খবর

শীতের দূষণ ঠেকাতে দিল্লিতে গাড়িতে রাশ, অর্ধেক কর্মীর বাড়ি থেকে কাজ

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • শীতের দূষণ মোকাবিলায় দিল্লিতে গাড়ি চলাচল, অফিসে উপস্থিতি এবং নির্মাণকাজের উপর একগুচ্ছ বিধিনিষেধ কার্যকর করার প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার।
  • সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সভাপতিত্বে বৈঠকে এই পরিকল্পনা পর্যালোচনা করা হয়।
  • উপস্থিত ছিলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত, পরিবেশমন্ত্রী মনজিন্দর সিং সিরসা এবং বায়ুমান নিয়ন্ত্রণ কমিশনের শীর্ষ আধিকারিকেরা।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

শীতের দূষণ মোকাবিলায় দিল্লিতে গাড়ি চলাচল, অফিসে উপস্থিতি এবং নির্মাণকাজের উপর একগুচ্ছ বিধিনিষেধ কার্যকর করার প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সভাপতিত্বে বৈঠকে এই পরিকল্পনা পর্যালোচনা করা হয়। উপস্থিত ছিলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত, পরিবেশমন্ত্রী মনজিন্দর সিং সিরসা এবং বায়ুমান নিয়ন্ত্রণ কমিশনের শীর্ষ আধিকারিকেরা। বর্ষা বিদায়ের সঙ্গে রাজধানী ও সংলগ্ন অঞ্চলের বায়ুদূষণ বৃদ্ধির আশঙ্কাই এই তৎপরতার পটভূমি।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১ নভেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত দিল্লির বাইরে নিবন্ধিত, বিএস-সিক্স নির্গমনমান পূরণ করে না এমন মোটরগাড়ির রাজধানীতে প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে। তবে সিএনজি ও বৈদ্যুতিক গাড়ি, জরুরি পরিষেবা এবং নির্দিষ্ট ছাড়প্রাপ্ত শ্রেণির যানবাহন এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে। ফলে সমস্ত বহিরাগত গাড়ির উপর একই নিষেধাজ্ঞা বসছে না; গাড়ির নির্গমনমান ও ব্যবহারের ধরন এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

সরকারি ও বেসরকারি অফিসে ১ নভেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সর্বাধিক ৫০ শতাংশ কর্মী সরাসরি উপস্থিত থাকতে পারবেন। বাকিদের বাড়ি থেকে কাজ করতে হবে। হাসপাতাল, গণপরিবহণ, বিদ্যুৎ, জল সরবরাহ, সাফাই, বিপর্যয় মোকাবিলা এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণের মতো অত্যাবশ্যক পরিষেবা ছাড় পাবে। বেসরকারি সংস্থাগুলিকে কাজের সময় ভাগ করা, এক গাড়িতে একাধিক কর্মীর যাতায়াত এবং কর্মীদের জন্য যৌথ বাসের ব্যবস্থা উৎসাহিত করতে বলা হয়েছে।

দিল্লি পুরনিগমের দফতর চলবে সকাল সাড়ে আটটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত। দিল্লি সরকারের দফতরের সময় হবে সকাল দশটা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টা। নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই আলাদা সময়সূচির লক্ষ্য ব্যস্ত সময়ে রাস্তায় গাড়ির চাপ কমানো। একই সময়ে অনুমোদিত পার্কিংয়ে মাশুল দ্বিগুণ হবে। তবে দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশনের মালিকানাধীন ও পরিচালিত পার্কিং এই বৃদ্ধির বাইরে থাকবে।

নির্মাণক্ষেত্রে বিধিনিষেধ কার্যকর হবে ধাপে ধাপে। ১ নভেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ধুলো তৈরি করে এমন ভাঙার কাজ ও খোলা জায়গায় নির্মাণ বন্ধ থাকবে; অত্যাবশ্যক জনপরিকাঠামোর প্রকল্প ছাড় পাবে। ১০ ডিসেম্বর থেকে ২০ জানুয়ারি নির্মাণ ও ভাঙার কাজে আরও ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা থাকবে, জরুরি সরকারি ও আপৎকালীন কাজ বাদ দিয়ে। নির্মাণসামগ্রী বহনকারী গাড়ির প্রবেশেও নিয়ন্ত্রণ থাকবে, নির্দিষ্ট ব্যতিক্রম সাপেক্ষে।

গাড়ির ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণে জোর দেওয়া হচ্ছে ‘বৈধ দূষণ পরীক্ষার শংসাপত্র নেই, জ্বালানিও নেই’ নীতিতে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নম্বরপ্লেট শনাক্তকরণ ব্যবস্থাযুক্ত ৫০০টি জ্বালানি বিক্রয়কেন্দ্রকে এই অভিযানের আওতায় আনা হবে। অর্থাৎ শুধু শহরের প্রবেশপথে গাড়ি পরীক্ষা নয়, পাম্পে জ্বালানি নেওয়ার সময়েও দূষণবিধি মানার বিষয়টি যাচাই করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এই ব্যবস্থার তাৎপর্য হল, দূষণ বিপজ্জনক স্তরে পৌঁছনোর আগেই নির্দিষ্ট সময়সূচি ধরে প্রস্তুতি নেওয়া। স্থায়ী শীতকালীন কাঠামোয় একাধিক পুরনো নির্দেশ একত্র করা হয়েছে, যাতে প্রতি শীতে আলাদা আদেশ জারি করার প্রয়োজন কমে। তবে বায়ুমানের ভিত্তিতে কার্যকর হওয়া গ্রেডেড রেসপন্স অ্যাকশন প্ল্যান বা গ্র্যাপও পাশাপাশি চলবে। ফলে আগাম নির্ধারিত বিধি এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ—দুই ব্যবস্থাই থাকবে।

অফিস ও নির্মাণক্ষেত্রের জন্য এর অর্থ, কাজের ব্যবস্থা আগে থেকেই বদলাতে হবে। কর্মীদের উপস্থিতি, যাতায়াত এবং প্রকল্পের সময়সূচি ঠিক করার সময় সংশ্লিষ্ট বিধির মেয়াদ ধরতে হবে। সব নিয়ন্ত্রণ একই দিনে শেষ হবে ধরে নিলে পরিকল্পনায় ভুল হওয়ার সম্ভাবনাও থেকে যাবে। প্রতিষ্ঠানগুলির প্রস্তুতিও তাই জরুরি।

তবে দূষণ নিয়ন্ত্রণের সাফল্য কেবল শীতের কয়েক মাসের বিধিনিষেধ দিয়ে বিচার করা যায় না। পরিবেশ সংস্থা এনভায়রনমেন্টাল ডিফেন্স ফান্ডের ভারতীয় প্রধান উপদেষ্টা হিশাম মুন্ডোল জানিয়েছেন, লক্ষ্য হওয়া উচিত সারা বছর পরিষ্কার বাতাস। তার জন্য পরিবহণ, শিল্প, নির্মাণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়ানো নিয়ে ধারাবাহিক কাজ প্রয়োজন। সেই পরিকল্পনার পরিসরও শুধু দিল্লির সীমানায় আটকে থাকলে চলবে না; গোটা অঞ্চলের সমন্বয় দরকার।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles