খবর

কলকাতায় বিশ্ব জ্বালানি সম্মেলন জানুয়ারিতে, হলদিয়ায় আইওসিকে জমির আশ্বাস শুভেন্দুর

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • নতুন বিনিয়োগ, শিল্পের সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থানের প্রত্যাশা নিয়ে কলকাতায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সম্মেলনের আয়োজন হচ্ছে।
  • ২০২৭ সালের ২৮ থেকে ৩১ জানুয়ারি নিউ টাউনের কনভেনশন সেন্টারে বসবে ‘ইন্ডিয়া এনার্জি উইক’-এর পঞ্চম আসর।
  • সোমবার কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী হরদীপ সিংহ পুরী এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যৌথভাবে আয়োজক শহরের নাম ঘোষণা করেন।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

নতুন বিনিয়োগ, শিল্পের সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থানের প্রত্যাশা নিয়ে কলকাতায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সম্মেলনের আয়োজন হচ্ছে। ২০২৭ সালের ২৮ থেকে ৩১ জানুয়ারি নিউ টাউনের কনভেনশন সেন্টারে বসবে ‘ইন্ডিয়া এনার্জি উইক’-এর পঞ্চম আসর। পূর্ব ভারতে এই প্রথম অনুষ্ঠিত হবে সম্মেলনটি। সোমবার কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী হরদীপ সিংহ পুরী এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যৌথভাবে আয়োজক শহরের নাম ঘোষণা করেন।

সম্মেলনের প্রস্তুতি ঘোষণার মঞ্চেই হলদিয়ায় ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনের ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য জমির ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু জানান, নতুন প্রকল্পের জন্য সংস্থার প্রায় ১৭৫ একর জমি প্রয়োজন। হলদিয়া উন্নয়ন পর্ষদের মাধ্যমে ৮৫ একর জমির ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাকি জমির বিষয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। জমি বণ্টনে আইওসিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।

আইওসির চেয়ারম্যান অরবিন্দর সিংহ সাহনি জানিয়েছেন, হলদিয়ায় একটি রাসায়নিক শিল্পের অনুসারী বা ডাউনস্ট্রিম প্রকল্প গড়ার সম্ভাবনা বিবেচনা করছে সংস্থা। নির্দিষ্ট সময়ে প্রস্তাবটি পরিচালন পর্ষদের সামনে পেশ করা হবে। তবে সম্ভাব্য বিনিয়োগের অঙ্ক ঘোষণা করেননি তিনি। ফলে জমির আশ্বাস মিললেও প্রকল্পটিকে এখনই চূড়ান্ত অনুমোদিত বিনিয়োগ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। হলদিয়ায় ইতিমধ্যেই আইওসির তেল শোধনাগার রয়েছে।

শুভেন্দুর বক্তব্য, আন্তর্জাতিক এই আয়োজন সফল হলে রাজ্যে নতুন পুঁজি আসবে, চালু শিল্পপ্রকল্পগুলির সম্প্রসারণ ঘটবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের মতে, কলকাতায় সম্মেলন হওয়ায় পূর্ব ভারতের শিল্পসংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলি বিদেশি অংশীদারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ পাবে। জ্বালানি ক্ষেত্রের আন্তর্জাতিক আলোচনাতেও অঞ্চলের অংশগ্রহণ বাড়বে। সেই সম্ভাবনাকে সামনে রেখেই সম্মেলনকে বিনিয়োগ আকর্ষণের মঞ্চ হিসেবে তুলে ধরছে সরকার।

পুরী জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল ও গ্যাস সংস্থাগুলির প্রায় ১৭,৬০০ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ চলছে। আরও প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকার প্রকল্প পরিকল্পনার পর্যায়ে রয়েছে। বিনিয়োগের বড় অংশ যাচ্ছে শহরাঞ্চলে গ্যাস বণ্টনের পরিকাঠামোয়। হলদিয়ায় আইওসির সম্ভাব্য নতুন প্রকল্প এই বিনিয়োগের অতিরিক্ত হবে। নতুন রাজ্য সরকারের আমলে কাজের গতি বেড়েছে বলেও দাবি করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, কলকাতার সম্মেলনে জ্বালানি ক্ষেত্রের ৭৫ হাজারের বেশি পেশাদার এবং ৭০০-র বেশি আন্তর্জাতিক প্রদর্শক অংশ নেবেন। বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারক, শিল্পকর্তা, প্রযুক্তি উদ্ভাবক ও বিনিয়োগকারীদের একত্র করার পরিকল্পনা রয়েছে। আলোচ্য বিষয়গুলির মধ্যে থাকবে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস, শোধনাগার, পেট্রোরসায়ন, হাইড্রোজেন ও জৈব জ্বালানি। গুরুত্ব পাবে ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারও।

এবারের সম্মেলনের মূল ভাবনা উদ্ভাবনের প্রসার, জ্বালানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতের পথ নির্মাণ। আয়োজকদের বক্তব্য, ভারতের জ্বালানির চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। সেই চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি জ্বালানিকে সাশ্রয়ী রাখা এবং পরিচ্ছন্ন শক্তির দিকে অগ্রসর হওয়াও জরুরি। এই তিনটি লক্ষ্যকে একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যেতে প্রয়োজন প্রযুক্তি, অর্থায়ন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা। প্রদর্শনী এবং আলোচনাসভায় সেই সম্ভাবনাগুলিই তুলে ধরা হবে।

২০২৩ সালে বেঙ্গালুরুতে শুরু হয়েছিল ইন্ডিয়া এনার্জি উইক। চলতি বছরের চতুর্থ আসর বসেছিল গোয়ায়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে ১২০টির বেশি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছিলেন। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের পৃষ্ঠপোষকতায় আগামী আয়োজনের দায়িত্বে রয়েছে ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান পেট্রোলিয়াম ইন্ডাস্ট্রি। সম্মেলন পরিচালনার দায়িত্বে ইনফর্মা মার্কেটস। কলকাতার আয়োজনকে আগের আসরের চেয়েও বড় করে তোলার আশা প্রকাশ করেছেন পুরী।

তবে সরকারের বিনিয়োগ ও চাকরির প্রত্যাশার বাস্তব রূপ নির্ভর করবে পরবর্তী সিদ্ধান্তগুলির উপর। হলদিয়ার ক্ষেত্রে জমি প্রাপ্তি এবং আইওসির পরিচালন পর্ষদের বিবেচনা এখনও গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সম্মেলন ব্যবসায়িক যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করবে; সেই যোগাযোগ থেকে কতগুলি প্রকল্প বাস্তবে এগোয়, কত পুঁজি আসে এবং কত কর্মসংস্থান হয়, সেখানেই শেষ পর্যন্ত এই আয়োজনের সাফল্যের পরিমাপ হবে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles