সিজেপির আন্দোলনে আপ ‘সব ঋতুর বন্ধু’, শুরু থেকেই পাশে কেজরিওয়াল

যা জানা জরুরি
- দিল্লিতে বৃহৎ গণআন্দোলনের চেহারা নেওয়ার অনেক আগে থেকেই ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপির পাশে দাঁড়িয়েছে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি।
- সরকারি শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন তোলা থেকে স্বেচ্ছাসেবকদের উপরে হামলার অভিযোগ—বিভিন্ন ঘটনায় সিজেপিকে সমর্থন করেছেন কেজরিওয়াল এবং আপের অন্য নেতারা।
- দলের সমর্থক মহলেও সেই সমর্থনের ধারাবাহিকতা দেখা গিয়েছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
দিল্লিতে বৃহৎ গণআন্দোলনের চেহারা নেওয়ার অনেক আগে থেকেই ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপির পাশে দাঁড়িয়েছে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি। সরকারি শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন তোলা থেকে স্বেচ্ছাসেবকদের উপরে হামলার অভিযোগ—বিভিন্ন ঘটনায় সিজেপিকে সমর্থন করেছেন কেজরিওয়াল এবং আপের অন্য নেতারা। দলের সমর্থক মহলেও সেই সমর্থনের ধারাবাহিকতা দেখা গিয়েছে। এই সম্পর্ককে সিজেপির প্রতি আপের ‘সব ঋতুর বন্ধুত্ব’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই ঘনিষ্ঠতার একটি নজির পাওয়া যায় গত ২১ আগস্ট। রাজস্থানে সরকারি স্কুলের অবস্থা দেখতে গিয়ে আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগ তুলে এক্সে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন সিজেপির সহ-আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কা। তাঁর বক্তব্য ছিল, তিনি এবং সংগঠনের অন্য স্বেচ্ছাসেবকেরা হামলার শিকার হয়েছেন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই পোস্ট নিজের মন্তব্যসহ পুনঃপ্রচার করেন কেজরিওয়াল। হামলার জন্য বিজেপিকে দায়ী করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, শিশুদের ভাল শিক্ষার দাবিতে সরব হওয়ার কারণেই কি সিজেপির কর্মীদের এভাবে আক্রান্ত হতে হচ্ছে?
কেজরিওয়ালের অভিযোগ, স্বেচ্ছাসেবকদের মারধর করা হয়েছে, তাঁদের পোশাক ছিঁড়ে দেওয়া হয়েছে এবং গাড়ির কাচ ভাঙা হয়েছে। ঘটনাটিকে তিনি শিক্ষার অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলার উপরে আক্রমণ হিসেবে তুলে ধরেন। তাঁর সেই পোস্ট মূল ভিডিওটির চেয়েও বেশি লাইক ও পুনঃপ্রচার পায়। অর্থাৎ, রাঙ্কার অভিযোগ কেজরিওয়ালের মাধ্যমে আরও ব্যাপক সাড়া পায়। তবে হামলাকারীদের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে এখানে যে বক্তব্য এসেছে, সেটি কেজরিওয়ালের অভিযোগ; তাকে স্বাধীন তদন্তের সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
এই সমর্থন একটি ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। ১৮ আগস্ট সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে ডানপন্থী সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্টগুলি প্রশ্ন তুললে তাঁর সমর্থনে ভিডিও পুনঃপ্রচার করেন কেজরিওয়াল। তার আগের দিন রাজস্থান সরকার সরকারি স্কুলে বহিরাগতদের প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করায় তাঁর বক্তব্য ছিল, প্রবেশ আটকানোর পরিবর্তে স্কুলগুলির অবস্থার উন্নতি করা উচিত।
সিজেপির আন্দোলনের প্রথম পর্বেও কেজরিওয়াল অনলাইনে সমর্থন জানিয়ে মানুষকে যন্তর মন্তরের প্রতিবাদে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। জুলাইয়ে অন্য নেতাদের সঙ্গে তিনি আন্দোলনস্থলেও যান। তথ্য অনুযায়ী, দীপকে এবং রাঙ্কা অতীতে আপের হয়ে কাজ করেছেন। সিজেপির আরেক সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাসের সঙ্গেও কেজরিওয়ালের ঘনিষ্ঠতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে বর্তমান সমর্থনের পাশাপাশি পুরনো যোগাযোগের বিষয়টিও সামনে এসেছে।
আপের দিল্লি সভাপতি সৌরভ ভরদ্বাজও সিজেপির পক্ষে একাধিক পোস্ট করেছেন। ২১ জুলাই তিনি দাবি করেন, যন্তর মন্তর ভরে যাওয়ায় কনট প্লেসে পনেরো হাজারের বেশি তরুণ জমায়েত হয়েছেন। আপের মুখপাত্র পরিচয়ে আগে লেখালেখি করা অক্ষয় মারাঠেও নিয়মিত সিজেপির প্রচার ও দীপকের কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেছেন। স্কুলের সমস্যা তুলে ধরার পরে প্রশাসনের তৎপরতাকে তিনি গণআন্দোলনের প্রভাব হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।
এই ঘটনাগুলি থেকে বোঝা যায়, সমর্থন শুধু সংহতি জানানোর বিবৃতিতে আটকে নেই; আন্দোলনের বক্তব্য ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও আপের পরিচিত মুখগুলি ভূমিকা নিচ্ছেন। রাজনৈতিকভাবে এর তাৎপর্য হল, একটি নতুন সংগঠনের অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত নেতার মাধ্যমে বৃহত্তর শ্রোতৃমণ্ডলীর কাছে পৌঁছতে পারে। রাজস্থানের ঘটনায় কেজরিওয়ালের পোস্টের বাড়তি সাড়া সেই সম্ভাবনাই দেখায়। তবে বেশি লাইক কিংবা পুনঃপ্রচার জনসমর্থনের পূর্ণাঙ্গ পরিমাপ নয়; সেগুলি মূলত অনলাইন প্রতিক্রিয়ার পরিচায়ক।
একইভাবে, নেতাদের পুরনো যোগাযোগ এবং প্রকাশ্য সমর্থন থেকে দুই সংগঠনের সম্পর্ক সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেলেও সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ বা অর্থায়নের সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না। তার জন্য আলাদা প্রমাণ প্রয়োজন। আপের সমর্থনের বিনিময়ে সিজেপি কোনও রাজনৈতিক শর্ত মেনে চলছে কি না, উদ্ধৃত তথ্য তা প্রতিষ্ঠা করে না। আপাতত যে ছবিটি স্পষ্ট, তা হল—সিজেপির সংকট, প্রচার এবং আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে কেজরিওয়াল ও তাঁর রাজনৈতিক পরিসরের ধারাবাহিক উপস্থিতি। সমর্থনের এই ধরনই সম্পর্কটিকে আলাদা গুরুত্ব দিয়েছে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



