ হাজার কোটিতে উঠেছে। খনিপ্রভাবিত এলাকার জন্য জেলা খনিজ ফাউন্ডেশন থেকেও অর্থ মিলছে।
সমাবেশে নজর কাড়েন প্রাক্তন আমলা ভি কে পাণ্ডিয়ানের স্ত্রী সুজাতা রাউত কার্তিকেয়নও। জুনে বিজেডিতে যোগ দেওয়া সুজাতার অভিযোগ, এই আইনকে সমর্থন করে রাজ্যের জন্য আসতে পারত এমন বিপুল অর্থ হাতছাড়া করেছে বিজেপি। ওড়িশার সরকারের নিয়ন্ত্রণ আসলে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হাতে বলেও আক্রমণ করেন তিনি।
সূত্রের খবর, কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আঞ্চলিক স্বার্থরক্ষার প্রশ্ন তুলে রাজ্যজুড়ে আন্দোলন ছড়িয়ে দিতে চায় দল। মঙ্গলবার একই আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ইন্ডিয়া জোটের দলগুলিও। ফলে খনি করের বিরোধ এখন নবীনের কাছে বিরোধী রাজনীতিতে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ। একই সঙ্গে রাজ্য ও কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপির সামনে প্রশ্ন উঠছে, দলীয় অবস্থান বজায় রেখে ওড়িশার আর্থিক স্বার্থ কতটা রক্ষা করতে পারবে তারা।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



