International

গালাগালিই এখন ‘জনতার ভাষা’

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • জন এফ কেনেডির হত্যাকাণ্ড থেকে ষাটের দশকের কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিক অধিকার আন্দোলন—শেরিল জনসনের রাজনৈতিক স্মৃতি জুড়ে রয়েছে আমেরিকার ইতিহাসের বহু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
  • তবে সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি তাঁকে পীড়া দেয়, তা হল গালাগালি।
  • পিটসবার্গ এলাকার এই অবসরপ্রাপ্ত সমাজকর্মীর কথায়, “রাজনীতিতে এত গালাগালি আগে কখনও শুনিনি।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

জন এফ কেনেডির হত্যাকাণ্ড থেকে ষাটের দশকের কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিক অধিকার আন্দোলন—শেরিল জনসনের রাজনৈতিক স্মৃতি জুড়ে রয়েছে আমেরিকার ইতিহাসের বহু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। আজকের রাজনীতিকদের নিয়ে তাঁর আপত্তির শেষ নেই। তবে সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি তাঁকে পীড়া দেয়, তা হল গালাগালি।

পিটসবার্গ এলাকার এই অবসরপ্রাপ্ত সমাজকর্মীর কথায়, “রাজনীতিতে এত গালাগালি আগে কখনও শুনিনি। কথার বিরাট শক্তি আছে। এই দেশের আগের ৪৫ জন প্রেসিডেন্ট এমন জঘন্য ভাষা ব্যবহার করেননি।”

তাঁর প্রশ্ন, “শিক্ষক, সংস্থার কর্তা, নার্স, চিকিৎসক কিংবা দন্তচিকিৎসকেরা কি কর্মক্ষেত্রে এভাবে কথা বলেন? এটা গ্রহণযোগ্য নয়। এ স্রেফ শ্রদ্ধাবোধ ও মর্যাদার অবক্ষয়।”

কিন্তু গত এক দশকে জনসমক্ষে কোন ভাষা ‘গ্রহণযোগ্য’, তার সংজ্ঞাই যেন বদলে গেছে। সেই পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

প্রথম দফায় প্রেসিডেন্ট থাকার সময় থেকেই জনপরিসরের ভাষাকে আরও রুক্ষ করে তোলার অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, একবার তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, আমেরিকা কেন “শিটহোল কান্ট্রিজ”—অর্থাৎ কথ্য ও অশালীন ভাষায় ‘বিষ্ঠার গর্তের মতো দেশ’—থেকে অভিবাসীদের ঢুকতে দিচ্ছে।

দ্বিতীয় দফায় সেই সংযমের অবশিষ্টটুকুও যেন সরে গেছে।

২০২৫ সালের জুনে, ইজরায়েল ও ইরানের সংঘাত নিয়ে সাংবাদিকদের সামনে ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে হোয়াইট হাউসের লনে প্রকাশ্যেই অশ্লীল শব্দ ব্যবহার করেন ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্যের কেন্দ্রে ছিল “ফাক” শব্দটি।

ঘটনাটি যে নিছক মুখ ফসকে বেরিয়ে যাওয়া কথা ছিল না, তার ইঙ্গিত মিলেছিল পরের ঘটনাগুলিতেও। একই বছরের অক্টোবরে ভেনেজুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প ফের অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করেন। পরে কয়েক মাসের মধ্যেই মার্কিন বিশেষ বাহিনী মাদুরোকে আটক করে; তিনি নিউ ইয়র্কে বন্দি হয়ে বিচারের অপেক্ষায় রয়েছেন।

সাম্প্রতিক সমাজমাধ্যমের পোস্টগুলিতেও ট্রাম্পের ভাষা আরও রুক্ষ হয়েছে। ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের সময় হরমুজ প্রণালী নিয়ে চাপ বাড়াতে গিয়ে ট্রুথ সোশ্যাল-এ তিনি অশ্লীল গালাগালি ব্যবহার করেন। অর্থাৎ, যে ভাষা একসময় রাজনীতিকের মুখে ‘বেফাঁস মন্তব্য’ বলে ধরা হত, সেটিই এখন রাজনৈতিক বার্তার অংশ হয়ে উঠছে।

ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি ব্লুমিংটনের ইংরেজি ভাষার অধ্যাপক মাইকেল অ্যাডামস, যিনি সমাজে গালাগালির ভূমিকা নিয়ে ইন প্রেইজ অব প্রোফ্যানিটি বইটি লিখেছেন, মনে করেন এর পিছনে একাধিক কারণ রয়েছে।

তাঁর মতে, কিছুটা এটি ট্রাম্পের জোরালো কূটনৈতিক ভাবমূর্তির অংশ। কিছুটা আবার ইচ্ছাকৃত অনিশ্চয়তা তৈরির কৌশল—প্রেসিডেন্ট কী করবেন, তা যেন আগে থেকে আঁচ করা না যায়। আর তার সঙ্গে রয়েছে এমন একটি মনোভাব, যেখানে তিনি দেখাতে চান যে কোনও কিছুরই তোয়াক্কা করেন না।

সৌজন্যের রাজনীতি গেল কোথায়?

অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করা প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট অবশ্যই ট্রাম্প নন। লিন্ডন জনসন এবং রিচার্ড নিক্সনও স্থূল কথ্যভাষার ব্যবহারের জন্য পরিচিত ছিলেন। তবে তাঁদের ক্ষেত্রে সেই ভাষা মূলত ব্যক্তিগত পরিসরেই সীমাবদ্ধ ছিল। প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়ার পর তাঁদের কথোপকথনের টেপ প্রকাশ্যে এলে তবেই মানুষ সেই ভাষা শুনতে পান।

নিক্সনের ক্ষেত্রে ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির সময় তাঁর গালাগালি বিশেষ ভাবে আলোচনায় আসে। হোয়াইট হাউস তাঁর রেকর্ড করা কথোপকথনের প্রতিলিপি প্রকাশের সময় বহু জায়গায় অশ্লীল শব্দ বাদ দিয়েছিল। সেখানে বারবার লেখা হয়েছিল—“অশ্লীল শব্দ বাদ দেওয়া হয়েছে।”

ট্রাম্পের ক্ষেত্রে ছবিটা একেবারে আলাদা।

২০০০ সালের সেপ্টেম্বরে জর্জ ডব্লিউ বুশের একটি ঘটনা আজকের পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করলে পার্থক্যটি স্পষ্ট হয়। প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী বুশের একটি চালু মাইক্রোফোনে ধরা পড়ে নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক সাংবাদিককে “মেজর-লিগ অ্যাসহোল” বলার কথা। মন্তব্যটি প্রকাশ্যে আসার পর তিনি দুঃখপ্রকাশ করেছিলেন।

কারণ বুশ তখন প্রচারে ‘রাজনীতিতে সৌজন্য’ ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছিলেন।

আজকের রাজনীতিতে সেই সমীকরণ অনেকটাই উল্টো। যে ভাষাকে একসময় অসতর্ক মুহূর্তের বেফাঁস মন্তব্য বলা হত, সেটিই এখন অনেক রাজনীতিক ভোটারদের কাছে পৌঁছনোর কৌশল হিসেবে ব্যবহার করছেন।

ট্রাম্প সেই দরজা খুলে দিয়েছেন—এমন ব্যাখ্যা যেমন রয়েছে, তেমনই তাঁর পর রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—দুই দলের রাজনীতিকদেরই একই পথে হাঁটার উদাহরণ দেখা যাচ্ছে।

ডাবলিনের ট্রিনিটি কলেজের মার্কিন রাজনীতির অধ্যাপক জোসেফ ফিলিপসের মতে, এর সঙ্গে রাজনীতিকদের প্রতি মানুষের আস্থা কমে যাওয়ার সম্পর্ক রয়েছে।

