জ্ঞানেশ কুমারের সিদ্ধান্তে প্রশ্ন, আগামী সপ্তাহে শুনবে সুপ্রিম কোর্ট

যা জানা জরুরি
- প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা আবেদন আগামী সপ্তাহে শুনতে রাজি হল সুপ্রিম কোর্ট।
- মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে বিষয়টি উত্থাপিত হয়।
- কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই এই আবেদন দেশের শীর্ষ আদালতে পৌঁছেছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা আবেদন আগামী সপ্তাহে শুনতে রাজি হল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে বিষয়টি উত্থাপিত হয়। কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই এই আবেদন দেশের শীর্ষ আদালতে পৌঁছেছে।
আবেদনটির দ্রুত শুনানি চেয়ে প্রবীণ আইনজীবী বিকাশ সিংহ বলেন, আইন অনুযায়ী একাধিক সদস্যবিশিষ্ট নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতভাবে অথবা সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের ভিত্তিতে গৃহীত হওয়ার কথা। কিন্তু কমিশন বর্তমানে যেভাবে কাজ করছে, তাতে সিদ্ধান্তগুলি সত্যিই সর্বসম্মত কি না, তা নিয়ে গুরুতর সংশয় রয়েছে। তাঁর বক্তব্য শোনার পরে বেঞ্চ আগামী সপ্তাহে বিষয়টি তালিকাভুক্ত করতে সম্মত হয়।
আবেদনের মূল প্রশ্ন, গোটা কমিশনের সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রধান নির্বাচন কমিশনার এককভাবে প্রয়োগ করতে পারেন কি না। আবেদনকারীর যুক্তি, সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদ নির্বাচনের তত্ত্বাবধান, নির্দেশনা ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব দিয়েছে কমিশনকে। সেই ক্ষমতা কোনও ব্যক্তির একক কর্তৃত্ব নয়। আবেদনে ২০২৩ সালের সংশ্লিষ্ট আইনের ১৮ ধারার উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ঐকমত্য না হলে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
এই বিতর্কের পটভূমিতে রয়েছে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন। সেখানে দাবি করা হয়, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী গত দশ মাসে অন্তত ১৪ বার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও নির্দেশের বিরুদ্ধে লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর সংক্রান্ত একাধিক পদক্ষেপ তাঁদের অজ্ঞাতে কিংবা সুপারিশ ছাড়াই নেওয়া হয়েছিল।
আবেদনে উল্লিখিত আপত্তিগুলির মধ্যে রয়েছে ভোটার হওয়ার আবেদনপত্র ফর্ম ৬-এর পরিবর্তন, ভোটার তালিকার তথ্যভান্ডারে প্রবেশাধিকার, বৈঠকের আগে আলোচ্যসূচি এবং পরে কার্যবিবরণী না দেওয়া। পশ্চিমবঙ্গের ট্রাইব্যুনালে আপিলের বিষয়টিও এসেছে। ভোটার তালিকার তথ্যভান্ডারের নিয়ন্ত্রণ ক্রমশ কেন্দ্রীভূত হওয়া এবং কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের দায়িত্ব বণ্টন নিয়েও উদ্বেগের উল্লেখ রয়েছে। এগুলি আবেদনকারীর উত্থাপিত অভিযোগ; আদালতের প্রতিষ্ঠিত সিদ্ধান্ত নয়।
আবেদনকারী চান, কমিশনের নামে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সম্মিলিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সাংবিধানিক ও আইনি কাঠামো বাধ্যতামূলকভাবে মানার নির্দেশ দেওয়া হোক। বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলির সঙ্গে যুক্ত প্রাসঙ্গিক নথি সংরক্ষণ এবং আদালতে পেশ করার নির্দেশও চাওয়া হয়েছে। ফলে আবেদনের বিষয়বস্তু শুধু কোনও একটি নির্বাচনী নির্দেশের যথার্থতা নয়; কমিশনের ভিতরে ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতি এবং অন্য সদস্যদের অংশগ্রহণও এর অন্তর্ভুক্ত।
কমিশন অবশ্য নিজেদের অবস্থানে অনড়। ২৬ সেপ্টেম্বরের বৈঠকের পরে প্রকাশিত বিবৃতিতে তারা জানায়, এসআইআর সংক্রান্ত নির্দেশগুলি তিন সদস্যের সর্বসম্মত অনুমোদনেই জারি হয়েছিল। কমিশনের বক্তব্য, দুই কমিশনারের মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে লেখা চিঠির বিষয় ছিল ডেপুটেশনে থাকা এক আধিকারিকের কাজকর্ম; কমিশনের নীতি বা তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের নীতিগত প্রশ্ন নয়। সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের নির্দেশ কার্যকর হয়নি বলেও দাবি করা হয়।
একই বিবৃতিতে কমিশন জানায়, ভবিষ্যতে বৈঠকের আলোচ্যসূচি আগাম পাঠানো হবে এবং কার্যবিবরণী প্রকাশ করা হবে। কমিশনারদের নির্দেশ যথাযথভাবে মানার কথাও বলা হয়েছে। পাশাপাশি, ইসিআইনেট ব্যবস্থা আইন ও বিধির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ কি না, তা খতিয়ে দেখতে বিশেষজ্ঞসহ একটি কমিটির পর্যালোচনার ঘোষণা করা হয়। নতুন তথ্যপ্রযুক্তি উদ্যোগও নির্ধারিত আলোচনা ও অনুমোদনের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছে কমিশন।
মঙ্গলবারের পদক্ষেপের তাৎপর্য হল, সম্মিলিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিয়ে ওঠা প্রশ্ন এবার শুনানির জন্য আদালতের সামনে আসছে। তবে আবেদন তালিকাভুক্ত করার সম্মতি থেকে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলা যায় না। প্রকাশিত শুনানির বিবরণে কোনও সিদ্ধান্ত বাতিল বা স্থগিত করার কথা নেই। আপাতত প্রশ্নটি হল, কমিশনের সিদ্ধান্তে সদস্যদের মতামত ও অনুমোদন কীভাবে প্রতিফলিত হয়েছে এবং বিতর্কিত নথিগুলি সেই বিষয়ে কী দেখায়। শুনানিতে এই অভিযোগগুলির বিচার কতদূর এগোয়, সেদিকেই এখন নজর।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