তাঁর ব্যাখ্যা, রাজনীতিকদের এখন এমন একটি ধারণার সঙ্গে লড়তে হচ্ছে যে তাঁরা সাধারণ মানুষের থেকে বিচ্ছিন্ন, নীতিহীন এবং আলাদা এক শ্রেণির মানুষ। সেই দূরত্ব ঘোচানোর সহজ কৌশল হল সাধারণ মানুষের ভাষায় কথা বলা—যার মধ্যে গালাগালিও পড়ে।

সেই প্রবণতার উদাহরণ জেডি ভ্যান্সও। মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট বক্তৃতা ও সমাজমাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং সমালোচকদের আক্রমণ করতে প্রায়ই “শিট” শব্দটি ব্যবহার করেছেন।

গত বছর থ্যাঙ্কসগিভিং উপলক্ষে কেন্টাকির একটি সামরিক ঘাঁটিতে বক্তৃতার সময়ও সেনাদের উদ্দেশে এমন একটি মন্তব্য করেন তিনি, যার মধ্যে ছিল “ফুল অব শিট” শব্দবন্ধ। পরে সেই মন্তব্য নিয়ে সমালোচনা হয়।

প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথও সামরিক বাহিনীর পুরনো কিছু রীতিনীতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে একাধিকবার মলসংক্রান্ত অশ্লীল শব্দ ব্যবহার করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে ভার্জিনিয়ার কোয়ান্টিকোর একটি মেরিন ঘাঁটিতে জেনারেলদের সমাবেশে তাঁর বক্তব্যেও ছিল “শিট” শব্দটি।

ডেমোক্র্যাটদের মধ্যেও এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

জানুয়ারিতে আইস-এর এক এজেন্ট তিন সন্তানের মা রেনে নিকোল গুডকে তাঁর গাড়ির মধ্যে গুলি করে হত্যা করেন। ঘটনার পরে মিনিয়াপোলিসের মেয়র জেকব ফ্রে আইস এজেন্টদের শহর ছেড়ে যেতে বলেন। তাঁর বক্তব্যে ছিল “গেট দ্য ফাক আউট”—অর্থাৎ, অত্যন্ত অশ্লীল ভঙ্গিতে শহর ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ।

এই সপ্তাহের গোড়ায় ইলিনয়ের ডেমোক্র্যাট সেনেটর ট্যামি ডাকওয়ার্থও ওয়াশিংটনের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে বক্তৃতা দিতে গিয়ে রিপাবলিকানদের নীতির সমালোচনায় অশ্লীল শব্দ ব্যবহার করেন।

অর্থাৎ, গালাগালির ভাষা এখন আর কোনও একটি দলের একচেটিয়া সম্পত্তি নয়।

গালাগালি কি ভোটের ভাষা?

দীর্ঘ মেয়াদে এই প্রবণতা রাজনীতির প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা আরও কমাতে পারে। কিন্তু নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা রাজনীতিকদের কাছে তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক লাভটাই হয়তো বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ফিলিপসের মতে, একজন রাজনীতিকের ব্যক্তিগত লক্ষ্য সাধারণত গোটা রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ফিরিয়ে আনা নয়; বরং নিজে নির্বাচিত হওয়া বা পুনর্নির্বাচিত হওয়া। সেই লক্ষ্য পূরণে বৃহত্তর প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিকে বলি দেওয়ার ঘটনা রাজনীতিতে নতুন নয়।

অ্যাডামসের ব্যাখ্যায়, রুক্ষ ভাষা ব্যবহার করে রাজনীতিকেরা এক ধরনের “প্রচ্ছন্ন মর্যাদা” অর্জন করতে চাইছেন।

তাঁর মতে, গালাগালি করার মধ্যে ‘কাউকে পরোয়া করি না’ ধরনের একটি ভাবমূর্তি তৈরি হয়। আর সাধারণ মানুষ নিজেরাও যে ভাষা ব্যবহার করেন, রাজনীতিক সেই ভাষায় কথা বললে তাঁর সঙ্গে ভোটারের দূরত্ব কমে বলে মনে হতে পারে।

একসময় মার্কিন নির্বাচনী প্রচারে প্রশ্ন উঠত—“আপনি কি এই প্রার্থীর সঙ্গে বসে বিয়ার খেতে চাইবেন?” উৎকৃষ্ট ওয়াইন বা বহু বছরের পুরনো সিঙ্গল মল্টের বদলে সাধারণ মানুষের পানীয়ের উদাহরণ টেনে প্রার্থীর ‘আপনজন’ ভাব তুলে ধরাই ছিল উদ্দেশ্য।

অ্যাডামসের মতে, গালাগালিও এখন অনেকটা সেই একই বাগ্‌কৌশলের অংশ।

ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, সান দিয়েগোর জ্ঞানবিজ্ঞানের অধ্যাপক বেঞ্জামিন বার্গেনের মতে, বর্তমানের তীব্র রাজনৈতিক মেরুকরণও এই পরিবর্তনের পিছনে গুরুত্বপূর্ণ। হোয়াট দ্য এফ: হোয়াট সোয়্যারিং রিভিলস অ্যাবাউট আওয়ার ল্যাঙ্গুয়েজ, আওয়ার ব্রেনস, অ্যান্ড আওয়ারসেলভস বইটির লেখক তিনি।

বার্গেনের আশঙ্কা, ভাষার এই পরিবর্তন আরও এগোতে পারে। একসময় যে শব্দগুলি প্রেসিডেন্টের শপথগ্রহণের ভাষণ, রাষ্ট্রপুঞ্জে দেওয়া বক্তৃতা কিংবা কংগ্রেসে ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণে অকল্পনীয় ছিল, সেগুলিও হয়তো একদিন রাজনৈতিক বক্তৃতার স্বাভাবিক অংশ হয়ে উঠতে পারে।

তাঁর কথায়, ভাষা ব্যবহারের রীতিই বদলে যাচ্ছে।

তবে এই পরিবর্তন যে চিরস্থায়ী হবে, এমনটাও মনে করেন না বার্গেন। তাঁর মতে, এক প্রজন্মের রাজনীতিকেরা যদি লাগাতার গালাগালি করেন, পরের প্রজন্ম হয়তো তার সম্পূর্ণ বিপরীত পথও বেছে নিতে পারে।

আর আমেরিকার এই প্রবণতার সঙ্গে ব্রিটেন ও আয়ারল্যান্ডের পার্থক্যও চোখে পড়ছে। তিন দেশেই রাজনীতির প্রতি মানুষের আস্থা কমেছে বলে ফিলিপসের পর্যবেক্ষণ। তবে আমেরিকায় রাজনীতিকদের ব্যক্তিগত পরিচিতি বা ‘ব্র্যান্ড’ তৈরির চাপ বেশি।

ব্রিটেন ও আয়ারল্যান্ডে রাজনীতিকদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ তুলনামূলক ভাবে দলের সঙ্গে বেশি জড়িত। ফলে প্রচলিত রাজনৈতিক আচরণের সীমা ভেঙে ব্যক্তিগত পরিচিতি তৈরির তাগিদও সেখানে তুলনামূলক কম।

ফলে প্রশ্নটা শুধু ট্রাম্প কতটা গালাগালি করছেন, তা নয়। আসল বদলটি হয়তো আরও গভীরে—রাজনীতিতে ‘সাধারণ মানুষের মতো কথা বলা’ বলতে এখন ঠিক কী বোঝায়, আমেরিকান রাজনীতিই যেন তার নতুন সংজ্ঞা লিখছে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles